menu

বিটিআরসির গণশুনানি

মোবাইল ফোন অপারেটরদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০১৯

মোবাইল অপারেটরদের সেবা নিয়ে বিটিআরসির গণশুনানিতে নেটওয়ার্ক সমস্যা, ইন্টারনেটে ধীরগতি, প্যাকেজের নামে ‘প্রতারণা’, অতিরিক্ত টাকা কেটে নেয়া, রেডিয়েশন ও অহেতুক এসএমএসের পুরনো অভিযোগ ফের তুলে ধরেছেন গ্রাহকরা। গতকাল বিটিআরসিতে আয়োজিত গণশুনানিতে গ্রাহকদের অভিযোগের অধিকাংশই ছিল পুরনো অভিযোগ। আড়াই বছর আগে ২০১৬ সালে আয়োজিত গণশুনানিতে গ্রাহকদের যে অভিযোগ সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন, বিটিআরসি তার কোনটিই বাস্তবায়ন না হওয়ায় আবারও একই ধরনের অভিযোগ করলেন গ্রাহকরা। গতকাল রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে দ্বিতীয়বারের গণশুনানিতেও গ্রাহকদের আশ্বাসই দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তারা।

গ্রাহক রবিউল ইসলাম জানান, তিনি মোবাইল ফোনে ভ্যালুঅ্যাডেড সার্ভিস নিয়েছিলেন তিনবার। তার ব্যালান্স থেকে টাকা কেটে নেয়া হয়েছে ৭ বার। এ অভিযোগ করার পরও তিনি টাকা ফেরত পাননি। ইন্টারনেট প্যাকেজ কিনতে না পারার বিষয়ে তিনি ২৪ এপ্রিল অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোন অপারেটরের কাছে। ২৮ মে পর্যন্ত নিয়মিত যোগাযোগ রেখে গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে গিয়ে বিষয়টি সুরাহা হয়নি। তিনি সিম নিবন্ধন বাতিল করার হুমকি দিলে অপারেটর সমস্যাটি সমাধান করে। আতাউর রহমান নামে এক অভিযোগকারী বলেন, তার মা গ্রামে থাকেন। তার মায়ের ফোনটি ফিচার ফোন, স্মার্টফোন নয়। ফোনের ব্যালান্স থেকে ৪৮ টাকা কেটে নেয়ার কারণ জানতে চাইলে অপারেটর জানিয়েছে, ইন্টারনেটে গেম খেলার কারণে এ টাকা কাটা হয়েছে। আতাউর বলে তার মা কখনোই ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না। গেম খেলারও তো প্রশ্ন ওঠে না। তিনি আরও বলেন নতুন সিমের সঙ্গে ভ্যালুঅ্যাডেড সার্ভিস চালু করা থাকে। মোবাইল কোম্পানির অ্যাপ ব্যবহার করে সেটা চাইলেও বন্ধ করা যায় না। একজন গ্রাহক অভিযোগ করেন, মোহাম্মদপুরে তার বাসার চারতলার নিচে কোনো নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। বাসা থেকে বেরিয়ে ধানমন্ডিতে যাওয়ার সময় প্রায়ই তার কলড্রপ হয়। মো. আবদুস সালাম নামে একজন গ্রাহক অভিযোগ করেন, অযাচিত কল ও খুদেবার্তার কারণে তিনি বিরক্ত। মাফি ইসলাম নামের এক গ্রাহক অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালে অনলাইনে তিনি সিম রিপ্লেসমেন্টের অর্ডার দেয়ার পর ১৯০ টাকা মাশুল নেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত সেই সিম পাওয়া যায়নি। তিনি কল করে দেখেছেন সিমটি অন্য কেউ ব্যবহার করছেন। অথচ সেটি তার বায়োমেট্রিক নিবন্ধিত সিম। এ নিয়ে তিনি অপারেটর ও বিটিআরসির কাছে অভিযোগ করে প্রতিকার না পেয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে গেছেন। অধিদফতর বলেছে, রবির রিটের কারণে তারা এখন আর ব্যবস্থা নিতে পারছে না। তাহলে আমরা কোথায় যাব? উম্মে কুলসুম নামের একজন গ্রাহক বলেন, এক ওয়াইম্যাক্স অপারেটর তার সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু সংযোগে ৫০ হাজার টাকার মতো ব্যালান্স ছিল। এ নিয়ে বিটিআরসিতে অভিযোগ জানিয়েছিলেন, সুরাহা হয়নি। গ্রামে ইন্টারনেটের দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে একজন গ্রাহক বলেন, তিনি একজন কনটেন্ট ডেভেলপার। ফেনীর ছাগলনাইয়ায় গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তিনি ইন্টারনেট ব্যবহারে ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েন। সেখানে থ্রিজি তো দূরের কথা, টুজি নেটওয়ার্কও ঠিকভাবে পাওয়া যায় না। কিন্তু তার দুটি সিমে প্রায় ১২ গিগাবাইট ইন্টারনেট ছিল, যার মেয়াদ এর মধ্যে শেষ হয়ে যায়।

গণশুনানিতে উপস্থিত থেকে গ্রাহকরা মোট ১৭টি প্রশ্ন করেন। এ ছাড়া আমন্ত্রিত অতিথিদের কাছ থেকে ৩০-৩৫টি প্রশ্ন আসে। বিটিআরসি জানায়, সব প্রশ্ন ও অভিযোগের সুরাহা করে ১৫-২০ দিনের মধ্যে ওয়েবসাইটে দেয়া হবে।