menu

বন্যাকবলিত এলাকায়

মৃত্যু ১২৯ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত ১৩,৯৩০

সংবাদ :
  • বাকী বিল্লাহ
  • ঢাকা , শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২০
image

বাড়ি-ঘরে পানি, পরিবার পরিজন নিয়ে নৌকায়, আরেক নৌকায় রান্নার কাজ -সংবাদ

সারাদেশে ১৫০টি উপজেলার ৯৫৭টি ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ বন্যাকবলিত। দুর্গত এলাকায় পানিতে ডুবে যাওয়াসহ নানা কারণে গতকাল পর্যন্ত ১২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার মানুষ। আক্রান্তদের মধ্যে ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ নানা রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। মৃতুবরণকারীদের মধ্যে সর্প দংশন,পানিতে ডুবে মৃত্যু, আঘাতজনিতসহ নানা কারণে মারা গেছে। বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে আক্রান্তদের চিকিৎসায় আড়াই হাজারের ও বেশি মেডিকেল টিম কাজ করছে।

মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে জানা গেছে, লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন বন্যায় কবলিত। বন্যাকবলিত ইউনিয়নগুলোতে গতকাল পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যু ও ৪৫৫ জন আক্রান্ত। কুড়িগ্রামের ৯টি উপজেলার ৫৬টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত। ইউনিয়নের হাজার হাজার বানভাসি মানুষ নানা কষ্টে দিন কাটছে। সেখানে গতকাল পর্যন্ত ২০ জনের মৃত্যু ও ৪৪৫ জন আক্রান্ত হয়েছে।

গাইবান্ধার ৪৫টি ইউনিয়নে ৬১৫ জন আক্রান্ত। তার মধ্যে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নীলফামারী জেলার ৯টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত। ওইসব ইউনিয়নে বন্যাকবলিত এলাকায় নানাভাবে ১৫৯ জন আক্রান্ত হয়েছে। তারমধ্যে মারা গেছে ২ জন। রংপুরের ১৩টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত। তারমধ্যে আক্রান্ত ৯১ জন ও মৃত্যু ৩ জন। সুনামগঞ্জের ৮৮টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত। আক্রান্ত ২১৬ জন। মৃত্যু ২ জন। সিরাজগঞ্জে ৬৪টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত। আক্রান্ত ১ হাজার ৫৯ জন। মৃত্যু ১১ জন। বগুড়ায় ২৪টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত। আক্রান্ত ৫৭৭। মৃত্যু নেই। জামালপুরে ৫৯টি ইউনিয়ন বন্যায় কবলিত। সেখানে আক্রান্ত ৫৩১। মৃত্যু ২৯ জন। সিলেটে ২০টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত। আক্রান্ত ২২৯জন। মৃত্যু নেই। টাঙ্গাইলের ৮৯টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত। আক্রান্ত ১৮৪১ জন। মৃত্যু ১৮জন। রাজবাড়ির ১০টি ইউনিয়ন বন্যায় কবলিত। সেখানে আক্রান্ত ২২৭জন। মৃত্যু ১ জন। মানিকগঞ্জে ৬২টি ইউনিয়ন বন্যায় কবলিত। আক্রান্ত ৫৩৪ জন। মৃত্যু ১০জন। মাদারীপুরে ৪৫টি ইউনিয়ন বন্যায় কবলিত। সেখানে আক্রান্ত ৩,৯৯৭ জন। ফরিদপুরে ৩০টি ইউনিয়ন বন্যায় কবলিত। আক্রান্ত ৮৬৮টি। নেত্রকোনায় ৪২টি ইউনিয়ন বন্যায় আক্রান্ত। আক্রান্ত ১১৪৩ জন। মৃত্যু ৫ জন।

নওগাঁয় ১৭টি ইউনিয়ন বন্যায় কবলিত। আক্রান্ত ১২৪জন। মৃত্যু ২ জন। কিশোরগঞ্জে ১০টি ইউনিয়ন বন্যায় কবলিত। সেখানে আক্রান্ত ২২ জন। ঢাকা জেলার ২৩টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত। আক্রান্ত ২১৬জন। শরিয়তপুরে ৪৮টি ইউনিয়ন বন্যায় কবলিত। আক্রান্ত ৬৬ মৃত্যু ১ জন। মুন্সীগঞ্জের ৬৪টি ইউনিয়ন বন্যায় কবলিত। আক্রান্ত ২৭ জন। মৃত্যু ১ জন। এভাবে নাটোরের ১৭টি ইউনিয়ন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৬ জন, চাঁদপুরে ২১টি ইউনিয়ন, হবিগঞ্জে ৪৫টি ইউনিয়ন, ময়মনসিংহে ১৯টি ইউনিয়ন, রাজশাহীতে ১৯টি ইউনিয়ন ও গাজীপুরে ১০টি ইউনিয়ন বন্যায় কবলিত। এভাবে দেশের ৯৫৭টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত। এসব ইউনিয়নে ১৩ হাজার, ৯৩০ জন বন্যায় কবলিত। মারা গেছে ১২৯ জন।

মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমাজেন্সি কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. আয়শা আক্তার জানান, বন্যাকবলিত ইউনিয়নগুলোতে ২ হাজার ৬৩২টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। তারা ডায়রিয়া, চর্মরোগ, পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা সহযোগিতা করছেন। মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে সাপের কামড়ে ১৩ জন মারা গেছে। আক্রান্ত ৩৩ জন। ডায়রিয়া আক্রান্ত প্রায় ৬ হাজার মানুষ। চর্মরোগে আক্রান্ত আড়াই হাজার। মৃতুবরণকারীদের মধ্যে পানিতে ডুবে ১০২ জন মারা গেছেন। এভাবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে।