menu

বগুড়ায় মামিকে খুন করে ভাগ্নের আত্মহত্যা যুবককে গুলি করে হত্যা

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, বগুড়া
  • ঢাকা , বুধবার, ১৫ মে ২০১৯

বগুড়ার শিবগঞ্জের মোকামতলা ইউনিয়নের ভাকখোলা গ্রামে পারিবারিক কলহে মামীকে খুন করে আত্মহত্যা করেছে ভাগ্নে কাঠ মিস্ত্রী ভাগ্নে আপেল তার মামি আলেয়া বেগমকে (৩৬) ধারালো বাটালের আঘাতে খুন করে বাড়ি থেকে হাফ কিলোমিটার দূরে একটি পরিত্যক্ত ক্লিনিকে নিজের বাটালের আঘাতে আত্মহত্যা করে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। গতকাল সকাল সোয়া ৯টায় এ ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে দুপুরে বগুড়া শহরের চেলোপাড়া নাইট স্কুল রোড়ে নিজ বাসভবনে গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হয়েছে মারুফ হোসেন ওরফে পাভেল (৩৫) নামের এক যুবক। সে শহরের চেলোপাড়া এলাকার মৃত আলহাজ মকবুল হোসেনের পুত্র। দুটি ঘটনায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।

মোকামতলা ফাঁড়ির ইনচার্জ সোনাতন জানান, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নের ভাকখোলা পূর্বপাড়া গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে মামি আলেয়া বেগমের (৩৬) সঙ্গে ভাগ্নে আপেলের পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া বাঁধে। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ভাগ্নে আপেল তার কাজের বাটাল দিয়ে মামিকে উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই মামি মারা যায়। এ ঘটনার পর স্থানীয় জনতা আপেলকে ধরার জন্য ধাওয়া করলে আপেল দৌড়ে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে একটি পরিত্যক্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আশ্রয় নেয়। সেখানে নিজের বাটাল দিয়ে নিজ পেটে আঘাত করে সে আত্মহত্যা করে। লোকজন তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ২টি লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

নিহত আলেয়া শিবগঞ্জ উপজেলার ডাকখোলা পূর্বপাড়া গ্রামের ছাইদুর ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী। আপেল একই উপজেলার টেপাগাড়ী গ্রামের আজাহার আলীর পুত্র। আপেলের বাড়ি টেপাগাড়ী হলেও সে ভাকখোলা পূর্বপাড়া গ্রামে তার মামার বাড়িতেই থাকতো। আপেল একজন কাঠমিস্ত্রী ছিলেন।

শিবগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য তদন্ত চলছে।

অন্যদিকে সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান জানান, মঙ্গলবার দুপুরে শহরের চেলোপাড়া থেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হওয়া মারুফ হোসেন পাভেল নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছি। কারা কিভাবে পাভেলকে খুন করেছে তা এখনও জানা যায়নি।

নিহত মারুফের বোন ফরিদা ইয়াসমিন জানান, মারুফ নেশাগ্রস্ত ছিল। তিনি আরও জানান, তার বাবার তিন স্ত্রী। দুইজন মারা গেছেন। একজন বেঁচে আছে। তারা চার বোন ও তিন ভাই। এক ভাইয়ের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। অন্য এক ভাই গুম হয়েছে। দুই বোন এবং মারুফ ওই বাসায় থাকতো। মারুফ অন্য পক্ষের সন্তান। অন্য দুই বোন অন্য বাসায় থাকতো। মারুফ সারাদিন বন্ধু, বান্ধব নিয়ে নেশা করত। সারাদিন বাসা থেকে বের হতো না। এক মাস আগে মারুফ তার এক বন্ধুকে বাসায় ডেকে নিয়ে মারপিট করে টাকা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ হলেও মিটমাট হয়ে যায়। ফরিদা আরও জানান, বাসায় থাকলেও মারুফকে গুলি করে হত্যার বিষয়ে জানতো না। তার চাচি একটি শব্দ পেয়ে গিয়ে দেখেন, মারুফ করিডোরে পড়ে আছে। চাচি জীবননাহার জানান, তিনি ওই বাসার পাশেই থাকেন। দুপুরে বেড়াতে এসে একটি শব্দ শুনতে পান। পরে গিয়ে দেখে রক্তাক্ত অবস্থায় মারুফ করিডোরে পড়ে আছে।

বগুড়া গোয়েন্দা পুলিশ পরিদর্শক আসলাম আলী জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নিহতের বোন ফরিদা ইয়াসমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মারুফ গুলিতে নিহত হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।