menu

ময়মনসিংহে যুবলীগ নেতা রাসেলকে কুপিয়ে হত্যা

সংবাদ :
  • শরীফুজ্জামান টিটু, ময়মনসিংহ
  • ঢাকা , বুধবার, ১৫ মে ২০১৯

অভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দলের জেরে ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগ নেতা ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রেজাউল করিম রাসেল ওরফে রাসেলকে (৩৪) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল মধ্যরাত ২টার দিকে নগরীর মৃত্যুঞ্জয় স্কুল রোড মহল্লায় ডিফেন্স পার্টির কার্যালয়ে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। তার পিঠে, গালে ও কপালের একাধিক স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিহত রাসেল শহরতলীর শম্ভুগঞ্জ হরিপুর এলাকার জালাল উদ্দিন ওরফে জালাল ডিলারের ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে শহরের আমলাপাড়া এলাকার একটি বাসায় ভাড়া থাকতো। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে এ হত্যাকা- ঘটেছে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে।

নিহত রাসেলের বড় ভাই আনোয়ার হোসেন লিমন ও বড় বোন জেসমিন আক্তার জানান, ‘গত এক বছর ধরে বিভিন্ন সময় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন আরিফের বাহিনী রাসেলের ওপর হামলা করে আহত করেছে। রাসেলের আড়ি ঘর ভাঙচুর করেছে। গত রোজার মাসে তার ওপর হামলা করে একটি আঙ্গুল কেটে নিয়ে যায়। তখন থেকে তাকে হত্যার হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে। এরপর বিষয়টি সমাধানের জন্য একাধিকবার আরিফের সঙ্গে বসার আহ্বান জানিয়েও কোন সমঝোতা হয়নি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার বড় বোন নিশ্চিত করে বলেন, আরিফের নেতৃত্বেই আমার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আরিফ ছাড়া আমার ভাইকে কেউ মারতে পারে না, আমার ভাইয়ের আর কোন শত্রু নাই।’ স্বজনরা এ হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দাবি করেন। এ ব্যাপারে রাসেলের চাচা সিদ্দিকুর রহমান মাস্টার জানান, রাসেল রাজনীতি করতো। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরেই তাকে এভাবেই হত্যা করা হয়েছে। তিনি হত্যাকান্ডে জড়িতদের ফাঁসি দাবি করেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল আমিন জানান, রেজাউল করিম রাসেল ওরফে রাসেলকে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে শহরের মৃত্যুঞ্জয় স্কুল রোডের ডিফেন্স পার্টি অফিসে কুপিয়ে-ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রাখে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য (মমেক) হাসপাতাল মর্গে নিয়ে যায়। তিনি জানান, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। শীঘ্রই খুনের মোটিভ জানা যাবে ও খুনিরা ধরা পড়বে।

স্থানীয়রা জানায়, হত্যার পূর্বে সে বরাবরের মতো তার বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিল। গভীর রাতে ওই ডিফেন্স পার্টি অফিসে চিৎকারের শব্দ শুনেন তারা। এদিকে সকালে ডিফেন্স পার্টি অফিসে রক্তের ছোপ-ছোপ দাগ এবং অফিসের চেয়ার-টেবিলসহ আসবাবপত্র তছরূপ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

কোতোয়ালি থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম জানান, শহরের মৃত্যুঞ্জয় স্কুল রোডের ডিফেন্স পার্টি অফিসের সামনে রাসেলকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জানান, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরেই এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, হত্যাকারী যেই হোক আমরা নিরপেক্ষভাবে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

জেলা যুবলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম জানান, জেলা যুবলীগ সদস্য রেজাউল করিম রাসেল খুব ভালো ছেলে ছিল। তিনি হত্যাকান্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ ধরনের খুনের রাজনীতি বন্ধ হওয়া উচিত। তিনি হত্যাকারী যেই হোক, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ময়মনসিংহে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দলের জেরে গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি একই এলাকার বন্ধুদের গুলিতে নিহত হয় জেলা ছাত্রলীগের আর এক সাবেক সহ-সভাপতি আশফাক আল রাফী শাওন। এ ঘটনায় শাওনের পিতা জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমএ কুদ্দুসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা খুনিদের বিচার দাবি করে আসলেও শাওনের আসল খুনিদের এখন পর্যন্ত শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। এবার আর এক সাবেক ছাত্র নেতা খুন হলো। এনিয়ে নগরবাসী ও ময়মনসিংহ রাজনৈতিক অঙ্গন আতঙ্কিত।