menu

রংপুর আ’লীগ

বিএনপি-জামায়াত মাদক ব্যবসায়ী অনুপ্রবেশকারী বিভিন্ন পদ দখল করে রেখেছে

সংবাদ :
  • লিয়াকত আলী বাদল, রংপুর
  • ঢাকা , শনিবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৯

রংপুর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগে তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু বিভিন্ন পর্যায়ে জামায়াত বিএনপি যুদ্ধপরাধীদের ছেলেসহ মাদক ব্যবসায়ী ছিনতাইকারী চাঁদাবাজ আওয়ামী লীগে বিভিন্ন পদ দখল করে আছে তাদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি দলে ওয়ার্ড পর্যায় থেকে জেলা ও মহানগর পর্যায় পর্যন্ত শুদ্ধি অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

এদিকে চলমান দুর্র্নীতিবিরোধী অভিযানেব রংপুর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের অন্তত ১০ নেতা গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন জামায়াত বিএনপিকে সহায়তা করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে তাদের সম্পদের উৎসসহ সব অভিযোগ তদন্ত শেষের দিকে অচিরেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এদিকে কেন্দ্রীয়ভাবে ২২ জন অনুপ্রবেশকারীর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে এরা সবাই পীরগাছা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার। প্রকাশিত তালিকা অনুসন্ধান করে দেখা গেছে তারা বিএনপি ও জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত এবং বিভিন্ন পদে ছিলেন এখন তারা আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করে বিভিন্ন পদ দখল করে আছে। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের অভিযোগ উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের কয়েকজন মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে এদের বিভিন্ন পদে আসীন করিয়েছেন। এদিকে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয়ভাবে যে দেড় হাজার নেতা-কর্মীকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে ঘোষণা করেছে তাদের মধ্যে ২২ জন রংপুরের। মজার ব্যাপার ২২ জনেই পীরগাছা উপজেলার। এরা হলেন ছাওয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি আবু বক্কর সিদ্দিক এখন ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, পীরগাছা সদর ইউনিয়নের জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি এখন ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়াড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি, একই ইউনিয়নের জামায়াতের সাবেক সদস্য আয়েশা বেগম এখন ওই ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য, একই ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক সদস্য শফিকুল ইসলাম এখন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্পাদকীয় পদে আছেন। অপরদিকে পীরগাছা সদর ইউনিয়নের জামায়াতের সদস্য জুলেখা বেগম এখন ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য। এ ছাড়াও বিএনপির ছাওলা ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মোশরাফ হোসেন এখন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা একইভাবে ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি সমতুল্লা এখন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা। অপরদিকে ছাওয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুর রহিম, বিএনপি নেতা আবদার হোসেন, রফিকুল ইসলাম, আউয়াল, সোলেমান আলী, দুলাল মেম্বার কেরামত আলী, আবদুর রহিম মিয়া, আবদুল হাই, আবুল কালাম আজাদ, কল্পনা বেগম, আল আমিন, হারুন মিয়া রাজা মিয়া এরা সবাই ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি সাবেক নেতা এখন আওয়ামী লীগের নেতা হয়ে গেছেন।

অপরদিকে ২২ জন ছাড়াও পীরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনে আরো অর্ধশত নেতা যারা বিএনপি জামায়াতের ক্যাডার ছিলেন এবং যুদ্ধপরাধীদের সন্তান।

সরেজমিন অনুসন্ধান করে আরও দু’জনের নাম পাওয়া গেছে এরা হলেন পীরগাছা উপজেলার কৈকুড়ি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল লতিফের বাবা লুৎফর রহমান তালিকাভুক্ত রাজাকার ছিলেন অন্যদিকে ৭ নম্বর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পিন্টুর বাবা আবদুল বারী শান্তি কমিটির সভাপতি ছিলেন। কেন্দ্রীয়ভাবে রংপুরের যে ২২ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে সেখানে এ দু’জনের নাম নেই। এ ব্যাপারে পীরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিলনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন দলে কোন অনুপ্রবেশকারী থাকলে তাদের দল থেকে বের করে দেয়া হবে।

এদিকে পীরগাছা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা কর্মীরা তাদের উপজেলায় শুদ্ধি অভিযান চালানোর দাবি জানিয়ে রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ ও মানব বন্ধন করেছে। সেখানে বক্তব্য রাখেন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষ রাজু আহাম্মেদসহ অন্যরা। তারা অভিযোগ করেছে নিজেদের দল ভারী করার জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিলন চিহ্নিত বিএনপি জামায়াতের ক্যাডার ও নিজেদের স্বজনদের কাউন্সিলর বানিয়েছে। বাদ দেয়া হয়েছে ত্যাগী নেতা-কর্মীদের। এ ঘটনার সঙ্গে আরও ২ জন শীর্ষ নেতাও আছেন বলে তাদের অভিযোগ।

অপরদিকে তারাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগেরসহ সভাপতি রুহুল আমিন অভিযোগ করেন ৫১ বছর ধরে ছাত্রলীগ যুব লীগ তারপর আওয়ামী লীগ করছেন। এবার অতি সম্প্রতি উপজেলা কাউন্সিল হয়েছে। সেখানে সভাপতি ও সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হলেও তাদেরকেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কিন্তু জানা গেছে ওই কমিটিতে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ বিএনপি ও জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের কয়েকজন নেতাকে স্থান দেয়া হয়েছে। আর বাদ দেয়া দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ত্যাগী নেতাদের। তিনি এ ব্যাপারে দলের সাধারণ সম্পাদকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অপরদিকে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাসিমা জামান ববি অভিযোগ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল করে হবে জানি না এখনও আমাদের জানানো হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন মমিনপুর ও হরিদেবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগে বেশ কয়েকজন অনুপ্রবেশ কারী আছেন যারা কোন দিন আওয়ামী লীগ করেনি তাদের দলে পদ দেয়া হয়েছে। এ রকম আরও অনেক অনুপ্রবেশকারী আছেন বলে জানান তিনি।

অপরদিকে গঙ্গাচড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন তৃণমূল নেতা অভিযোগ করেন বিএনপি জামায়াতের লোকজনকে কাউন্সিলর বানিয়ে নেতা হবার বাসনা করছেন কয়েকজন নেতা। কিন্তু নেতা-কর্মীদের আপত্তির মুখে কাউন্সিল স্থগিত করা হলেও এখনও তাদের বাদ দেয়া হয়নি। একইভাবে মিঠাপুকুর কাউনিয়া বদরগঞ্জ উপজেলায় অনুপ্রবেশকারী অনেককে নেতা বানানো হয়েছে।

অপরদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি দিলশাদ হোসেন মুকুল অ্যাডভোকেট অভিযোগ করেন মহানগর আওয়ামী লীগে এখনও বেশ কয়েকজন অনুপ্রবেশকারী আছেন যারা আওয়ামী লীগ করেনি বিএনপি জামায়াত করেছেন তাদের চিহ্নিত করে দল থেকে বের করে দেবার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সার্বিক বিষয় জানতে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোতাহার হোসেন মওলার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দলে অনুপ্রবেশকারী যে হোক তাদের কোনভাবেই দলে ঠাঁই দেয়া হবে না তারা কোন পদ পাবে না।

অপরদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন বলেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ ও উপজেলা আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী আছেন বলে অভিযোগ করেছেন অনেকেই আমরা খোঁজ নিচ্ছি এদের কারও দলে রাখা হবে না এটা নিশ্চিয়তা দিতে পারি বলে জানান তিনি।