menu

বেতের আঘাতে চোখ হারাল ছাত্রী, শিক্ষক বরখাস্ত

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯
image

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার যাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী হাবিবা আক্তারের চোখে বেত দিয়ে আঘাতের অভিযোগে শিক্ষক নিরঞ্জন সরকারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, অভিযুক্ত সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তিনি আরো বলেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি বিভাগীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে স্থায়ীভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে, হাবিবার চিকিৎসা তদারকির দায়িত্বে থাকা আগারগাঁওয়ের জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. সাইফুল্লাহ জানান, গত মঙ্গলবার রাতে অপারেশন করে শিশুটির চোখ থেকে লাঠির একটি টুকরো বের করা হয়েছে। আঘাতে তার বাম চোখটি পুরোপুরি আলো হারিয়েছে। এই চোখ দিয়ে আর দেখার সম্ভাবনা নেই। ওর চোখের মনিটি গলে গেছে। ধীরে ধীরে তা শুকিয়ে যাবে। ফলে আর কখনোই দেখতে পাবে না। তবে চোখের স্বাভাবিক সৌন্দর্যের জন্য কিছুদিন পর তার চোখে পাথর লাগানো যাবে বলে জানান তিনি।

হাবিবার মা রুবিনা জানান, অপারেশনের পর ডাক্তাররা জানিয়েছেন হাবিবার বাম চোখের আলো নেই। সে আর কোনোদিন বাম চোখ দিয়ে দেখতে পারবে না। এমনকি চোখ পরিবর্তন করলেও হবে না। আমার মেয়েটা বড় হয়ে পুলিশ অফিসার হতে চেয়েছিল বলে কেঁদে ওঠেন এই মা। এখন কী করবেন এই প্রশ্নে রুবিনা বলেন, আমার আর কিছু চাওয়ার নেই। মেয়ের চোখ চাই। ও অনেক ছোট, এখন হয়তো ও বুঝতে পারছে না। বড় হলে ওর কি হবে একটা মেয়ের চোখ না থাকলে তার জীবনটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। কাজেই আমার মেয়ের চোখ কীভাবে ভালো হবে সেটাই আমি জানতে চাই। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জানিয়ে রুবিনা বলেন, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হোক সেটাই চাই। তার স্বামী শাহীন তালুকদার দুবাইয়ে থাকেন জানিয়ে রুবিনা বলেন, ছেলে-মেয়ের ভালোর জন্য ওদের বাবা বিদেশে থেকে কষ্ট করছেন। কাজেই টাকা চাই না। চোখ চাই, চোখের আলো চাই। মেয়ে যাতে আমার দেখতে পারে। সেটাই চাই।

এর আগে গত মঙ্গলবার উপজেলার যাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিরঞ্জন সরকার একটি বেত ছুড়ে দিলে ছাত্রী হাবিবা আক্তারের চোখে পড়ে। এতে সে গুরুতর আহত হয়। তাকে প্রথমে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেখানকার স্কুলছাত্রী হাবিবার উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। বর্তমানে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।