menu

গাজীপুরে পুলিশের চাঁদাবাজি

গ্রেফতারের পর প্রধান আসামিকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, কালিয়াকৈর (গাজীপুর)
  • ঢাকা , শনিবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৯

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের আন্দার মানিক এলাকা থেকে ডিবি পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে কালিয়াকৈর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। এ সময় ইয়াবাসহ তিনজনকে আটক করার পর প্রধান আসামিকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে পুলিশের ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়াও থানা থেকে ছেড়ে দেয়ার কথা বলে দু’জনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে পরে মাদক মামলায় চালান দেয়া হয়। ওই ঘটনায় এলাকায় আতংক বিরাজ করছে।

পুলিশ, এলাকাবাসী ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আন্দার মানিক এলাকার মৃত-শামছুল হকের ছেলে শাজাহানের বাড়িতে গত বুধবার রাত প্রায় ৯টার দিকে থানার এসআই আনোয়ার হোসেন সঙ্গী কয়েকজনকে নিয়ে সাদা পোশকে ওই বাড়িতে যান। সেখানে শাজাহানের বাড়ির একটি কক্ষ থেকে আনোয়ার হোসেন, নাসির উদ্দিন ও বাড়ির মালিক শাজাহানকে মাদকসহ ধরে নিয়ে যায়। পরে রাতে শাজাহানের স্ত্রী ও আনোয়ার হোসেনের ভাই সফিপুর আনসার একাডেমি এলাকা থেকে আসামি ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য এসআই আনোয়ারের কাছে ২৬ হাজার টাকা দেন। শাজাহানের স্ত্রী ও আনোয়ারের ভাইয়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তিন আসামিকে সেখান থেকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় আরও টাকা লাগবে বলে। পরে ভোর রাতে শাজাহানকে মামলার সাক্ষী করে ছেড়ে দেয়া হলেও অপর দুই আসামি আনোয়ার হোসেন ও নাছিরকে ৩০ পিচ ইয়াবা দিয়ে মাদক মামলায় আদালতে চালান দেয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার সকালে ওই এসআই এর সোর্স রানা যে নিজেকে পারভেজ পরিচয় দেয়। পরের দিন সকালে সোর্স রানা ওরফে পারভেজ আসামি আনোয়ারের মায়ের কাছ থেকে আরও ২৮ হাজার টাকা নেন ৫৪ ধারায় অথাৎ (নন এফায়ার) চালান দেয়ার কথা বলে। বর্তমানে আনোয়ার ও নাসির উদ্দিন গাজীপুর জেল হাজতে রয়েছে। অপরদিকে মামলার প্রধান আসামি মাদক ব্যবসায়ী শাজাহান এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

আসামি আনোয়ারের মা অনোয়ারা বেগম বলেন, আমার ছেলে আনোয়ার এবং শাজাহান ও নাছির নামে আরও দুইজনকে পুলিশ ধরে থানায় নিয়ে যায়। পরে আমার ছোট ছেলে জয়নালের মাধ্যমে পুলিশ রাতে ২৬ হাজার টাকা ও সকালে সোর্সের মাধ্যমে ২৮ হাজার টাকা নেয় তাদের ছেড়ে দেয়ার কথা বলে। কিন্তু ভোর রাতে প্রধান আসামি শাজাহানকে ছাড়লেও ওই দুইজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েও মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করে। আমার ছেলে মাদক খেলেও নাছির নিরীহ। তাহলে পুলিশ টাকা নিয়ে কেন মামলা দিল। আবার শাজাহানকে কেন ছেড়ে দিল!

আনোয়ারের ভাই জয়নাল জানায়, শাহজাহান এবং আমার ভাইসহ তিন জনকে ৫শত পিচ ইয়াবাসহ আটক করে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ। পরে জানতে পারি তাদের থানায় নিয়ে যাওয়ার পর প্রধান আসামিকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ এছাড়া ৫শ’ পিচ ইয়াবার মধ্যে মাত্র ৩০ পিচ ইয়াবা উদ্ধার দেখিয়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানায়, শাহজাহান একজন মাদক ব্যবসায়ী তার বাড়ি সব সময় মাদক সেবনকারিদের আড্ডা হয় তার পরও পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।

সোর্স পরিচয়হানকারী নিজেকে পারভেজ পরিচয় দিয়ে বলেন, আমি কোন চাকরি করি না। আমার বাড়ি লস্করচালা এলাকায়ই। আপনারা আমার স্যারের সঙ্গে কথা বলেন। আমি আাপনাদের সঙ্গে সকালে দেখা করব।

ছাড়া পাওয়া আটককৃত আসামি শাহজাহান জানান, গত বুধবার রাত প্রায় ৯টার দিকে থানার এসআই আনোয়ার হোসেন কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে সাদা পোশকে আমার বাড়িতে ঢুকে একটি ঘর থেকে আমাকেসহ আরও দু’জনকে ধরে নিয়ে যায়, সারারাত থানায় আটক রাখার পর ভোররাতে আমাকে ছেড়ে দেয়।

এসআই আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী আসামি ধরেছি, আবার চালান করে দিয়েছি। শাজাহান বাড়ির মালিক তাই তাকে মামলায় সাক্ষী করে ছেড়ে দেয়া হয়। টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কে বলেছে টাকা নিয়েছি। বাদ দেন তো ভাই ওই সব মিথ্যা কথা।

কালিয়াকৈর থানার ওসি আলমগীর হোসেন মজুমদার বলেন, বিষয়টি আমি তদন্ত করে দেখব। ঘটনার সত্যতা পেলে অপরাধি যেই হোক অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।