menu

ফারুকী ও লোদী পেলেন ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার

সংবাদ :
  • সাংস্কৃতিক বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , রবিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০১৯
image

ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কারপ্রাপ্ত ফারুকী ও লোদীর সঙ্গে অতিথিরা -সংবাদ

দেশের চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার পথিকৃৎ ও প্রথম চলচ্চিত্র বিষয়ক পত্রিকা ‘সিনেমা’র সম্পাদক এবং প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘প্রেসিডেন্ট’ এর পরিচালক ফজলুল হক-এর মৃত্যুবার্ষিকী ২৬ অক্টোবর। ফজলুল হকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘ফজলুল হক স্মৃতি কমিটি’ ২০০৪ সাল থেকে এই দিনে ‘ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার’ দিয়ে আসছে। বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন এ পুরস্কার প্রবর্তন করেন। এ বছর চলচ্চিত্র পরিচালনায় পুরস্কার পেলেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং চলচ্চিত্র সাংবাদিকতায় শফিউজ্জামান খান লোদী। ২৬ অক্টোবর ফজলুল হকের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছরই এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ পুরস্কার দেয়া হয়। এ বছর অনিবার্য কারণবশত ২৬ অক্টোবর পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়নি। এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানটি গতকাল দুপুরে ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখেন সৈয়দ হাসান ইমাম। পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে উত্তরীয়, ক্রেস্ট ও পুরস্কারের অর্থমূল্য তুলে দেন আকবর হোসেন খান পাঠান এমপি (ফারুক), আনোয়ারা সেয়দ হক এবং সুজাতা। পুরস্কার প্রদানের পর মঞ্চে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ফজলুল হকের জীবন ও কর্ম নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইমদাদুল হক মিলন, মামুনুর রশীদ, রিয়াজ, ওমর সানী, ফজলুল হক পরিবারের সদস্য কনা রেজা, ফরহাদুর রেজা প্রবাল এবং কেকা ফেরদৌসী।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ফজলুল হকের ওপর শহিদুল আলম সাচ্চু নির্মিত তথ্যচিত্র ‘অগ্রপ্রতীক ফজলুল হক’ দেখানো হয়। পুরস্কার গ্রহণ করে শফিউজ্জামান খান লোদী বলেন, চ্যানেল আইতে চলচ্চিত্র বিষয়ক ‘আমার ছবি’ নামের একটি অনুষ্ঠান ২০০৪ সাল থেকে ২০১৮ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত আমি করেছি। যা চলচ্চিত্রের আর্কাইভখ্যাত ছিল। এমন একটি অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়েছে স্বপ্নদ্রষ্টা ফজলুল হকের পুত্র ফরিদুর রেজা সাগরের জন্য। যা আমাকে আজকের অবস্থানে এনে দাঁড় করিয়েছে। আমি কৃতজ্ঞ এ অনুষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলের কাছে।

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ মুহূর্ত ছিল রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার ‘আনন্দে মঙ্গলান্দে’ গানটি পরিবেশনে। মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পুরস্কার গ্রহণ করে তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, কোন না কোন অঙ্গনে একজন মানুষ এগিয়ে যেতে চাইলে অন্য একজন বিখ্যাত মানুষকে অনুসরণ করে এগিয়ে যেতে হয়। ফজলুল হক এমনই একজন মানুষ ছিলেন যাকে অনুসরণ করে এগিয়ে যেতে হবে।

ফজলুল হক : ফজলুল হক জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩০ সালের ২৬ মে বগুড়ার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। ১৯৯০ সালের ২৬ অক্টোবর ফজলুল হক মৃত্যুবরণ করেন। ফজলুল হক ছিলেন এ দেশের প্রথম সিনেমা বিষয়ক পত্রিকা ‘সিনেমা’র সম্পাদক ও প্রকাশক। পঞ্চাশের দশকে এদেশে সিনেমা শিল্পের যাত্রা শুরুর আগেরই সিনে সাংবাদিকতা বা চলচ্চিত্র বিষয়ক পত্রিকা প্রকাশ রীতিমতো দুঃসাহসিক কাজ ছিল। এখনকার চলচ্চিত্রশিল্প বা অসংখ্য পত্রপত্রিকার যুগে সেই সময়ের এই উদ্যোগ সম্পর্কে কল্পনাও করা কষ্টকর ছিল। ফজলুল হক সেই অসাধ্য কাজটি করেছিলেন। সেই দিন থেকে ফজলুল হককে এদেশের চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার পথিকৃৎ বলা হয়। ১৯৫০ সালে বগুড়া থেকে সিনেমা পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে প্রকাশনা ঢাকায় স্থানান্তর হয়। পত্রিকাটি প্রকাশিত হতো ২, এসি রায় রোড ঢাকা থেকে। পত্রিকাটির সর্বশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে ১৯৫৯ সালে। তৎকালীন সময়ের অত্যন্ত মানসম্পন্ন ও জনপ্রিয় পত্রিকা ছিল ‘সিনেমা’ পত্রিকা।

ষাটের দশকের শুরুতে ফজলুল হক ‘প্রেসিডেন্ট’ নামে একটি শিশুতোষ সিনেমা তৈরি করেছিলেন যা পাকিস্তান আমলে পুরস্কৃতও হয়েছিল। ‘প্রেসিডেন্ট’ ছবিতে শিশুনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করে পুরস্কৃত হয়েছিলেন আজকের স্বনামধন্য মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগর। ‘প্রেসিডেন্ট’ ছবিটি যখন নির্মিত হয় তখন ঢাকায় প্রযোজিত সিনেমার সংখ্যা মাত্র কয়েকটি। পরে তিনি ‘উত্তরণ’ নামে আরও একটি সিনেমা পরিচালনা করেন। পত্রিকা সম্পাদনা বা চলচ্চিত্র পরিচালনা কোনটাতেই তিনি থেমে থাকেননি। পরে অন্যান্য ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। এদেশের চলচ্চিত্র সাংবাদিকতা ও চলচ্চিত্র নির্মাণের একেবারে সূচনা পর্বে ফজলুল হকের অবদান স্মরণীয়। তার অবদানকে চিরস্মরণীয় করে রাখার জন্য ‘ফজলুল হক স্মৃতি কমিটি’ প্রতি বছর একজন চলচ্চিত্র সাংবাদিক ও সেরা চলচ্চিত্রের পরিচালককে পুরস্কৃত করে আসছে।

২০০৪ থেকে প্রবর্তিত এই পুরস্কার ইতোমধ্যে পেয়েছে- ফজল শাহাবুদ্দীন ও আহমদ জামান চৌধুরী (২০০৪), চাষী নজরুল ইসলাম ও হুমায়ূন আহমেদ (২০০৫), সাইদুল আনাম টুটুল ও রফিকুজ্জামান (২০০৬), সুভাষ দত্ত ও হীরেন দে (২০০৭), আবদুর রহমান ও গোলাম রাব্বানী বিপব (২০০৮) সৈয়দ শামসুল হক ও আমজাদ হোসেন (২০০৯), চিন্ময় মৃৎসুদ্দী ও মোরশেদুল ইসলাম (২০১০), ই আর খান ও অনুপম হায়াৎ (২০১১), নাসিরউদ্দিন ইউসুফ ও গোলাম সারওয়ার (২০১২), নায়করাজ রাজ্জাক ও রেজানুর রহমান (২০১৩), সৈয়দ সালাহউদ্দীন জাকী ও আরেফিন বাদল (২০১৪), মাসুদ পারভেজ ও শহীদুল হক খান (২০১৫), আজিজুর রহমান ও মোস্তফা জব্বার (২০১৬), আবদুল লতিফ বাচ্চু ও নরেশ ভূঁইয়া (২০১৭)।

উল্লেখ্য, বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন তার সহধর্মিণী। জ্যেষ্ঠপুত্র ফরিদুর রেজা সাগর বিশিষ্ট শিশু সাহিত্যিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং চ্যানেল আই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ছোট ছেলে ফরহাদুর রেজা প্রবাল বাংলাদেশ টেলিভিশনের এক সময়ের জনপ্রিয় উপস্থাপক ও বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী স্থপতি, বড় মেয়ে কেকা ফেরদৌসী বিশিষ্ট রন্ধনবিদ ও ছোট মেয়ে ফারহানা মাহমুদ কাকলী একজন সুগৃহিণী।