menu

গাজীপুর থেকে ঢাকা এনে খুন করা হয় ঠিকাদার সিরুকে

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২০

গাজীপুর থেকে ঢাকায় এনে খুন করা হয় ঠিকাদার সিরাজুল ইসলাম সিরুকে। পারিবারিক কারণে গত ৩ অক্টোবর গাজীপুর গিয়েছিলেন তিনি। সন্ধ্যার ঠিক আগে একটি কল আসে সিরুর মোবাইল ফোনে। এরপরই গাজীপুরের আত্মীয়ের বাসা থেকে ঢাকার শেখেরটেকের বাসায় ফিরে আসেন তিনি। ঘরে না ঢুকেই স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে বলতে বেরিয়ে যান। এরপর রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিরু হত্যার খবর পান স্ত্রী জোছনা বেগম। পরিবার বলছে, স্থানীয় প্রভাবশালী ও মাদক কারবারীদের যোগসাজশে সিরুকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন বিষয়ে দ্বদ্বের জেরে হত্যা করা হয়েছে সিরুকে।

মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ ও র্যাব-২ সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যানের একতা হাউজিং এলাকায় গত ৩ অক্টোবর রাতে ৬-৭ জনের অংশগ্রহণে ঠিকাদার সিরাজুল ইসলাম সিরুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে রাত ১০টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যার পর অজ্ঞাতদের আসামি করে তার স্ত্রী জোছনা বেগম মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। হত্যায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ওই মামলায় র?্যাব দুইজন ও পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করে। এরমধ্যে সুজন মিয়া, সজীব হোসেন রুবেল, অহিদ ও তানভীর ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সুমন শেখ নামে আরেকজন দু’দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, আর্থিক, প্রভাব বিস্তার ও ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বদ্বের জেরে হত্যা করা হয়েছে সিরুকে। নিহতের পরিবারের দাবি, সিরু মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। স্থানীয় প্রভাবশালী ও মাদক কারবারিদের যোগসাজশে সিরুকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। জানা গেছে, সিরুর সঙ্গে স্থানীয় যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের রাজনীতি করা দুইজনের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। সিরু যেসব জায়গায় ঠিকাদারির কাজ করতেন, সেখানেই বাধা দিতেন তারা। একইভাবে শেখেরটেক, ঢাকা উদ্যানসহ আশপাশের এলাকায় অন্যান্য নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠান থেকেও তারা নিয়মিত চাঁদা ওঠান। এই চাঁদা ওঠানোর ক্ষেত্রে বাধা দেয়ায় খুন করা হয় সিরুকে।

নিহতের স্ত্রী জোছনা বেগম জানান, আমার স্বামীর সঙ্গে কারও শক্রতা বা দ্বদ্বের তথ্য এর আগে কখনও পাইনি। সেদিন বাসায় এসেও ঘরে ঢোকেননি তিনি। তার ঢাকায় ফেরার খবরে রাতের খাবারের ব্যবস্থাও করেছিলাম। কিন্তু লোকটাকে রাতে আর খেতে দিতে পারিনি। ফিরেছেন লাশ হয়ে। তাকে যারা হত্যা করেছে আমি তাদের ফাঁসি চাই। সিরুর বড় ছেলে মো. মামুন বলেন, বাড়ি নির্মাণে ইট, বালু, পাথর সরবরাহের কাজ করতেন বাবা। কয়েক বছর ধরে স্থানীয় কয়েকজনের কারণে কাজ করতে পারছিলেন না। বাধ্য হয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র কাজ করতেন। শেখেরটেক, ঢাকা উদ্যানসহ আশপাশের এলাকায় ঠিকাদারির কাজ করছিলেন তিনি।

মামুন আরও বলেন, আমার বাবা কেমন তা এলাকার যে কাউকে জিজ্ঞাসা করেন, বলে দেবে। আমরা বিশ্বাস করি, র‌্যাব বা পুলিশ যাদের গ্রেফতার করেছে তারা হয়তো বাবাকে খুন করেছে, কিন্তু তারা মূলহোতা নয়। তাদের সঙ্গে বাবার কোন স্বার্থের দ্বদ্বও ছিল না। গ্রেফতার সবাই আমার বয়সী। তাদের অন্য কেউ ব্যবহার করেছে। যারা তাদের দিয়ে আমার বাবাকে হত্যা করিয়েছে, তারা এখনও এলাকায় আছে। বুক ফুলিয়ে ঘুরছে। বাবার মৃত্যুর পরও হুমকি আসছে। তাদের গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সব বেরিয়ে আসবে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরীফুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতার সুজন ও তার ভাই শাহিন ফোন করে সেদিন সিরুকে ডেকে এনেছিলেন। সুজন গ্রেফতার হলেও শাহিন পলাতক। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছি তাদের হত্যায় ব্যবহার করা হয়েছে। নেপথ্যে যেই থাকুক তাকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। র্যাব-২ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, টাকা-ব্যবসা নিয়ে সিরুর সঙ্গে পূর্বশক্রতা ছিল একটি পক্ষের। কয়েক মাস আগে সিরুর সঙ্গে বাগবিতন্ডা হয়েছিল। সিরু কিলিং মিশনে সুজনই নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে এর পেছনে আরও কেউ জড়িত বলে সন্দেহ পরিবারের। আমরা সেটা খতিয়ে দেখছি।

মোহাম্মদপুর থানার ওসি আবদুল লতিফ বলেন, সিরুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড ডিটেইলস আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে চেয়েছি। এটা পেলে তদন্তে অগ্রগতি আসবে আশা করছি। তিনি বলেন, মোট পাঁচজন গ্রেফতার হয়েছে। এর মধ্যে ১৬৪ ধারায় চারজন আদালতে হত্যায় জড়িত থাকার ব্যাপারে স্বীকার করেছে। হত্যার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে পূর্বশক্রতা। কী কারণে বা স্বার্থে এমন হত্যাকাণ্ড হয়েছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে।