menu

বরিশালে সাংবাদিককে মারধর

৫ কারারক্ষী সাময়িক বরখাস্ত

সংবাদ :
  • জেলা বার্তা পরিবেশক, বরিশাল
  • ঢাকা , রবিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০১৯

বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে গম পাচারের ছবি তোলায় এক ফটোসাংবাদিককে আটকে বেদম মারধর করেছে কারারক্ষীরা। নির্যাতনের শিকার ফটোসাংবাদিক হলেন যুগান্তরের বরিশাল ব্যুরোতে কর্মরত শামীম আহম্মেদ। গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন সড়ক থেকে শামীম আহম্মেদকে ধরে নিয়ে কারাগারের ভেতরে নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনার পর বরিশালে কর্মরত সকল সাংবাদিক সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ জানালে তাৎক্ষণিকভাবে ৫ কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র তত্ত্বাবধায়ক প্রশান্ত কুমার বণিক জানান, সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগে তাৎক্ষণিকভাবে ৫ কারারক্ষীকে চিহ্নিত করে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকৃতরা হলেন- আবু বক্কর সিদ্দিক, উজ্জল, সাইদ, আবুল খায়ের ও কাওসার। উপ মহাপরিদর্শক (প্রিজন) তৌহিদুল ইসলাম জানান, এই ৫ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের ও বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কারা কর্তৃপক্ষ। নির্যাতিত সাংবাদিক শামীম আহম্মেদ জানান, কারাগার থেকে গম পাচার করা হচ্ছে এ খবর পেয়ে তিনি কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটক সংলগ্ন সড়কে যান। এমন সময় গমের বস্তাভর্তি একটি ভ্যান কারাগার থেকে বের হচ্ছিল। তিনি ভ্যানের ছবি তোলার সময় কারাগারের ভেতর থেকে কয়েকজন কারারক্ষী এসে তাকে জাপটে ধরে কিল-ঘুষি লাথি মারতে থাকে। তাকে টেনেহেঁচড়ে কারাগারের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে কয়েকজন কারারক্ষী বুটপরা পা দিয়ে তাকে একের পর আঘাত করে।

ফটোসাংবাদিক সাংবাদিক শামীম আহম্মেদকে নির্যাতনের খবর পেয়ে বরিশালে কর্মরত সকল সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত হন। তাদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পরিস্থিতি সামাল দিতে তাৎক্ষনিক ৫ কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তের কথা জানান কারা কর্তৃপক্ষ। নির্যাতিত শামীম আহম্মেদ বলেন, তিনি এ ঘটনার ন্যায় বিচার চান।

এদিকে কারাগার থেকে গম পাচারের খবর পেয়ে গতকাল বেলা ২টা থেকে কারাগারের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাইনুল হোসেন। তিনি কারাগার থেকে বের হওয়া দুটি ভ্যানে মোট ৪০ বস্তা গম জব্দ করে থানায় নিয়ে যান। এসআই মাইনুল সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ৪০ বস্তা গম জব্দ করেছেন। তবে কারাগার থেকে কিসের জন্য গম বাইরে নেয়া হচ্ছিল তা যাচাই-বাছাই চলছে।

কারাগারের সিনিয়র তত্ত্বাবধায়ক প্রশান্ত কুমার বণিক পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কারারক্ষীদের রেশন দেয়ার পর তাদের কিছু পরিমাণ বাড়তি গম ছিল। ওই গম তারা বিধি অনুযায়ী বাহিরের দোকানে বিক্রি করেছেন।