menu

দুদক কর্মকর্তা পরিচয়ে তৎপর প্রতারক চক্র

টার্গেট ব্যক্তিদের কাছ থেকে, হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , শুক্রবার, ১৫ মার্চ ২০১৯

দুদক কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে টার্গেটেড ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিতে শুরু করেছে প্রতারক চক্র। প্রচারক চক্র কখনো পুরুষ কর্মকর্তা আবার কখনো নারী কন্ঠে নারী কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে টেলিফোনেই অভিযোগ ও মামলার নিস্পত্তি করে দিচ্ছেন। এসব আশ্বাসে সরকারি কর্মকতা, জনপ্রতিনিধিদের কাছেই ফোন করে অর্থ নিচ্ছেন প্রতারক চক্র। ইতোমধ্যে গত ৪ মাসে নারী কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারনাকারী চক্রের ৫ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার পর তাদের রিমান্ড হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদে বেশ চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে দুদক। দুদক সূত্র জানায়, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। কারণ দুর্নীতি দমন কমিশনের আইন অনুসারে কোন একক ব্যক্তির (একক কোন কর্মকর্তা) অভিপ্রায় অনুসারে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার যেমন কোন সুযোগ নেই, তেমনি অভিযুক্ত হওয়ারও কোন সুযোগ নেই। এছাড়া কমিশনের কর্মকর্তাদের অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্ত বিষয়ে শুধু পত্রের মাধ্যমেই যোগাযোগের নির্দেশনা রয়েছে, টেলিফোন বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নয়। এ প্রেক্ষাপটে যদি কোন ব্যক্তি কমিশনের কর্মকর্তা কিংবা কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম ব্যবহার করে টেলিফোন করে বা ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে কমিশনের কর্মকর্তা বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের স্বজন পরিচয় দিয়ে অনৈতিক কোন বিষয়ে তদবির করে বা অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে তাহলে এই টেলিফোনের সত্যতা অথবা ওই ব্যক্তির পরিচয়ের নিশ্চয়তা এবং প্রতিকার পাওয়ার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে দুদকের পরিচালক (গোয়েন্দা) মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী (মোবাইল নং- ০১৭১১-৬৪৪৬৭৫) অথবা উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য (মোবাইল নং- ০১৭১৬-৪৬৩২৭৬)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।

দুদক সূত্র জানায়, কমিশনের নিজস্ব গোয়েন্দা উৎসসহ বিভিন্ন উৎস থেকে অবহিত হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তা এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃৃৃপক্ষের নাম ব্যবহার করে দেশে-বিদেশে একাধিক প্রতারক বা প্রতারকচক্র কমিশনের মামলা অথবা কমিশনের কাল্পনিক মামলা অথবা কাল্পনিক অভিযোগ থেকে অব্যাহতি অথবা অভিযুক্ত করা হচ্ছে জানিয়ে টেলিফোনের মাধ্যমে অনৈতিক অর্থ দাবি করছে। আবার এমনও অনেক প্রতারক রয়েছেন যারা একইভাবে কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এমনকি কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম ব্যবহার করে বা কোন কোন ক্ষেত্রে কমিশনের কর্মকর্তাদের আত্মীয়, বন্ধু কিংবা অন্য কোন স্বজন পরিচয় দিয়ে অনৈতিক তদবির করছেন। কমিশন এ জাতীয় কর্মকা- বন্ধে বহুমাত্রিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কমিশনের গোয়েন্দা তৎপরতায় ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর দুদকের একটি বিশেষ টিম রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ’র রাজ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে থেকে প্রতারক ফয়সল রানা ওরফে মো. ফয়েজ উদ্দিনকে গ্রেফতার করে। এ বিষয়ে রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। চলতি বছরের (২০১৯) ২৪ জানুয়ারি রাজধানীর ৩০ নয়াপল্টন, ভিআইপি রোড এর ‘গোল্ডেন প্লেট রেস্টুরেন্ট’ এলাকা থেকে দুদক কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী ভুয়া দুদক কর্মকর্তা হাসান মুন্না ওরফে রফিককে গ্রেফতার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে পল্টন মডেল থানায় (মামলা নং-৪৫, তারিখ: ২৪-১-২০১৯খ্রিঃ ) মামলা দায়ের করা হয়। দুদকের গোয়েন্দা ইইনিটের অভিযোগের প্রেক্ষিতে র‌্যাব-২ এবং ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেল (এনটিএমসি) এর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ভুয়া দুদক কর্মকর্তা নাজমা, যার প্রকৃত নাম রাজু মিয়া-কে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা মামলা (নং-৩৭, তারিখ: ১৫-০২-২০১৯)। এর আগে ২ ফেব্রুয়ারি দুদকের গোয়েন্দা ইউনিটের অভিযোগের প্রেক্ষিতে র‌্যাব-২ এবং এনটিএমসি-এর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ভুয়া দুদক কর্মকর্তা কথিত সিরাজুল ইসলাম ওরফে হাজী জহিরুল হুদা ওরফে প্রশান্ত ওরফে সুশান্ত ওরফে মনিরুজ্জামান মিয়া ওরফে শহিদুল ইসলামকে (যার প্রকৃত নাম আনিসুর রহমান বাবুল) রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকা থেকে গ্রেফতার হয়। পরে তার দেয়া তথ্যে একই চক্রের আরেক সদস্য ইয়াসিন নামের এক প্রতারককে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ বিষয়ে হাজারীবাগ থানা মামলা (নং-০৫, তারিখ: ০২-০২-২০১৯)।

দুদকের গোয়েন্দা ইউনিটের পরিচালক মীর মো. জয়নাল আবেদীন শিবলী জানান, একাধিক প্রতারক চক্র দুদক কর্মকর্তাদের পরিচয়ে অথবা আসল দুদক কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে অর্থ আদায়ের একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদকের গোয়েন্দা টিম নজরদারী শুরু করে। এরপর প্রতারক চক্রের একাধিক সদস্যকে গ্রেফতার করার পর প্রতারণার ঘটনা কমে আসে। প্রতারক চক্র যেভাবে প্রতারণা করেন তাদের প্রক্রিয়া দেখে রীতিমতো আমরা বিস্মিত।