menu

রমনা বটমূলে বর্ষবরণে বোমা হামলা

বিস্ফোরক দ্রব্য মামলার বিচার ১৮ বছরেও হয়নি

৮৪ সাক্ষীর ২৫ জনের স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষ

সংবাদ :
  • মাসুদ রানা
  • ঢাকা , রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০১৯

রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ১৮ বছর পূর্তি আজ। ২০০১ সালের ওই ঘটনায় ১০ জন নিহত ও ২০ জন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় দায়ের করা হয় দুটি মামলা। এর মধ্যে হত্যা মামলা নিম্ন আদালতে নিষ্পত্তি হলেও বিস্ফোরক আইনের মামলাটির বিচার শেষ হয়নি। এ মামলাটি ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।

দুটি মামলার মধ্যে বিচারিক আদালতে হত্যা মামলার রায় হয় ঘটনার প্রায় ১৩ বছর পর, ২০১৪ সালের ২৩ জুন। এতে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের শীর্ষ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ৮ জনের মৃত্যুদন্ড ও ৬ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দেন আদালত। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল হাইকোর্টে শুনানির জন্য কার্যতালিকায় রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট আদালতের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনিরুজ্জামান রুবেল জানান, ২০১৪ সালের বিচারিক আদালতের রায় ঘোষণার পরে হত্যা মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসে। আসামিদের পক্ষ থেকেও জেল আপিল হয়। তিনি আরও জানান, মামলাটি গত বৃহস্পতিবার কার্যতালিকার ২৪ নম্বর ছিল। আশা করছি, অচিরেই মামলাটির শুনানি শুরু হবে।

গুরুত্বপূর্ণ এ মামলায় ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলোÑ মুফতি আবদুল হান্নান, মাওলানা আকবর হোসেন, আরিফ হাসান সুমন, মাওলানা তাজউদ্দিন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বকর ওরফে মাওলানা হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মাওলানা আবদুল হাই ও মাওলানা শফিকুর রহমান। তাদের মধ্যে সিলেটে গ্রেনেড হামলার মামলায় মুফতি হান্নানের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে। এছাড়া মাওলানা আকবর হোসেন, আরিফ হাসান সুমন ও মাওলানা আবু বকর ওরফে মাওলানা হাফেজ সেলিম হাওলাদার কারাগারে আটক রয়েছেন। মামলার আসামি সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিনসহ চারজন এখনও পলাতক।

যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্তরা হলো- শাহাদাতউল্লাহ জুয়েল, মাওলানা সাব্বির, শেখ ফরিদ, মাওলানা আব্দুর রউফ, মাওলানা ইয়াহিয়া ও মাওলানা আবু তাহের।

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল বোমা হামলার পর নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট অমল চন্দ্র চন্দ ওই দিনই রমনা থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুইটি মামলা করেন। ২০০৮ সালের ৩০ নভেম্বর দুই মামলায় ১৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

জানা গেছে, বিস্ফোরক দ্রব্য মামলাটি ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। মামলাটি ২০০৯ সালে অভিযোগ গঠনের পর প্রথম ৭ জনের সাক্ষ্য নেয়া হলেও এরপর বিচার কার্যক্রম গতি হারায় সাক্ষী না আসায়। ২০১৫ সালের ২২ মার্চ থেকে সাক্ষীদের প্রতি সমনের পাশাপাশি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হচ্ছে। গত দুই বছরে মাত্র ২জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে এ মামলায়। এমামলার ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে।

গতকাল এই মামলার পিপি অ্যাডভোকেট মো, আবু আবদুল্লাহ ভুঞা জানান, মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ তাড়াতাড়ি করতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জোর চেষ্টা চলছে। বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন সাক্ষীদের প্রতি বারবার সমন ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে চলেছেন। কিন্তু সাক্ষীরা এর আগে হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দেয়ায় আবার কেন সাক্ষ্য দিতে হবে বুঝতে না পেরে আদালতে আসছে না।

এদিকে রমনা বটমূলে বোমা হামলার পর থেকে নববর্ষ বরণ অনুষ্ঠান নিয়ে প্রতিবছরই জনমনে এক ধরনের চাপা আতঙ্ক বিরাজ করে। তারপরও এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণে সাধারণ মানুষের আগ্রহ কমেনি।