menu

নীরব ঘাতক উচ্চ রক্তচাপ

প্রভাব ফেলছে শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপরও স্থূলতা ও খাদ্যে অতিরিক্ত লবণ ঝুঁকি বাড়ায়

সংবাদ :
  • সেবিকা দেবনাথ
  • ঢাকা , বুধবার, ১৬ মে ২০১৮

ব্যস্ত নগর জীবনে বাড়ছে মানুষের ব্যস্ততা, মানসিক চাপ। সেই সঙ্গে বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তের হার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত উচ্চ রক্তচাপ বহু বছর ধরে থাকলেও কোন লক্ষণ প্রকাশ পায় না। এর মাত্রা অত্যন্ত উঁচু হলেও ভুক্তভোগীরা তা বুঝতে পারে না। তাই একে নীরব ঘাতকও বলা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতি বছর সারা বিশ্বে ৯ দশমিক ৪ মিলিয়ন মানুষ হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকে মারা যায়। যা মূলত ঘটে থাকে উচ্চ রক্তচাপের কারণে। দেশে কী সংখ্যক মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে এর সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তবে বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, দেশের ১০ থেকে ২০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। অর্থাৎ দেশে উচ্চ রক্তচাপের রোগী দেড় কোটিরও বেশি। উচ্চ রক্তচাপ শুধুমাত্র বড়দেরই নয়, শিশুদের স্বাস্থ্যের স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, শতকরা ৫ জন শিশু উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। অন্য এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৪০-৫০ ভাগ মানুষ জানেন না যে তারা উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত।

গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ওজনের কারণে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তের হার দুই থেকে ছয় গুণ বাড়ে। এমনকি অল্প পরিমাণে ওজন কমালে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তের হার কমে। উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার কারণ হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রাই এর জন্য দায়ী। গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তরা লবণের পরিমাণ কমিয়ে রক্তচাপ কমিয়েছেন। তাই খাবারে লবণের পরিমাণ কমানোর পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া মদ্যপান, ধূমপান, আলস্য ইত্যাদি উচ্চ রক্তচাপের পথকে প্রশস্ত করে বলে তার জানিয়েছেন।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেন, উচ্চ রক্তচাপ একটি নীরব ঘাতক। ৯০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কোন নির্দিষ্ট কারণ জানা যায় না। উচ্চ রক্তচাপকে কমিয়ে নিয়ন্ত্রণে না রাখলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসমূহ যেমন হৃদপিন্ড, কিডনি, মস্তিষ্ক ও চোখ যে কোন সময় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কোন লক্ষণ প্রকাশ পায় না। প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের বছরে অন্তত একবার রক্তচাপ মাপার পরামর্শ দেন তিনি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সাবেক উপদেষ্টা এবং পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মুজাহেরুল হক বলেন, উচ্চ রক্তচাপ যে কতটা ভয়ঙ্কর তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সভ্যতার অগ্রযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে সারা বিশ্বে উচ্চরক্ত চাপের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধনী দেশগুলিতে লোকজন নিয়মিত ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা ও চেকআপের জন্য যান। এক্ষেত্রে রক্তচাপ মাপা রুটিনে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষ কঠিন কোন উপসর্গ না থাকলে ডাক্তার দেখাতে চান না। ফলে উচ্চ রক্তচাপের মত রোগ ধরা পড়ে না। তাই এটি দমন করার জন্য কোন ব্যবস্থাও নেয়া হয় না। কারও দেহে উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত করা হলেই যে তিনি মৃত্যুমুখে পড়বেন, তা কিন্তু নয়। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চললে যারা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন তারাও সুস্থ থাকতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, লবণ উচ্চ রক্তচাপ এর একটি মূল কারণ। খাদ্যে লবণ কম খাওয়া এবং বেশি লবণযুক্ত ফাস্ট ফুড, চিপস ইত্যাদি পরিহার করেও ঊচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান মার্গারেট চান বলেন, রক্তচাপ পরীক্ষা বিনামূল্যে হওয়া উচিত। আর এক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশে সরকারি উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। তবে সবার আগে প্রত্যেককে স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। জানতে হবে রক্তচাপের পরিমাপ। পরিবর্তন করতে হবে জীবনযাত্রা। প্রয়োজন হলে খেতে হবে ওষুধ। এভাবেই এই অদৃশ্য ও নীরব ঘাতকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।