menu

গণতান্ত্রিক শ্রম আইন চান শ্রমিক নেতারা

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০

শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষায় একটি গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশ (ইনসাব) এর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নীচতলার নসরুল হামিদ মিলনায়তনে এক আলোচনাসভায় এই দাবি জানান নেতারা।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু। বিশেষ অতিথি ছিলেন গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান। সভাপতিত্ব করেন ইনসাবের সভাপতি মো. রবিউল ইসলাম। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রাজ্জাক।

মোজাফফর হোসেন পল্টু বলেন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল শ্রমিক-কর্মচারীরাও। দেশটা স্বাধীন করার ক্ষেত্রে সব শ্রেণী-পেশার পাশাপাশি শ্রমিকদের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। বর্তমানে তাদের যেসব সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন তার নামমাত্র পরিমাণই শ্রমিকরা ভোগ করছে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি যদি ঐক্যবদ্ধ থাকত তাহলে আমাদের দেশ আরও উন্নতির দিকে যেত। কিন্তু রাজনীতির আকাশে বার বার কালো ধোঁয়ায় ভরে যায়। দেশের শ্রমজীবী মানুষদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমি বিশ্বাস করি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সরকার শ্রমবান্ধব। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার বাস্তবায়নের আশ্বোস দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, এবার আমরা মুজিব শতবর্ষ পালন করতে যাচ্ছি। ৭৫-এ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি দেশটাকে নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পাকিস্তান বানাতে চেয়েছিল। জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের হাল ধরার পর দেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়ে সব ষড়যন্ত্রকে রুখে দিয়ে আমরা এগিয়ে যাব। এটাই হোক মুজিববর্ষের অঙ্গীকার।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে আজীবন রাজনীতি করে আসছি। জননেত্রী শেখ হাসিনা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশটাকে আজ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করেছেন। যা ইতোমধ্যেই বিশ্বের স্বীকৃতি লাভ করেছে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এই সরকারের আমলেই নির্মাণ শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা হবে। ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমানে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে ৮৫% শ্রমিক-কর্মচারী তাদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছে। তিনি শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষায় একটি গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, নির্মাণ শ্রমিকদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করার জন্য কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর রয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে তাদর নির্মাণ শিল্পের দিকে কোন নজরদারি নেই বললেই চলে। যার কারণে প্রতিনিয়ত কর্মস্থলে নির্মাণ শ্রমিকরা দুর্ঘটনায় আহত-নিহত হচ্ছেন। নির্মাণ শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তার জন্য পেনশন স্কিম, রেশনিং ব্যবস্থা, বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য সরকারি প্রতিটি মেডিকেলে আলাদা ইউনিট স্থাপন করে দেশের নির্মাণ শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।