menu

ঢাবির প্রাচ্যকলা বিভাগে

চেয়ারম্যান শিক্ষক কর্মচারীসহ এক কক্ষে বসেন ১৩ জন

সংবাদ :
  • আবদুল্লাহ আল জোবায়ের
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদভুক্ত প্রাচ্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যানসহ ৯ জন শিক্ষককে একই কক্ষে বসতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য বিভাগগুলোর চেয়ারম্যানদের জন্য আলাদা কক্ষের ব্যবস্থা থাকলেও এ বিভাগের চেয়ারম্যানের জন্য নেই আলাদা কোন কক্ষ। বিভাগের শিক্ষকদের কক্ষ মাত্র একটি হওয়ায় এবং বিভাগীয় কর্মচারীদের জন্য আলাদা কক্ষের ব্যবস্থা না থাকায় একই কক্ষে বসাতে হচ্ছে তাদেরও। ফলে বিভাগের একজন চেয়ারম্যান, ৮ জন শিক্ষক, একজন অফিস সহকারী, একজন গ্রন্থাগার সহকারী ও দুইজন পিয়নসহ ১৩ জনকে বসতে হচ্ছে একই কক্ষে। এদিকে, বিভাগের শিক্ষক, একশ’র বেশি শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের জন্য টয়লেট আছে মাত্র একটি, যা অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও ব্যবহার করেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য নেই আলাদা কোন সেমিনার কক্ষ। বিভাগের সরঞ্জামাদি সংরক্ষণের জন্য নেই আলাদা কোন স্টোর কক্ষ। আছে শ্রেণীকক্ষের সংকটও। ফলে পুরো বিভাগ হয়ে গেছে এক কক্ষ কেন্দ্রিক। নতুন কক্ষ বরাদ্দ ও শিক্ষকদের জন্য আলাদা টয়লেট স্থাপনের জন্য বিগত সময়ে বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে বেশ কয়েকবার চিঠি পাঠানো হলেও তাতে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি।

প্রাচ্যকলা বিভাগসূত্রে জানা যায়, ১৯৪৮ সালে চারুকলা অনুষদ যাত্রা শুরু করার পরে ১৯৫৫ সাল থেকে যাত্রা শুরু হয় প্রাচ্যকলা বিভাগের। তখন পাশর্^বর্তী পুরাতন ভবনের নিচতলায় ছিল বিভাগটির অবস্থান। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে বর্ধিত ভবনের (বর্তমান অবস্থানে) দ্বিতীয় তলায় জায়গা হয় এ বিভাগের।

সরেজমিন প্রাচ্যকলা বিভাগে গিয়ে বিভাগীয় শিক্ষক কক্ষের সামনে ‘চেয়ারম্যান ও শিক্ষকবৃন্দ, প্রাচ্যকলা বিভাগ’ শীর্ষক একটি ছোট নামফলক দেখা যায়। ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, একটি কক্ষের মধ্যেই টেবিল আছে ১১টি, টেবিল ফ্যান ৮টি, বড় আলমারি ৩টি, ছোট আলমারি ২টি, লকার ৪টি, বুক সেলফ ৩টি, শো-কেস ১টি, ফ্রিজ ১টি, কম্পিউটার ৪টি, কম্পিউটার টেবিল ১টি ও প্রিন্টার মেশিন আছে ১টি। এছাড়া জায়গার অভাবে শিক্ষার্থীদের আঁকা অনেকগুলো চিত্রকর্ম কক্ষের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিভাগের নিয়মিত শিক্ষক ৯ জন। এর বাইরে একজন আছেন অনারারি অধ্যাপক হিসেবে এবং খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী।

৯ শিক্ষক ও একশ’র বেশি শিক্ষার্থীর জন্য টয়লেট মাত্র একটি : প্রাচ্যকলা বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য ভবনের নিচতলায় একটিমাত্র টয়লেটের ব্যবস্থা আছে। টয়লেট একটি হওয়ায় সেখানে সবসময় ভিড় লেগে থাকে। আবার অনেক সময় অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও এ টয়লেটটি ব্যবহার করে বলে জানা গেছে। একটিমাত্র টয়লেট হওয়ায় সেখানে শিক্ষার্থীরা যেতে বাধ্য হলেও অস্বস্তি বোধ করেন বিভাগের শিক্ষকরা। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ভিড় ঠেলে টয়লেটে যেতে তারা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। এ বিষয়ে বিভাগের একাডেমিক কাউন্সিলের সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে বেশ কয়েকবার প্রকৌশল দফতরে শিক্ষকদের জন্য আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা করতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিভাগের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান ড. মলয় বালার সময়ে বিভাগের শিক্ষকদের জন্য কক্ষের সঙ্গে সংযুক্ত টয়লেট করার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। এতে খরচ বেশি হবে জানিয়ে তখন টয়লেট নির্মাণ করা হয়নি। বর্তমান চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান ফকিরও গত সেপ্টেম্বর মাসে কর্তৃপক্ষ বরাবর একটি আবেদনপত্র পাঠান। তবে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুসারে বিভাগের এ আবেদন বাছাই কমিটি পাস করেছে। টেন্ডার হয়ে গেলেই টয়লেটের কাজ শুরু হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ^বিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম আফজালুল হক। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আফজালুল হক সংবাদকে বলেন, বাছাই কমিটিতে এটা পাস হয়ে গেছে। টেন্ডার হয়ে গেলে দ্রুতই টয়লেটের কাজ শুরু হবে।

নেই আলাদা সেমিনার ও স্টোর রুম : বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য সব বিভাগের মতো এ বিভাগে নেই কোন সেমিনার কক্ষ। ফলে শিক্ষার্থীরা সেমিনারে বসে পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সেমিনার কক্ষের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জামিল সংবাদ’কে বলেন, বিভাগের অন্য শ্রেণীকক্ষগুলোর তুলনায় একটি কক্ষের আয়তন একটু বেশি। তাই সে কক্ষের মাঝখানে একটি বোর্ড সদৃশ কিছু দিয়ে ভাগ করে এক পাশে প্রথম বর্ষ এবং অন্য পাশে দ্বিতীয় বর্ষের ক্লাস হয়। কিন্তু যখন বিভাগের মিটিং বা সেমিনার করার প্রয়োজন পড়ে তখন সে বোর্ডসহ অঙ্কনের সব জিনিসপত্র সরিয়ে সেমিনার আয়োজনের ব্যবস্থা করতে হয়। যা খুবই ঝামেলার ও মনোযোগ নষ্টের কারণ। আশাকরি, বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এদিকে সুনজর দিবে।

অন্যদিকে চিত্র অঙ্কনের সরঞ্জামাদি সংরক্ষণের জন্য বিভাগের নেই আলাদা কোন স্টোর কক্ষ। ফলে একই কক্ষে শিক্ষকদের অবস্থানের পাশাপাশি সকল সরঞ্জামও রাখতে হচ্ছে। এতে ঘিঞ্জি অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে ওই কক্ষে।

আছে শ্রেণীকক্ষের সংকটও : শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি শিক্ষাবর্ষে ১৫ জন শিক্ষার্থী এ বিভাগে ভর্তি হন। পাঁচটি শ্রেণীকক্ষে বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের পাঠদান চললেও ছয়টি বর্ষের শিক্ষার্থী বর্তমানে অধ্যয়নরত আছেন। তাই শ্রেণীকক্ষেরও কিছুটা সংকট এ বিভাগে রয়েছে। একটি বর্ষের পরীক্ষা থাকলে অন্য বর্ষের ক্লাস বাদ দিতে হয়। অন্যদিকে, স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের বাইরে এমফিল ও পিএইচডির শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয় বিভাগকে। এজন্য স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের ক্লাস দুপুরের মধ্যে শেষ করে এমফিল ও পিএইচডির শিক্ষার্থীদের ক্লাস দুপুরের পরে নিতে হয়। বিভাগের বর্তমানে শিক্ষার্থী আছেন একশ’র বেশি। বিভিন্ন বর্ষে শিক্ষার্থীদের ড্রপ দেয়ার কারণে এ সংখ্যা আরও বাড়ছে।

শ্রেণীকক্ষ ও তার আয়তনের সংকটের কথা উল্লেখ করে জামিল বলেন, আমাদের শ্রেণীকক্ষের সংকট আছে। আবার শ্রেণিকক্ষের আয়তনেরও সংকট রয়েছে। শিক্ষার্থীরা যখন কোন চিত্র আঁকে তখন তার ন্যুনতম একটা জায়গার দরকার হয়। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য আলাদা ডেস্কের দরকার হয়, কিন্তু চাহিদার তুলনায় আমাদের ডেস্ক অনেক ছোট। যখন দুই-তিন সারিতে বসে চিত্র আঁকতে হয়, তখন সেটা আমাদের জন্য সুবিধাজনক হয় না।

এসব বিষয় নিয়ে কথা হয় প্রাচ্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান ফকিরের সঙ্গে। সংবাদ’কে তিনি বলেন, আমি গত ২আগস্ট বিভাগীয় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাই। এর পরেই অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভা ডেকে সমস্যার কথা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেই। কিন্তু কোনো সাড়া পাই নি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অনেক উন্নয়নমূলক কাজ তো বিশ^বিদ্যালয়ে হচ্ছে। তাহলে আমাদের বিভাগে কেন নয়?

মিজানুর রহমান ফকির বলেন, জায়গার অভাবে বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা থেকে শুরু করে বিখ্যাত শিল্পীদের শিল্পকর্ম সংরক্ষণ করতে পারছি না। পর্যাপ্ত জায়গা থাকলে বিভাগের গুণী শিল্পীদের শিল্পকর্ম গ্যালারী আকারে সাজিয়ে রাখতাম।

এসব বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের ব্যক্তিগত নাম্বারে কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।