menu

নওগাঁয় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে আ’লীগ নেতা নিহত

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, বদলগাছী (নওগাঁ)
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নজিপুর পৌরসভার সাবেক (প্রথম চেয়ারম্যান) মেয়র ইছাহাক হোসেন দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা মাইক্রো ড্রাইভার গুরুতর আহত হন। মঙ্গলবার রাত ১০টায় তার নিজ বাড়িতে প্রবেশের সময় এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ রাতেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ জনকে থানায় নিয়ে আসে। নিহত ইছাহাক হোসেন (৭২) নজিপুর পৌরসভার মামুদপুর গ্রামের মৃত খয়ের মুন্সীর ছেলে। আহত ড্রাইভার চক দুর্গাআইয়াম এলাকার নারায়ন রায়ের ছেলে দুলাল রায় (৩২)।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইছাহাক হোসেন প্রতিদিনের ন্যায় রাতে দলীয় কাজ শেষে উপজেলা আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস থেকে মাইক্রো যোগে নজিপুর পৌর এলাকার মাহমুদপুরের নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হন। গাড়ি থেকে নেমে বাসার গেটে প্রবেশ করার সময় আগে থেকে বাসার মধ্যে ওঁৎ পেতে থাকা ৪-৫ জনের মুখোশধারী একটি দল সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর ঝাপিয়ে পড়ে এবং উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। এ সময় তার চিৎকার শুনতে পেয়ে মাইক্রো ড্রাইভার ছুটে আসলে হামলা চালিয়ে তাকেও আহত করে দুর্বৃত্তরা। ড্রাইভার দুলালের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসলে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক ইছাহাক হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।

এবিষয়ে পতœীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার দেবাশিষ রায় জানান, গ্রামবাসীরা ইছাহাক হোসেন ও তার ড্রাইভার দুলাল রায়কে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার পথিমধ্যেই ইছাহাক হোসেন মারা যান। আর ড্রাইভার দুলাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত ইছাহাক হোসেনের মাথায়, বুকে ও শরীরের বেশ কিছু স্থানে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

এ ঘটনায় রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নওগাঁ পুলিশ সুপার রশিদুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম, পতœীতলা থানার ওসি পরিমল কুমার চক্রবর্তী, ডিবি পুলিশ, র‌্যাব, নওগাঁ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ শহীদুজ্জামান সরকার এমপি, নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দীন তরফদার এমপিসহ প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা।

থানা সূত্রে আরও জানা গেছে, রাতেই একই এলাকার মৃত মোসলেম উদ্দীন ফকিরের ছেলে নজিপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ লিটু ফকির ও তার ভাই বেলাল হোসেনসহ মাহমুদপুর মধ্যপাড়া এলাকার আকতাল বিশ্বাসের ছেলে ইছহাক হোসেনের বাড়ির কেয়ারটেকার আনিমুলকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গাফফার বলেন, সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে সভা ছিল। সভা শেষে রাত ১০টার কয়েক মিনিট আগে ইছাহাক বাড়ির পথে রওনা দেন। এর মিনিট দশেক পরই তাকে ছুরিকাঘাত করার খবর আসে। তখনও আমিসহ অনেক নেতাকর্মী দলীয় কার্যালয়ে ছিলাম। খবর পেয়ে আমরা দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যাই। আমরা সেখানে পৌঁছার আগেই ইছাহাকের মৃত্যু হয়। ঠিক কী কারণে কে বা কারা তাকে হত্যা করে থাকতে পারে, তা এখনো বুঝতে পারছি না। আমরা হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

এব্যাপারে পতœীতলা থানার ওসি পরিমল কুমার চক্রবর্তী জানান, পুলিশ নিহত ইছাহাক হোসেনের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ মর্গে প্রেরন করেছে। দুর্বৃত্তদের গ্রেফতারের জন্যে অভিযান চলছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার বাদ আছর নজিপুর শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম (পাবলিক মাঠ) এ জানাযা শেষে মাহমুদপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।