menu

লঘুচাপের প্রভাবে

ঝড়বৃষ্টি বজ্রপাত বরিশালে বিদ্যুতের বেহাল অবস্থা

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, বরিশাল
  • ঢাকা , বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০

গত কয়েকদিনের দুঃসহ গরমে নাজেহাল দক্ষিণাঞ্চলের জনজীবনে মঙ্গলবার প্রবল বর্ষণ কিছুটা স্বস্তি এনে দিলেও অবিরাম বজ্রপাত ও ঝড়ো হওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অনেকটাই লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে সকাল সোয়া ৪টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে বরিশাল মহানগরীর বেশিরভাগ রাস্তাঘাটও পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। এ সময় পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বরিশাল মহানগরী ও ঝালকাঠীসহ দক্ষিণাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা পুনর্বাসনের আগেই আবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দ্বিতীয় দফার বর্ষণে জনজীবন অচল হয়ে পরে। বেশিরভাগ এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনর্বাসন সম্ভব হয়নি। তবে কাজ করছে বিদ্যুৎ কর্মীরা। উপকূলভাগসহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল ঘন মেঘাচ্ছন্ন। বঙ্গোপসাগর থেকে সঞ্চালনশীল মেঘমালা ধেয়ে আসছে দক্ষিণাঞ্চলসহ উপকূলভাগে।

আবহাওয়া বিভাগের মতে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষ ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ এবং লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে উত্তরে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি থেকে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলসহ উপকূলভাগে মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের সম্ভবনার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। বুধবারের পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার কথাও বলেছে আবহাওয়া বিভাগ।

গত দু’মাস ধরেই দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হ্রাসের সঙ্গে তাপমাত্রার পারদ ক্রমশ ওপরে উঠতে থাকায় স্বাভাবিক জনজীবনসহ কৃষি ক্ষেত্রেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। দক্ষিণাঞ্চলে প্রধান দানাদার খাদ্য ফসল আমন আবাদেও কিছুটা সংকট সৃষ্টি হয়েছে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম হওয়ায়। এমনকি দুঃসহ গরমে কৃষকরা জমিতে বীজ রোপণ পর্যন্ত করতে পারছিল না। ইলিশের ভরা মৌসুম হলেও জেলেরা নৌকা নিয়ে নদী ও সাগর মোহনায় মাছ ধরতে পারছিল না। এমনকি নদী ও সাগর মোহনায় স্বাভাবিকের চেয়ে তাপমাত্রার পরিমাণ বেশি থাকায় ইলিশের পরিভ্রমণও বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। ফলে ভরা মৌসুমে এবার দক্ষিণাঞ্চলের ইলিশের ভ্রমণস্থলে উপস্থিতি যথেষ্ট কম।

ভরা শ্রাবনের জুলাই মাসটি দক্ষিণাঞ্চলে অতিক্রান্ত হয়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত দিয়ে। বরিশালে সোমবার তাপমাত্রার পারদ প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে। আবহাওয়া বিভাগের মতে জুলাই মাসে সারা দেশে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে ১১.৩% বেশি হলেও বরিশাল অঞ্চলে তা ছিল ১৫.৬% কম। এমনকি জুন মাসেও দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ২% বেশি বৃষ্টির স্থলে বরিশাল অঞ্চলে তা ০.৬% কম ছিল।

আবহাওয়া বিভাগের মতে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ৭ জুন দেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে পৌঁছার পরে বরিশাল অঞ্চলে পৌঁছে ১১ জুন। ১২ জুন তা সারা দেশেই বিস্তার লাভ করে। কিন্তু জুন মাসেই দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে কম। এমনকি জুলাই মাসেও বরিশাল অঞ্চলে স্বাভাবিক ৫১৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছিল আবহাওয়া বিভাগ। কিন্তু বাস্তবে বৃষ্টি হয়েছে ৪৩৮ মিলিমিটার। যা স্বাভাবিকের চেয়ে ১৫.৬% কম। চলতি আগস্টও দক্ষিণাঞ্চলে স্বাভাবিক ৪৩৩ মিলিমিটারের স্থলে ৩৯০-৪৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। উপরন্তু চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে ১-২টি বর্ষাকালীন লঘুচাপ সৃষ্টির কথা জানিয়ে তা থেকে একটি বর্ষাকালীন নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

তবে আগস্টের বৃষ্টিবিহীন প্রথম দু’দিন অতিবহিত হয়েছে ৩৫-৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের দুঃসহ তাপ প্রবাহে। মঙ্গলবার ভোরের বর্ষণ জনজীবনকে যথেষ্ট সিক্ত করলেও তা কতদিন অব্যাহত থাকবে সে বিষয়ে জনমনে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও আবাহাওয়া বিভাগ থেকে আগামী দু’দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার কথাই বলা হয়েছে।