menu

বাঙালি ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই সবকিছু অর্জন করেছে : প্রধানমন্ত্রী

সংবাদ :
  • বাসস
  • ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২১
image

শহীদ দিবস উপলক্ষে গতকাল আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনায় ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এতে ভার্চুয়ালি অংশ নেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাঙালির ভাষা আন্দোলন কেবল ভাষার জন্যই আন্দোলন ছিল না বরং এ আন্দোলন ছিল সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষা আন্দোলন (ভিত্তিক) নয় এই ভাষা আন্দোলন আমাদের বাঙালি জাতি হিসেবে সার্বিক অর্জনের আন্দোলন। ’৭১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে শহীদ মিনারে জাতির পিতা প্রদত্ত ভাষণের উদ্ধৃতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সেটা আমাদের করে দিয়ে গেছেন, যেটা ধরে রেখে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বিকেলে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির ভাষণে এসব কথা বলেন।

তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভেনিউতে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘১৯৫২ সালের আন্দোলন কেবলমাত্র ভাষা আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এ আন্দোলন ছিল সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।’

তিনি বলেন, ’৫২ এ রক্ত দেয়ার পরই বাংলাভাষা রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পেয়েছিল তা কিন্তু নয়। যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারেও যেমন এই রাষ্ট্রভাষার কথা বলা হয়েছিল এবং ’৭০-এর নির্বাচনেও এই রাষ্ট্রভাষার কথা আসে। কারণ ’৫৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করে তখন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। তখন যে শাসনতন্ত্র করা হয় তাতে উর্দুর সঙ্গে বাংলাকেও রাষ্ট্রভাষা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭০ নির্বাচনের পর ’৭১-এ আমরা যখন মুক্তিযদ্ধে বিজয় অর্জন করি এবং জাতির পিতা আমাদের যে সংবিধান দেন সেখানে বাংলা ভাষাই ছিল রাষ্ট্রীয় ভাষা। সেই মর্যাদটাই আমরা পাই। তিনি বলেন, ’৫৬ সালে শহীদ মিনার তৈরি করা, ২১ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়া-এসব কিছু তখন আওয়ামী লীগই করে। ’৫২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি অনশনরত অসুস্থ বঙ্গবন্ধুকে জেল থেকে বের করে তার দাদা টুঙ্গিপাড়া নিয়ে গেলেও সুস্থ হয়ে ফিরেই পুনরায় ভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে আবারও আন্দোলন শুরু করেন। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা প্রদানের দাবি তখন জাতির পিতা তার বিভিন্ন ভাষণে করে গিয়েছেন। তিনি ভাষা আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস জানার জন্য পাকিস্তানি ইন্টেলিজেন্স ব্র্যাঞ্চের গোয়েন্দা রিপোর্ট নিয়ে প্রকাশিত ‘সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইন্টেলিজেন্স ব্র্যাঞ্চ অন ফাদার অব দি নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ সিরিজের বইগুলো পড়ে দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমি চাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এটা পড়বেন, তাছাড়া যারা গবেষণা করেন তাদের বলব মহামূল্যবান দলিল আপনারা এখানে পাবেন।’

দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী অনুষ্ঠানে প্রারম্ভিক বক্তৃতা করেন।

অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, শিক্ষা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাপা, সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, মহানগর উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান এবং দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফি। দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ আলোচনা সভাটি গণভবন থেকে সঞ্চালনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘পাকিস্তানের ইন্টেলিজেন্স ব্র্যাঞ্চের গোয়েন্দা রিপোর্ট নিয়ে প্রকাশিত বইগুলো যদি আপনারা পড়েন ’৪৮ থেকে ৭১ সাল পর্যন্ত এ পর্যন্ত ৭ খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে ভাষা আন্দোলনকালে কবে কোন লিফলেট তৈরি করে তিনি বিলি করেছেন, কোন বক্তৃতায় ভাষার কথা বলেছিলেন, কাদের নিয়ে পুনরায় ভাষা সংগ্রাম পরিষদ করা হয়েছিল, কিভাবে আবার তিনি সংগ্রাম করেছিলেন এবং বারংবার গ্রেপ্তার হন তার সব তথ্য আপনারা সেখানে পাবেন। তিনি বলেন, এই রিপোর্ট জাতির পিতার পক্ষে নয়, ছিল বিপক্ষে প্রণীত এবং তারা তাদের ক্ষোভের বশে এটা করেছে। কারণ জাতির পিতা যেসব কাজ করছেন তা পাকিস্তানিদের পছন্দনীয় ছিল না। আর এর মাধ্যমে আমরা আমাদের ইতিহাস জানতে পারি, মহামূল্যবান তথ্য জানতে পারি। যে কারণে আমি এটা প্রকাশ করেছি। আমি জানি না পৃথিবীর আর কোন দেশে তাদের নেতার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা রিপোর্ট এভাবে বই আকারে প্রকাশ হয়েছে কিনা, হয়নি। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে ৪৬টি ফাইলে ৪৮টি খণ্ড পাওয়া গিয়েছিল। যেখানে পাতার সংখ্যা ছিল ৪৬ হাজার। প্রায় ২০ বছর তিনি তার প্রয়াত বান্ধবী সাংবাদিক বেবী মওদুদকে নিয়ে এই বইয়ের জন্য কাজ করেছেন এবং তথ্য উদ্ধারে স্পেশাল ব্রাঞ্চেরও সহযোগিতা নিয়েছেন।