menu

করোনায় অনিয়ম ও দুর্নীতি

মুগদা হাসপাতাল ও হোটেল সুপার স্টারের নথিপত্র তলব দুদকে

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত বিলসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অনুসন্ধানে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনাকালীন খরচ ও অর্থ বরাদ্দের নথিপত্র তলব করে দুদক থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হোটেল সুপার স্টারের কাছে করোনাকালীন চিকিৎসক নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকা ও খাওয়ার বিল ভাউচারের নথিপত্র তলব করা হয়েছে। চিঠিতে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হোটেলে থাকা-খাওয়াসহ বিভিন্ন তথ্য ও রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র আগামী ৯ আগস্টের মধ্যে সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য গণমাধ্যমকে বলেন, গত ২ আগস্ট দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে দুদক পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী স্বাক্ষরিত পৃথক পৃথক চিঠিতে এসব তথ্য ও রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে। মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ও অধ্যক্ষ এবং অন্যদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটির সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে এসব তথ্য ও রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে। মুগদা হাসপাতালের কাছে চাওয়া তথ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স ও অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকা-খাওয়া, পরিবহন ও আনুষঙ্গিক ব্যয় সংক্রান্ত ‘কোয়ারেন্টিন এক্সপেন্স’ খাতে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট মুগদা জেনারেল হাসপাতালের অনুকূলে বরাদ্দ অর্থের বরাদ্দপত্র, কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স ও অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকা-খাওয়ার রেট সংক্রান্ত হোটেল সুপারসহ অন্য হোটেলের সঙ্গে পত্র, হোটেলের দাখিল করা কোটেশন, থাকা-খাওয়ার রেট সংক্রান্ত চুক্তিপত্রের কপি, হোটেল কর্তৃপক্ষ দাখিল করা বিল ও টাকার পরিমাণ, ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ এ সংক্রান্ত নথির নোটিশসহ যাবতীয় রেকর্ডপত্র। এছাড়া এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা সেবাদানকারী কতজন ডাক্তার, নার্স ও অন্য ব্যক্তি কোন হোটেলে কতদিন থেকেছেন এবং খাওয়া-দাওয়া করেছেন তাদের ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিস্তারিত তথ্যও চাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে হোটলে সুপার স্টারের কাছে যেসব তথ্য চাওয়া হয়েছে এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স ও অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকা-খাওয়ার রেট, এ সংক্রান্ত সম্পাদিত চুক্তিপত্র ও দাখিল করা বিলের কপি, গ্রাহকের কাছে ভাড়া দেয়ার ক্যাটাগরি ও তার বিবরণ এবং থাকা-খাওয়ার রেট ইত্যাদি।

সূত্র জানায়, করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর করোনার চিকিৎসায় নির্ধারিত হাসপাতালগুলোতে করোনা ইউনিটের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পৃথক আবাসনের ব্যবস্থা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবায় যেসব চিকিৎসক নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী থাকবেন তাদের জন্য হোটেলে থাকা ও খাওয়া, কোয়ারেন্টিনে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আশপাশে হোটেল ভাড়া নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এ বিষয়ে তাদের অর্থ বরাদ্ধ হয়। যে হাসপাতাল যে অর্থ বরাদ্ধ চেয়েছে তাদের সেই পরিমাণ অর্থ বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বশীলরা কম খরচ করে অতিরিক্ত খরচ দেখিয়েছেন। একাধিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পেয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। মুগদা মেডিকেল হাসপাতাল ছাড়াও আরও একাধিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে।