menu

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল

পলেস্তরা খসে পড়ে ৪ শিশুসহ ৯ জন আহত

ভবনের ৯টি ওয়ার্ডের ৭টিই ঝুঁকিপূর্ণ

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, নোয়াখালী
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০১৯

গতকাল ভোর ৬টায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের পুরনো ভবনের শিশু ওয়ার্ডের ছাদের পলেস্তরা ভেঙে পড়ে ৪ শিশুসহ ৯ জন আহত হয়েছে। এরমধ্যে ১ শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খলিল উল্যাহ জানান, গতকাল ভোর ৬টায় জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের (৪ নং ওয়ার্ড) ছাদের পলেস্তরা ভেঙে পড়ে ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ৪টি শিশু ও ৩ জন রোগীর আত্মীয় আহত হয়েছেন। আহতরা হচ্ছে- ইব্রাহিম (৫০), সুমাইয়া (১), ইসমাইল (৮), ইমাম উদ্দিন (৫ মাস), রাসেল (১৬), রাফি (আড়াই বছর), মোজাম্মেল হোসেন, পারুল বেগম (৪৭) ও রোজিনা আক্তার (২০)। এর মধ্যে শিশু ইসমাইলের মাথায় ৫টি সেলাই দেয়া হয়েছে এবং তার অবস্থা সংকটাপন্ন। তিনি জানান, এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস, গণপূর্ত নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন।

জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে ভবন ভেঙে মানুষ মারা যাবে এ ঝুঁকি নেয়া যায় না। তাই রোগীদের জরুরিভাবে এ ওয়ার্ডগুলো থেকে নির্মাণাধীন অস্থায়ী সেটে রোগী স্থানান্তর শুরু করা হয়েছে। গণপূর্ত বিভাগ জরুরিভাবে বিদ্যুৎ ও পানির লাইন দিচ্ছে।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান জানান, ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতাল ভবনের ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৯১৫ সালেই ৯টি ওয়ার্ডকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। শুধুমাত্র নতুন ভবনের ৭টি ওয়ার্ড ঝুঁকিমুক্ত রয়েছে। তারপরও ঝুঁকিপূর্ণ এ ৯টি ওয়ার্ডে বিগত ৫ বছর ধরে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে এ পুরাতন ভবন ভেঙে এখানে ৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ১০ তলা হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করার জন্য প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলেই নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একজন চিকিৎসক জানান, গত দু বছরে এ ভবনের বিভিন্ন স্থানে ছাদের পলেস্তরা ভেঙে তিন নার্সসহ অন্তত ৩০ জন রোগী আহত হলেও গণপূর্ত কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্ত প্রকৌশল দফতরের এক উপসহকারী প্রকৌশলী জানান, গত ১০ বছরে এ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রিপেয়ার দেখিয়ে কয়েক কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। অথচ আইন অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পর সে ভবন রিপেয়ার করা বা ব্যবহার করা যায় না।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. ফরিদ আহমদ জানান, উপ-পরিচালকের (তত্ত্বাবধায়ক) অফিস, জরুরি বিভাগ, আউটডোর, শিশু বিভাগ, হৃদরোগ বিভাগ, ডাক্তারদের বিশ্রামাগার, অর্থপেডিক্স বিভাগসহ পুরনো তিনতলা ভবনে ৯টি ওয়ার্ডেই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। ২৫০ শয্যা হাসপাতালে গড়ে ৪-৫শ’ রোগী ভর্তি থাকে এবং আউটডোরে গড়ে প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১২শ’ রোগীকে সেবা দিতে হয়।