menu

জাতীয় সংসদ নির্বাচন

দুর্গম অঞ্চলে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তার প্রস্তুতি

সংবাদ :
  • বাকী বিল্লাহ
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুর্গম অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। দুর্গম অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা এখনই তৎপরতা শুরু করেছেন। পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে জেলা ও বিভাগীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গতকাল ঢাকায় বৈঠক করেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের অনেক দুর্গম অঞ্চলের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সহজ কোন রাস্তা নেই। সেখানে হেলিকপ্টার ও নৌকা বা স্পিডবোটযোগে যেতে হয়। ওই সব কেন্দ্রের নিরাপত্তায় সশস্ত্রবাহিনী থাকবে বলে জানা গেছে। আগামী সপ্তাহে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা ছক চূড়ান্ত করা হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করে কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ কিনা তা নির্ধারণ করা হয়। ওই সব কেন্দ্রের সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রভাবশালী হলে সেখানে ভোট চলাকালে বিশৃঙ্খলা ঘটানোর সম্ভাবনা থাকে। আবার অনেক সময় সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীরা কারও পক্ষ নিয়ে কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা করতে পারে। এমন বিষয় চিন্তা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জেলার অনেক নির্বাচনী কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বা কম ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে নিরাপত্তা দেয়ার পরিকল্পনা করছে।

সূত্র মতে, সে সব আসনে প্রার্থীরা শক্তিশালী সেখানে যাতে অস্ত্রধারী ও ক্যাডারা গিয়ে বিশৃঙ্খলা ঘটাতে না পারে তার জন্য আগ থেকে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হবে।

এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যেসব অঞ্চলে তা-ব, ভাঙচুর ও ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা, ক্যাডারদের আনাগোনা বেশি ছিল, সেই সব কেন্দ্রকে এবার ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এই ক্ষেত্রে জেলা ও বিভাগীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নিবেন।

সূত্র মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেক চরমপন্থি, উগ্র জঙ্গিবাদ কোন এলাকায় বা চরাঞ্চলে অবস্থান নিয়ে গোপন বৈঠক করার পরিকল্পনা করছে। তাদের অবস্থান ও গতিবিধি জানার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেই এলাকা ঘেরাও করে ব্লকরেইটের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করে। এ ছাড়াও পুলিশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে অস্ত্রধারী, মাদক ব্যবসায়ী ফৌজদারি আইনের গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের ধরার জন্য অভিযান অব্যাহত রাখবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের অনেক ভোটকেন্দ্রে হেলিকপ্টারে, নৌকা বা স্পিডবোট ব্যবহার করে কেন্দ্রে যেতে হবে। অনেক কেন্দ্রে পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথে যেতে হবে। এরমধ্যে রাঙ্গামাটির ২১ কেন্দ্রে হেলিকপ্টার ও অর্ধশত কেন্দ্রে নৌকা দিয়ে যেতে হয়। সেখানে এ সপ্তাহে নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এভাবে সন্দ্বীপ, কুতুবদিয়া, মহেশখালীসহ বিভিন্ন দ্বীপে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ ও রিটার্নিং অফিসার আলোচনা করে বাড়তি নিরাপত্তা দিবেন। আর সেখানে সশস্ত্রবাহিনীর টহল থাকবে।

এ সম্পর্কে জেলা পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র বিভিন্নভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সেই সব কেন্দ্রে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গাইডলাইন অনুযায়ী নিরাপত্তা ফোর্স মোতায়েন করা হবে। জেলা পর্যায়ে এই সংক্রান্ত গাইডলাইন দেয়া হবে। গাইডলাইন পাওয়ার পর সে অনুযায়ী ফোর্স মোতায়েন করা হবে। আর এখন ওই সব এলাকায় বাড়তি পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে। আর জেলা গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা আগাম তথ্য সংগ্রহ করছেন।

এ সম্পর্কে পুলিশ হেডকোয়াটার্সের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, গতকাল মাত্র ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা নিয়ে গেজেট হয়েছে। এরপর জেলা নির্বাচনী রিটার্নিং অফিসার, জেলা পুলিশ সুপারসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাই মিলে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চূড়ান্ত করে প্রতি কেন্দ্রে কী পরিমাণ ফোর্স মোতায়েন করা হবে তা নির্ধারণ করা হবে। তবে মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।