menu

ঢাকা লিট ফেস্টের মিলনমেলা ভাঙছে আজ

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , শনিবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৯
image

ঢাকা সাহিত্য উৎসবের আলোচনা অনুষ্ঠানে অতিথিরা -সংবাদ

লিটফেস্টে তিন দিনব্যাপী দেশি-বিদেশি সাহিত্য অঙ্গনের রথী-মহারথীদের মিলনমেলা শেষ হবে আজ। গতকাল দ্বিতীয় দিনে আধ্যাত্মিক সুরের মূর্ছনা এবং ক্রেতা-দর্শণার্থীদের পদচারণায় মুখোরিত ছিল বাংলা একাডেমির চত্বর। গতকাল দিনব্যাপী লিট ফেস্টে শিশুদের বিভিন্ন আয়োজনসহ ছিল বিশ্বনন্দিত লেখক, শিল্পীদের সেশন। সেখানে আলোচিত হয় সাহিত্যসহ বর্তমান বিশ্ব ও বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। উৎসবটি প্রতিদিনের মতো আজ সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। যারা এখনও নিবন্ধন করেননি, তাদের জন্য উৎসবস্থলেই আছে নিবন্ধনের ব্যবস্থা। চাইলে ঘরে বসে নিবন্ধন করা যাবে। এর জন্য যেতে হবে-https:// www. dhakalitfest.com/register/ এই ঠিকানায়। বাংলা একাডেমি লন চত্বরে আধ্যাত্মিক সুরের মূর্ছনায় শুরু হয় ঢাকা লিট ফেস্টের দ্বিতীয় সকাল। ৯টায় বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসের সামনে লন চত্বরে আধ্যাতিক সুরের বাণী তুলে ধরেন ধর্মীয় সংগীত দল। গতকাল এই উৎসবে দ্বিতীয় দিনে প্রদর্শিত হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর নির্মিত ডকুফিল্ম ‘হাসিনা: অ্যা ডটার্স টেল’।

ক্রেতা, দর্শণার্থীদের ভিড়ে জমে ওঠে আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসব ঢাকা লিট ফেস্টের বইয়ের দোকানগুলো। উৎসবস্থলের মাঝখানে প্যাভিলিয়নগুলোতে শোভা বাড়িয়েছে দেশি-বিদেশি লেখকদের দারুণ সব বই। ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই ছিল জমজমাট উৎসব প্রাঙ্গণে। দেশি-বিদেশি বইয়ের পসরা নিয়ে মেলায় স্টল সাজিয়েছে- ফেস্টিভ্যাল বুকশপ, ডেইলি স্টার বুকস, ইউপিএল, হার স্টোরি, গুবা পাবলিশার্স, ওয়ার্ল্ড অব চিল্ড্রেন বুকস, জামিস’স কমিকস অ্যান্ড কালেক্টিবেলিস, অনন্যা, আগামী, পাঞ্জেরী, জার্নিম্যান, অবসরসহ অন্য প্রকাশনা।

ঠিক মাঝখানে বিশাল প্যাভিলিয়ন ফেস্টিভ্যাল বুকশপের। চলছে বইপ্রেমীদের আনাগোনা। এখানে বিক্রি হচ্ছে ইংরেজিতে লেখা বিখ্যাত সব লেখকদের বই। গতকাল বেলা ১২টার দিকে এ প্যাভিলিয়নে ঢুকতে বেশ বেগ পেতে হলো। প্রবেশ মুখেই নজরে পড়ল ভারতীয় অনুসন্ধানী সাংবাদিক প্রিয়াঙ্কা দুবের বই ‘নো ন্যাশন ফর ওমেন’। বইয়ের প্রথম পাতায় পাঠকদের আগেভাগেই ‘শুভ কামনা’ জানিয়ে অটোগ্রাফ দিয়ে রেখেছেন উৎসবে অংশ নেয়া এ লেখিকা।

শুধু প্রিয়াঙ্কা দুবেই নয়, উৎসবে অংশ নেয়া অন্য সাহিত্যিকদের বইগুলোও বিশেষভাবে প্রদর্শন করছে আয়োজকরা। সেখানে দেখা মিলল শশী থারুরের ‘হোয়াই আই অ্যাম হিন্দু’ বইটি। তার একটু পরেই উইলিয়াম ডালরিম্পলের বই ‘দ্যা হোয়াইট মোঘলস’। আছে অন্য লেখকদের বইও।

বইয়ের ধরন অনুসারে বিভিন্ন ভাগে সাজানো হয়েছে বইগুলোকে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বসানো হয়েছে বিশেষ কর্নার। সেখানে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ইংরেজি ভাষায় লেখা বিশিষ্টজনেদের বই রয়েছে।

বুক প্যাভিলয়নের অন্য কর্নারগুলোর মধ্যে আছে- ফিকশন, নন-ফিকশন, অটোবায়োগ্রাফি ও বায়োগ্রাফি। প্যাভিলিয়নের সামনের খোলা চত্বরে বসে বই পড়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। প্রিয়াঙ্কা দুবের ‘নো ন্যাশন ফর ওমেন’ বইটি নেড়েচেড়ে দেখছিলেন তাসনুভা ফারহিন নামে এক পাঠিকা। বই কেনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, আয়োজকদের শিডিউল থেকে জানলাম প্রিয়াঙ্কা দুবের কথা। পড়ে বেশ আগ্রহ তৈরি হলো তার ব্যাপারে। সে জন্যই তার সেশনের আগে বইটা একটু পড়ে নিচ্ছি। ভালো লাগলে কিনব।

বইয়ের বিক্রিবাট্টা নিয়ে অবসর প্রকাশনা সংস্থার ব্যবস্থাপক মাসুদ রানা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, প্রত্যাশার চেয়ে ভালো বিক্রি হচ্ছে। ভেবেছিলাম এখানে বাংলা বইয়ের পাঠক কম। কিন্তু এখানে বাংলা বইই ভালো বিক্রি হচ্ছে। শীর্ষে রয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ।

সকালের শুরুতেই একাডেমির নজরুল মঞ্চে গিয়ে দেখা যায় শিশুদের ভিড়। ‘ওয়ার্ল্ড অব ফ্যান্টাসি’ শিরোনামের এ আয়োজনে বিশ্বের নানান শহরে শিশুদের বিনোদনের ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যমগুলোর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। এর পাশাপাশি এখানে শিশুরা বিভিন্ন ধরনের পেপার কাটিং ও ছবি আঁকা শেখে।

অন্যদিকে আরও অনেক শিশুকে বিভিন্ন বইয়ের স্টলে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। সেখানে তারা খুঁজে নিচ্ছে নিজেদের পছন্দের বই। পরিচিত হচ্ছে বিশ্ব সাহিত্যের সঙ্গে। তাদের উৎসাহ জুগিয়ে চলেছ বিদেশি লেখক-শিল্পীরা।

এবারের সাহিত্য উৎসবে পাঁচটি মহাদেশের ১৮টি দেশ থেকে শতাধিক বিদেশি ও দুই শতাধিক বাংলাদেশি সাহিত্যিক, লেখক, বুদ্ধিজীবী, গবেষক, সাংবাদিক, রাজনীতিক অংশ নিচ্ছেন। বিদেশিদের দলে থাকছেন- বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বুকার মনোনয়নপ্রাপ্ত ব্রিটিশ লেখিকা মনিকা আলী, ভারতীয় লেখক, রাজনীতিক শশী থারুর, কথাসাহিত্যিক উইলিয়াম ডালরিম্পল, পশ্চিমবঙ্গের লেখক শংকরসহ আরও অনেকে। থাকছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক শাহীন আখতার, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, আসাদ চৌধুরী, রুবী রহমান, সেলিনা হোসেন প্রমুখ।