menu

দুদকের গণশুনানি

ভূমি অফিসগুলো দুর্নীতির আখড়া

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , বুধবার, ১৬ মে ২০১৮

রাজধানীসহ সারাদেশে ভূমি অফিসে কর্তার ইচ্ছায় কর্ম হয়। রাজধানীর কোতোয়ালি তেজগাঁও ও গুলশান সার্কেলে ভূমি অফিসগুলোতে অর্থ ছাড়া কোন সেবা মিলে না। শুধু রাজধানীই নয় সারাদেশে ভূমি অফিস ঘুষ দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সহকারী কমিশনারের (ভূমি) অফিসে নামজারি, খাজনা দিতে গিয়েও মানুষকে ঘুষ দিতে হয়। ভূমি অফিসগুলোতে সেবার অবস্থা এবং বিভিন্ন অভিযোগের ওপর গণশুনানি করতে গিয়ে এমন তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। দুদক সরকারি অফিসগুলোতে সাধারণ মানুষের সেবার নামে হয়রনিসহ বিভিন্ন অভিযোগ জানতে ৯৪টি গণশুনানি করেছে। এসব গণশুনানির ফলে ভূমি অফিসে দালালদের দৌরাত্ম, ঘুষ, দুর্নীতি ও হয়রানির ভয়াবহ চিত্র ওঠে আসে। কিন্তু গণশুনানির পর সমাধানের আশ্বাস দেয়া হলেও কোন সমস্যার সমাধান হয় না। দুদক সূত্র জানায়, গতকাল রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে ঢাকা মহানগরের কোতোয়ালি, তেজগাঁও ও গুলশান সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসসমূহের কার্যক্রমের একটি ফলোআপ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গণশুনানিতে ১৩টি অভিযোগ উত্থাপিত হয়। সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনারগণ এ সকল অভিযোগ নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নিষ্পত্তির আশ^াস দেন। ২০১৫ সালেও একবার গণশুনানি হয়েছে ভূমি অফিসের ঘুষ, দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধে। কমিশন থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে তখন বলা হলেও কোন প্রতিকার হয়নি। এখনও ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষকে হয়রানি, ঘুষ ও দুর্নীতি অব্যাহত রয়েছে। প্রত্যেকটি ভূমি অফিস দালালদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। ভূমি অফিসে দালাল ছাড়া কেউ কোন কাজের জন্য যেতে পারেন না। সরাসরি কোন সাধারণ মানুষ ভূমি অফিসে সেবার জন্য গেলে কর্মচারী ও কর্মকর্তারা কথাই শুনেন না। বলে থাকেন কারও মাধ্যমে আসেন। তখন দালালদের মাধ্যমে টাকা দিয়ে সেবা নিতে হয়।

গতকাল দুদকের ৯৪তম গণশুনানিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ বলেন, নাগরিকদের দুর্নীতিমুক্ত এবং মানসম্মত সরকারি পরিসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা সৃষ্টির জন্য গণশুনানি একটি বিশেষ কৌশল। রাজধানী থেকে উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি অফিসে সেবা নিয়ে কমিশন ৯৪টি গণশুনানি করেছে। এ সকল গণশুনানিতে সাধারণ মানুষ ভূমি ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে বেশি অভিযোগ করছে। সাধারণ মানুষ মনে করে ভূমি রেজিস্ট্রেশন, ভূমির নামজারি এবং জরিপ প্রতিটি ক্ষেত্রেই অনিয়ম, দুর্নীতি এবং হয়রানি রয়েছে। তাই এটা নির্মূল করতে হলে সমন্বিত অভিগমনের কোন বিকল্প নেই। তিনি বলেন, এ সকল বিষয়ে শুধু মামলা-মকদ্দমা নয়, পাশাপাশি বিভিন্ন আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

দুদক কমিশনার প্রশ্ন রেখে বলেন, ভূমি অফিসের দালাল কারা? এরা কি বাইরে না ভিতরের? অফিস প্রধান হিসেবে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব নিজে দুর্নীতিমুক্ত থেকে নিজ অফিসকে দুর্নীতিমুক্ত রাখা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২০১৫ সালের গণশুনানিতে উত্থাপিত অভিযোগ আজও নিষ্পত্তি না হওয়ার মানে কি? এর কারণ হচ্ছে এ সকল অফিসের কার্যক্রম প্রাতিষ্ঠানিকরণ হয়নি। কর্তার ইচ্ছায় কর্ম হয়। কমিশনার সেবাগ্রহীতাদের উদ্দেশে বলেন, আপনার সরাসরি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে যাবেন, তারা যদি হয়রানি কিংবা অনৈতিক কোন কিছু দাবি করে, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে কমিশনের অভিযোগ কেন্দ্রের হটলাইন-১০৬-এ জানান। কমিশন এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কমিশন কারো পদ-পদবির ন্যূনতম গুরুত্ব দিবে না। বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পেলে কঠোর ব্যবস্থা নিবে।