menu

মধুপুর বনে ফল ব্যবসায়ী হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন

তিন আসামি গ্রেফতার ও আদালতে স্বীকারোক্তি

সংবাদ :
  • বাকী বিল্লাহ
  • ঢাকা , বুধবার, ১৫ মে ২০১৯

আনারস ও পেঁপে বাগান দেখানোর কথা বলে ডেকে নিয়ে আবদুল কাদের নামে এক পাইকারি ফল ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত ১০ জানুয়ারি টাঙ্গাইলের মধুপুরের গভীর অরণ্যে এ নির্মম হত্যাকান্ড ঘটে। হত্যার পর আসামিরা লাশ গজারি বনে ফেলে পালিয়ে যায়। হত্যাকান্ডের ২ দিন পর স্থানীয় লোকজন লাশ দেখে পুলিশকে খবর দিলে গত ১২ জানুয়ারি বিকেলে লাশ উদ্ধার করে। পরিবারের সদস্যরা ব্যবসায়ীর ব্যবহৃত সিঙ্গার মোটর সাইকেল দেখে লাশ শনাক্ত করে। এ নিয়ে গত ১৩ জানুয়ারি মধুপুর মডেল থানায় আবদুল কাদেরের ছোট ভাই মোবারক হোসেন বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পলাতক আসামিদের ধরতে চলছে পুলিশের অভিযান। পুলিশের ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি অফিস ও মধুপুর থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. ফেরদৌস ইসলাম এ সব তথ্য জানিয়েছেন।

ঢাকা রেঞ্জ অফিস থেকে জানা গেছে, অজ্ঞাত আসামিরা মধুপুর গজারি বনের ভেতর এক ব্যক্তিকে গজারি গাছের সঙ্গে বেঁধে কুপিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করেছে। আগুনে লাশের মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে গেছে। এ নিয়ে মধুপুর থানায় একটি মামলা (নং ৬-তারিখ-১৩-১-২০১৯) দায়ের করা হয়। গভীর বনের হত্যার রহস্য উদঘাটন অসম্ভব ছিল। ক্লু-লেস এ হত্যাকান্ডের মামলার তদন্তকারী সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ ও মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আসামি ওসমান গনি নামে এ ফল বাগান ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী মতে, ঘটনায় জড়িত আসামি আবু তালেব ও সাইদুর রহমানকে গ্রেফতার করে। তারা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকা-ে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তারা ব্যবসায়িক ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ফল বাগান দেখানোর কথা বলে ডেকে নিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করে। ঘটনার পর অনুসন্ধান ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ফল ব্যবসায়ী হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামি ওসমান গণি, আবু তালেব ও সাইদুর রহমান নিহত আবদুল কাদেরকে (৪২) ব্যবসায়িক বিরোধের জের ধরে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মতে, গত ১০ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টার দিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ওসমান গনির পাকা আনারস ও পেঁপে বাগান দেখানোর কথা বলে তাকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর আশপাশে আরও ফলের বাগান দেখানো হয়। আবদুল কাদের বাগান দেখে ফিরে যাওয়ার সময় কাটাচুনা এলাকায় পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা ৩ থেকে ৪ আসামি হঠাৎ কাদেরের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাকে মোটরসাইকেল থেকে টেনে হিঁচড়ে গজারি বনের ভেতর নিয়ে হত্যা করে লাশ ফেলে রাখে।

হত্যার পর লাশ যাতে শনাক্ত করতে না পারে তার জন্য পুড়িয়ে ফেলা হয়।

আবদুল কাদের আনারস ও পেঁপের বাগান কিনে সেখান থেকে ফল বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করত। তার সঙ্গে পাশের বাড়ির কালাম একই ব্যবসা করত। তাদের ব্যবসা ও পারিবারিক বিরোধ ছিল। এ বিরোধের জের ধরে ফল ব্যবসায়ীকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ক্লু-লেস প্রত্যেকটি মামলা ডিআইজি অফিস থেকে মনিটরিং করা হয়। আর তদন্তকারীকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়। তাদের উৎসাহিত করার জন্য পুরস্কৃত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক ক্লু-লেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন হয়েছে।