menu

ঢাকা-থিম্পু পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশে ঐকমত্য

৫ সমঝোতা স্মারক সই

  • ঢাকা , রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০১৯

বাংলাদেশ এবং ভুটান তাদের দেশীয় বাজারে উভয়দেশের বেশকিছু পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার নিয়ে কাজ করতে একমত হয়েছে। বাসস।

‘বাংলাদেশ এবং ভুটানের মধ্যে গতকাল আনুষ্ঠানিক আলোচনায় ভুটান বাংলাদেশের বাজারে দেশটির ১৬টি পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার চেয়েছে আর বাংলাদেশ চেয়েছে তাদের বাজারে বাংলাদেশি ১০টি পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার’Ñ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক এ কথা বলেন। প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ সময় উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে এবং সফররত ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং ভুটানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভুটানের ১৬টি পণ্যের বাংলাদেশের বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারের বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনাটি খুবই ইতিবাচক হয়েছে এবং আলোচ্য বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ায় এগুলো কার্যকর হবে বলেও আশা করা যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভুটান সফরের সময়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বলেছেন, বাংলাদেশের ১০টি পণ্যের কোটা ও শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মনে করি, দু’দেশই এটি কার্যকরের বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। এখন এটি বাস্তবায়ন পর্যায়ে কাজ করতে হবে।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ও স্বাস্থ্য খাতের বিষয়ে আলোচনায় প্রাধান্য দেয়া হয়। ট্রানজিটের বিষয়ে তিনি বলেন, এই অঞ্চলে বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল (বিবিআইএন) সড়ক ও রেল যোগাযোগের বিষয়টি একটি বড় উদ্যোগ। যদিও সব দেশই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে, তবুও ভুটানের সংসদে এটি অনুসমর্থিত হয়নি। তবে ভুটানের নতুন সরকার বলেছে, এই উদ্যোগ সংক্রান্ত বিলটি তাদের সিনেটের উচ্চকক্ষে আলোচনার জন্য পুনরুত্থাপিত হবে এবং তারা এটি পাশের বিষয়ে আশাবাদী। ভুটানের সংসদে বিলটি অনুমোদিত হলে আলোচ্য চারটি দেশের মধ্যে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ঢাকা এবং থিম্পুর মধ্যে বৈঠকের পর স্বাস্থ্য, কৃষি, জাহাজ শিল্প, পর্যটন ও জনপ্রশাসন প্রশিক্ষণ বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকা-থিম্পুর সম্পর্ক ‘গভীর ও ঐতিহাসিক’। কেননা ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভুটানই সর্বপ্রথম বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করে। যে কোনো সম্পর্কের থেকেই এ সম্পর্ক অনেক গভীর এবং বছর বছর আমাদের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়েছে। এ সম্পর্ক ক্রমেই গভীর ও সম্প্রসারিত হয়েছেÑ যোগ করেন তিনি।

শহীদুল হক বলেন, ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভুটান সফরের পর দু’দেশের ব্যবসার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তখন থেকেই পর্যটন খাতে দু’দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও বেড়েছে। তিনি বলেন, দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ক কেবল গভীরই হয়নি, বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে এ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হয়েছে। আঞ্চলিক বিদ্যুৎ ব্যবসা সংক্রান্ত তথা ভুটানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং তা এই অঞ্চলে বাজারজাতকরণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ওই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগেও আগ্রহী। এ বিষয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে এবং আমরা আশা করছি, এ বিষয়ে শিঘ্রই একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ভুটানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং এই উৎপাদিত বিদ্যুৎ ভারত ও বাংলাদেশে বাজারজাতকরণ শুরু হলে এই তিন দেশের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতার সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, ভুটান তাদের স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসকের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসক নেয়ার বিষয়েও আগ্রহ দেখিয়েছে।

এই প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবেও এই বিষয়ে খেয়াল রাখবেন। কেননা স্বাস্থ্য খাতে দু’দেশের সহযোগিতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং কলেজে ভুটানের শিক্ষার্থী কোটা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

শহীদুল হক বলেন, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

লোটে শেরিংই একজন চিকিৎসক। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেনের অটিজম খাতে ব্যাপক অবদানেরও প্রশংসা করেন।

ঢাকা-থিম্পু ৫টি সমঝোতা স্মারক সই

স্বাস্থ্য, কৃষি, জাহাজ চলাচল, পর্যটন ও জনপ্রশাসন খাতে প্রশিক্ষণ বিষয়ে সহযোগিতা জোরদারে ঢাকা ও থিম্পু ৫টি সমঝোতা স্মারক সই করেছে। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) দু’দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পর ওই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সফররত ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং চুক্তি সইয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে পরিবহন ও ট্রানজিট কার্গো চলাচলে অভ্যন্তরীণ জলপথ ব্যবহারের বিষয়ে দ্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) সমঝোতা চুক্তি সই হয়েছে। নৌপরিবহন সচিব আবদুস সামাদ ও ভুটানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব দাশো ইয়েসি ভাংদি এই চুক্তিতে সই করেন।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং রাজকীয় ভুটান সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমঝোতা চুক্তিতে (এমওইউ) সই করেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আসাদুল ইসলাম এবং ভুটানের স্বাস্থ্য সচিব উগানদা দফু।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) এবং ভুটানের কৃষি ও বন মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি বিভাগের মধ্যে সমজোতা চুক্তিতে সই করেন বিএআরসির নির্বাহী পরিচালক কবির ইকরামুল হক ও ঢাকায় ভুটানের রাষ্ট্রদূত সোনম তোপদেন রাবগি।

বাংলাদেশ জনপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) ও ভুটানের রয়াল ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের (আরআইএম) মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তিতে সই করেন বিপিএটিসি’র রেক্টর ড. এম আসলাম আলম এবং ভুটানের রাষ্ট্রদূত সোনম তোপদেন রাবগি। এছাড়া দু’দেশের মধ্যে পর্যটন খাতে সহযোগিতা বিষয়ে ভুটানের পর্যটন কাউন্সিল ও বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন একটি সমঝোতা চুক্তিতে সই করে।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান খান কবির ও ভুটানের রাষ্ট্রদূত সোনম তোপদেন রাবগি নিজ নিজ পক্ষে সমঝোতা চুক্তিতে সই করেন।