menu

বন্দুকযুদ্ধে

কক্সবাজারে ৩, যশোরে ডাকাত দলের নেতা নিহত

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • ঢাকা , বুধবার, ১৫ মে ২০১৯

পৃথক ঘটনায় বন্দুক যুদ্ধে কক্সবাজার ও যশোরে ৪ জন নিহত হয়েছে। প্রতিনিধিরা এ খবর জানান।

কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, কক্সবাজার শহরে ও টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ২ মানব পাচারকারী ও এক ইয়াবা কারবারীসহ মোট ৩ জন নিহত হয়েছে। এ সময় পৃথক ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল ভোররাতে কক্সবাজার সৈকতের ডায়াবেটিক পয়েন্ট ও টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন সৈকত এলাকায় পৃথক এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহত মাদক কারবারী সৈয়দ মোস্তফা ভুলু (৩৫) শহরের পাহাড়তলীর রোহিঙ্গা জহির হাজির ছেলে। তার বিরুদ্ধে মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। কক্সবাজার সদর থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ২ রোহিঙ্গা মানব পাচারকারী নিহত হয়েছে। নিহতরা হলোÑ টেকনাফের বাহারছড়া শামলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আবদুর রহিমের ছেলে আজিম উল্লাহ (২৫) ও জামতলী ক্যাম্পের মৃত রহিম আলীর ছেলে আব্দুস সালাম (৫২)। টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় দুটি অস্ত্র ও ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে যশোর অফিস জানায়, যশোরে মহাসড়কে গাছ ফেলে ডাকাতির সময় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ডাকাত দলের নেতা আবুল কাশেম (৪২) নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে যশোর-মাগুরা মহাসড়কের নোঙ্গরপুরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবুল কাশেম যশোরের মণিরামপুর উপজেলার শোলাপুর গ্রামের কলিমুদ্দিনের ছেলে। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে যশোরের মণিরামপুর, কেশবপুর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এই ঘটনার পর আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ১১ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

ডাকাত সিন্ডিকেটের আটক সদস্যরা হলো- খুলনার ডুমুরিয়ার চাকুন্দিয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের শাহিনুর (৩৫), চুকনগর দক্ষিণপাড়ার শহিদুল গাজী (৩৫), চুপনগর গ্রামের ধনি রাম দাস (৪০), একই উপজেলার উত্তর বেতা গ্রামের আজিবর গাজী (৪৮), চাকুন্দিয়া গ্রামের বাবর আলী শেখ ওরফে বাবু (৩৬), যশোর সদর উপজেলার সিরাজসিংহা গ্রামের আসলাম বিশ্বাস (২৯), মণিরামপুর উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের আসলাম হোসেন ওরফে ইমরান (২২) ও একই গ্রামের মিজানুর রহমান ওরফে মিন্টু (৪০), ইত্তা মাঠপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৩১), সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ওহিদুজ্জামান বাবু (৩২), খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মিজানুর গাজী (৩৬)।

মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেসব্রিফিং করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন) মুহাম্মদ সালাউদ্দিন শিকদার। তিনি বলেন, একজন ডাকাত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। ডাকাত সিন্ডিকেটের ১১ সদস্যকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। আটকৃতদের কাছ থেকে অনেক তথ্য পেয়েছি। পুলিশের তৎপরতায় যশোর, সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার মানুষের মধ্যে ডাকাত আতঙ্ক কমে যাবে। মানুষ স্বস্তিতে রাত কাটাতে পারবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উল্লেখ করেন, ১৪ মে রাত পৌনে ৩টার দিকে যশোর-মাগুরা মহাসড়কে সদর উপজেলার নোঙ্গরপুর মাজার সংলগ্ন এলাকায় গাছ ফেলে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল ডাকাতরা। এ খবর পেয়ে টহল পুলিশ সেখানে যায়। পুলিশের গাড়ির আলো দেখে তারা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। পুলিশও আত্মরক্ষায় তিন রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেন। এক পর্যায়ে ডাকাতদল পালিয়ে যায়। পরে পাকা রাস্তার পশ্চিম পাশে একজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় তার কাছ থেকে ম্যাগজিনসহ একটি পিস্তল, ৩ রাউন্ড গুলি ভরা ম্যাগজিন, তিনটি হাসুয়া, একজোড়া লাল রঙের স্যান্ডেল, একটি হাত করাত, ১৫ গজ নাইলনের দড়ি, ৬টি স্যান্ডেল ও ৫টি বাঁশের লাঠি উদ্ধার করা হয়। অজ্ঞাত ব্যক্তিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। নিহত ব্যক্তি ডাকাত দলের নেতা আবুল কাশেম।