menu

মানিলন্ডারিং মামলা

ফরিদপুরে বিতর্কিত তিন নেতা গ্রেফতার

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, ফরিদপুর
  • ঢাকা , বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০

ফরিদপুরের বহুল আলোচিত দুই হাজার কোটি টাকা মানিলন্ডারিং মামলায় দুই ভাই রুবেল ও বরকতের পরে এবার গ্রেফতার হলেন আরও তিন বিতর্কিত নেতা লেভী, বিল্লাল ও ফারহান।

শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার নাজমুল ইসলাম লেভী (৬১) ও জেলা শ্রমিক লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ বিল্লাল হোসেনকে(৫৪) ৩১ জুলাই দুপুরে এবং শহর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আসিবুর রহমান ফারহানকে (৪০) ১ আগস্ট মাঝরাতে যার যার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার পুলিশ।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি গত ২৬ জুন অবৈধভাবে দুই হাজার কোটি টাকা ও সম্পদ অর্জন ও পাচারের অভিযোগ এনে ঢাকার কাফরুল থানায় মামলাটি করে। মামলাটির বাদী সিআইডির পরিদর্শক এসএম মিরাজ আল মাহমুদ। সিআইডির চাহিদা অনুযায়ী ফরিদপুরের পুলিশ গত শুক্রবার দুপুর পৌনে ১টা থেকে শনিবার রাত ৩টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এই তিন নেতাকে গ্রেফতার করে।

এ মানি লন্ডারিং মামলায় ফরিদপুরের বহুল আলোচিত দুই ভাই শহর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ফরিদপুর প্রেসক্লাবের বহিষ্কৃত সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের বিরুদ্ধে দুই হাজার কোটি টাকার সম্পদ অবৈধ উপায়ে উপার্জন ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়। ২০১২ সালের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন সংশোধনী ২০১৫ এর ৪(২) ধারায় এ মামলাটি দায়ের করা হয়।

সিআইডি এ মামলায় ওই দুই ভায়ের ১০দিনের রিমান্ড চায়। গত ১৩ জুলাই ভার্চুয়াল কোর্টের মাধ্যমে এ রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময় ফরিদপুর কারাগারে থাকা অবস্থায় জেল গেটে জুম অ্যাপের মাধ্যমে এ শুনানিতে অংশ নেন রুবেল ও বরকত। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলাম দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত ১৯ জুলাই সিআইডি দুই ভাইকে ফরিদপুর জেলখানা থেকে তাদের জিম্মায় নেয়। দুইদিন রিমান্ড শেষে সিআইডি গত ২১ জুলাই পুনরায় ১০দিন করে রিমান্ড চাইলে আদালত তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত ২৪ জুলাই মোট পাঁচ দিন রিমান্ড শেষ হওয়ার পর রুবেল ও ররকতকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ মে রাতে শহরের গোয়ালচামট মহল্লার মোল্লা বাড়ি সড়কে ফরিদপুর জেলা আ. লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে দুই দফা হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত ১৮ মে সুবল সাহা অজ্ঞাতনামা ব্যাক্তিদের আসামি করে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গত ৭ জুন রাতে ওই মামলার আসামি হিসেবে শহরের বদরপুরসহ বিভিন্ন মহল্লায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ রুবেল, বরকতসহ মোট নয়জনকে গ্রেফতার করে।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খন্দকার নাজমুল ইসলাম লেভী, বিল্লাল হোসেন ও আসিবুর রাহমান ফারহানকে মানি লন্ডারিং মামলায় সিআইডি পুলিশের চাহিদা অনুযায়ী গ্রেফতার করা হয়েছে। সিআইডি’র মানি লন্ডারিং মামলার আসামি রুবেল-বরকতের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তাদের সম্পৃক্ততার প্রেক্ষিতে তাদের ফরিদপুর শহরের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন বলেন লেভী রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকলেও গত দশ বছরে তার নৈতিক স্খলন হয়েছে। দলের শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে তিনি অনৈতিকভাবে বিপুল অর্থসম্পদের মালিক হয়েছেন। বিল্লাল হোসেন সম্পর্কে তিনি বলেন, এমপি খন্দকার মোশাররফের ভাই খন্দকার বাবরের কাধে হাত রেখে জেলা শ্রমিক লীগে অনুপ্রবেশ করে হাইব্রিড নেতা হয় ‘দাঁতাল বিল্লাল’। সরকারি সম্পদ লুটপাটে বাবরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিল বিল্লøাল।

গ্রেফতার হওয়া এই তিন বিতর্কিত নেতার বিষয়ে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহা বলেন, এরা সবাই রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত। এরা গ্রেফতার হওয়ায় দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।