menu

চাষি বাঁচাতে সবজির দাম নির্ধারণের চিন্তা

সংবাদ :
  • যশোর অফিস
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২১

সবজি চাষি বাঁচাতে সবজির দাম নির্ধারণ করতে যাচ্ছে সরকার। মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় যশোরের সবজি চাষিদের অবস্থা জানতে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব দেলোয়ার হোসেন। তিনি সদর উপজেলার বারীনগর বাজারে যান। সেখানে দেখেছেন প্রতি কেজি ফুলকপি দু’-তিন টাকায় ও বেগুন চার থেকে সাত টাকায় পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। এ অবস্থা দেখে তিনি খানিকটা বিস্মিত হন। গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সবজির দাম এতটাই নিম্নমুখী যে, কৃষক এক প্রকার সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। সবজি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে বলে চাষিরা তাকে অবহিত করেছেন। এ সময় চাষিরা প্রতি কেজি সবজির দাম ২০ টাকা নির্ধারণ করার দাবি জানান।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর যশোর জেলা কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, জেলায় বছরে তিন লাখ মেট্রিকটন সবজি উৎপাদন হয়। সপ্তাহের দু’দিন বারীনগর বাজারে সবজির হাট বসে। রোববার ও বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হাট থেকে কমপক্ষে ৩৫ ট্রাক করে নানা ধরনের সবজি যায় দেশের বিভিন্ন জেলায়। এর বাইরে প্রতিদিন ১০ ট্রাক করে সবজি যশোর থেকে সরবরাহ করা হয় বলে জানান জেলা বাজার কর্মকর্তা সুজাত হোসেন খান। তিনি জানান, যশোর থেকে প্রতিদিন ১০ মেট্রিকটন বাঁধাকপি বিদেশে রপ্তানি হবে। এ অবস্থায় এখানকার চাষিকে রক্ষা করতে কাজ করছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

চাষিদের এ ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে যুগ্ম সচিব দ্রুত মাল্টিপারপাস হিমাগার এবং অ্যাসেম্বল সেন্টার নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি এ সময় যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। সবজি চাষিদের দুর্দশা লাঘবে যশোরে দুটি মাল্টিপারপাস হিমাগার করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। এটি করার মাধ্যমে চাষির উৎপাদিত সবজি রক্ষার চেষ্টা করছে কৃষি মন্ত্রণালয়। মাল্টিপারপাস হিমাগার নির্মাণ সম্পন্ন হলে কৃষকের ঘাম ঝরানো সবজি সংরক্ষণ করা যাবে এখানে। সবজি চাষি রক্ষা পাবেন মধ্যস্বত্বভোগীদের জিম্মিদশা থেকে। কৃষক ইচ্ছেমতো তাদের উৎপাদিত সবজি সংরক্ষণ করে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারবেন।

যশোরে ব্যাপক পরিমাণে সবজি উৎপাদন হয়ে থাকে। সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ন্যায্যমূল্য বঞ্চিত হচ্ছেন চাষি। এ কারণে ব্যাপকভাবে সবজি নষ্ট হচ্ছে। কৃষকের দুরবস্থার কথা বিবেচনা করে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর যশোরে দুটি মাল্টিপারপাস হিমাগার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এই দুটি হিমাগার নির্মাণ করা হবে সদর উপজেলার বারীনগরে এবং কেশবপুরের ভান্ডারখোলায়। জেলা বাজার কর্মকর্তা সুজাত হোসেন খান জানিয়েছেন, মাল্টিপারপাস হিমাগারে পিয়াজ, বিভিন্ন ধরনের সবজি, মাছসহ পচনশীল পণ্য সংরক্ষণ করা যাবে। এসব পণ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে লাভবান হবেন চাষি। পাশাপাশি সবজির দাম যদি নির্ধারণ করা হয় তাহলে কৃষক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবেন।

এ বিষয়ে আসাদুল ইসলাম, শাহারুল ইসলাম, আলমগীর বিশ্বাস ও সঞ্জিব বিশ্বাস নামে কয়েকজন চাষি বলেন, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের কথা শুনি। কিন্তু বাস্তবায়ন হতে দেখি খুব কম।