menu

রাজধানী

কোরবানির বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০

রাজধানী ঢাকায় দুই সিটি করপোরেশনে কোরবানির পশুবর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার বর্জ্য অপসারণের চিত্র ছিল আলাদা। মহামারীর কারণে এবার রাজধানীতে পশু কোরবানি হয়েছে অনেক কম। নগর কর্তৃপক্ষও সক্রিয় ছিল দ্রুত বর্জ্য অপসারণে। এর ফলে কম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয় প্রায় সব কার্যক্রম।

দুই সিটি করপোরেশন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব পশুবর্জ্য অপসারণের ঘোষণা দিয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো বর্জ্য অপসারণ করতে না পারলেও সিংহভাগ বর্জ্য অপসারণ করেছে কর্তৃপক্ষ।

তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রধান সড়কগুলোতে পশুবর্জ্য না থাকলেও কিছু অলিগলি ও ঘিঞ্জি এলাকায় এখনও পশুর রক্ত, হাড়গোড় এবং অবশিষ্টাংশ পড়ে আছে। কিছু এলাকার চিত্র নাজুক হলেও অধিকাংশ এলাকাই এখন পরিচ্ছন্ন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এম সাইদুর জানান, এবারের কোরবানিতে কয়েকটি বিষয় লক্ষণীয় ছিল। ডিএনসিসির নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানির সংখ্যা বেড়েছে। নগরবাসীর মধ্যে ব্যাগে বর্জ্য ঢুকিয়ে নির্ধারিত স্থানে রাখার প্রবণতা ছিল। ব্লিচিং পাউডারও ব্যবহার করেছেন অনেকে। সর্বোপরি গণমাধ্যমের প্রচারণার কারণে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ডিএনসিসির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেয়া ছিল। আগামী বছর আরও কিছু বিষয়ে ডিএনসিসির উদ্যোগ নিতে হবে। তাহলে আরও দ্রুত সময়ে নগরী পরিচ্ছন্ন হয়ে যাবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর বদরুল আমিন বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৭৫টি ওয়ার্ডের ৫৮টি ওয়ার্ড থেকে শতভাগ বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। বাকি ওয়ার্ডগুলোর ৮০ শতাংশ বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। এ সময়ে ৮ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে।

ডিএনসিসি আরও জানায়, প্রায় সব স্তরের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বর্জ্য অপসারণের কাজে যুক্ত ছিলেন। এবার কোরবানির বর্জ্য অপসারণে নিজস্ব ২ হাজার ৬৬৭ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী এবং অন্যান্য ব্যবস্থাপনাসহ সর্বমোট ১১ হাজার ৫০৮ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিরলস পরিশ্রম করে ঢাকা শহরকে বর্জ্যমুক্ত করেছেন। এই সমন্বিত কার্যক্রমের ফলে নির্ধারিত সময়ের মাঝেই রাজধানীর অধিকাংশ স্থানই এখন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন।

কোরবানি দেয়ার স্থান, পশুর বর্জ্য অপসারণ ইত্যাদি সংক্রান্ত তথ্য জানার জন্য ডিএনসিসির নগর ভবনে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। ৩ অগাস্ট পর্যন্ত এই কন্ট্রোল রুম সার্বক্ষণিক খোলা রাখা হয়েছিল। কোথাও কোরবানি পশুর বর্জ্য থেকে গেলে নগরবাসী যাতে রিপোর্ট করতে পারে এজন্য একটি অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। অ্যাপটির লিংক ডিএনসিসির ওয়েবসাইট ও ফেইসবুকে দেয়া হয়েছে। এটি ডাউনলোড করে ওপেন করে ছবি তুলে পাঠালে ডিএনসিসি জানতে পারবে কোথায় বর্জ্য রয়ে গেছে। বর্জ্য পড়ে থাকার তথ্য মিললে সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।

কোরবানির পশুর বর্জ্য সুষ্ঠুভাবে অপসারণের জন্য অতিরিক্ত জনবল ও যানবাহন বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। মাঠ পর্যায়ে ডিএনসিসির নিজস্ব, আউটসোর্সিং এবং প্রাইমারি ওয়েস্ট কালেকশন সার্ভিস প্রোভাইডার (পিডব্লিউসিএসপি) কর্মীসহ মোট ১১ হাজার ৫০৮ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী এবং ডিএনসিসির সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী প্রস্তুত ছিল। এ জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছিল।