menu

বন্যা পরিস্থিতি

দশ জেলায় উন্নতির দিকে আট জেলায় স্থিতিশীল

কমেনি বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০

দেশে বর্তমানে বন্যা আক্রান্ত জেলা ১৮টি। এরমধ্যে ১০ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। অন্যদিকে আট জেলায় স্থিতিশীল রয়েছে। গতকাল বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলেছে, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, চাঁদপুর, রাজবাড়ি, শরীয়তপুর, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। স্থিতিশীল থাকতে পারে ঢাকা সিটি করপোরেশনসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতিও। অন্যদিকে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নওগাঁ, নাটোর, মানিকগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। ১৭টি নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ২৭টি স্টেশনে বিপদসীমার উপরে পানি রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি কমছে, যা আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি স্থিতিশীল, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। কুশিয়ারা ছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজানে মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদীর পানি কমছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। রাজধানী ঢাকার আশপাশের নদীর পানি স্থিতিশীল, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

এ অবস্থায় বাংলাদেশ ও বাংলাদেশসংলগ্ন ভারতীয় বিভিন্ন অংশে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গত সোমবার সকাল ৯টা থেকে গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত কক্সবাজারে ১০০, বান্দরবানে ৭৪, লামায় ৫৩, বরিশালে ৭৯, নাকুয়াগাঁওয়ে ৫৬ ও চট্টগ্রামে ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বাংলাদেশসংলগ্ন ভারতীয় অংশের গ্যাংটকে ৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

সুনামগঞ্জ : পানি কমলেও বানভাসির দুর্ভোগ কমেনি। সুনামগঞ্জে পর পর তিন দফা বন্যায় মানুষের মেরুদণ্ড ভেঙে গেছে। যদিও বন্যার পানি কমে গেছে কিন্তু কমেনি বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ। মানুষ খেয়ে না খেয়ে খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছে। কোন কোন স্থানে এখনও পানি থাকার কারণে মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আছে। কেউ কেউ ঈদের আগে বাড়ি ফিরে গেছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষেরা কিছুই পাচ্ছে না। সরকারি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হলেও তা একেবারেই অপ্রতুল। সুনামগঞ্জ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল শাললা উপজেলা। এই উপজেলার সব ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। ঘরবাড়ি, সড়ক, আউশ ধান ও গ্রীষ্মকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মানুষ ঘর বাড়ি ফেলে আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে কিন্তু কোন সাহায্য সহায়তা পায়নি। শাললা হাসিমিয়া মাদ্রাসা আশ্রয়কেন্দ্রে আশপাশের এলাকার ১০/১২টি পরিবারের প্রায় ৫০/৬০ জন মানুষ গত মাস খানেক আগে থেকে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু তাদের ভাগ্যে জুটেনি তেমন কোন ত্রাণসামগ্রী। ফলে খেয়ে না খেয়ে খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। এই আশ্রয়কেন্দ্রে এখনও আছেন ভূঁইয়ার গাঁওয়ের মৃত লাল মিয়ার পুত্র রফিক মিয়া, ঘুঙগিয়ার গাঁওয়ের শাহজাহান মিয়া, দামপুরের নুরুললা ,আমবিয়া বেগম, নাসমিনা বেগম, নাসির মিয়ার স্ত্রী শেফালী বেগমসহ অনেকেই। তারা সবাই জানান, পর পর তৃতীয় দফা বন্যার কবলে পড়ে মাসখানেক ধরে এখানে আছেন ঘরবাড়ি ফেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কিন্তু কোন সাহায্য মিলেনি। বন্যার সময় একদিন ১০ কেজি করে চাল দেয়া হয়। ইউএনও সাহেব একদিন একটি করে সাবান ও গামছা এবং তিন ঘরে মিলিয়ে একটি বদনা দেন। আর কেউ কোন কিছুই দেয়নি। ঈদের পর দিন ভাত-তরকারি ও ডাল দেয়া হয়। বানভাসি এই মানুষগুলো আরও বলেন, তাদের ঘর দোয়ারে এখনও পানি, কারও পানি ঘর থেকে নামলে ও কাঁদা। এছাড়া ঘর ভেঙে পড়েছে, বসবাসের অযোগ্য হয়ে আছে। দোয়ারা বাজার উপজেলার বাসিন্দা হারুন অর রশিদ জানান, যারা আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে তাদের শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে আবার যারা নিজ বাড়িতে মাচাং বেঁধে কোন রকমে জীবনযাপন করেছে তাদের ভাগ্যে জুটেনি কোন ত্রাণ। জেলা প্রশাসক মো. আবদুল আহাদ সাহেব একদিন বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং কিছু ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।