menu

ঢাকা রেঞ্জের

এসপির বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা

সংবাদ :
  • আদালত বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

ঢাকা রেঞ্জের পুলিশ সুপার (ট্রেনিং অ্যান্ড মিডিয়া) জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণের মামলা হয়েছে। গতকাল বাদী হয়ে মামলাটি করেন গোপালগঞ্জের গোবরা এলাকার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে ব্যবসায়ী জাকির হোসে চৌধুরী। পরে ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতের বিচারক উৎপল ভট্টাচার্য বিবাদীকে জবাব দাখিলের জন্য আগামী ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, জাকির হোসেন চৌধুরীর ভাই বাচ্চু হোসেন গোপালগঞ্জে বেকারির দোকানে কাজ করতেন। গোপালগঞ্জ সদর থানার তৎকালীন ওসি মনিরুল ইসলাম, এসআই গোলাম কিবরিয়া, সোর্স প্রবাল বিশ্বাস প্রায়ই দোকানে যাতায়াত করতেন। তারা দোকানের মালামাল নিয়ে টাকা না দিয়ে চলে যেতেন। একদিন এসআই গোলাম কিবরিয়া ও সোর্স প্রবাল বিশ্বাস এসে কফি খেতে চান। বাচ্চু হোসেন কফির পানি গরম নেই বলে তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এজন্য তারা বাচ্চুর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং পরিণাম কি বুঝতে পারবে বলে হুমকি দেন। গত বছরের ৭ মে প্রবাল বিশ্বাস ভিকটিম বাচ্চুর দোকানে চা খেয়ে চলে যান। এর কিছুক্ষণ পর তিনি ফিরে এসে বাচ্চুকে বলেন দোকানে একটি ব্যাগ ফেলে রেখে চলে গেছি। ব্যাগে এক লাখ ৬৫ হাজার টাকা ছিল। বাচ্চু ব্যাগটি পেয়েছে কি না জিজ্ঞাসা করেন। তখন বাচ্চু ব্যাগ পাইনি বলে জানান। পরে এসআই গোলাম কিবরিয়া বাচ্চুকে থানায় নিয়ে বেদম প্রহার করে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেন।

এরপর থানা থেকে বের হয়ে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বাচ্চু হোসেন। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে পুলিশ সদর দফতরে নির্যাতনের বিচার চেয়ে আবেদন করেন। এর তদন্তভার দেয়া হয় এসপি জিয়াউল হককে। তিনি গত বছরের ১৩ জুন ও ২২ জুলাই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাচ্চুকে ডেকে পাঠান। কিন্তু বাচ্চু অসুস্থ হওয়ায় যেতে পারেননি। পরে কিছুটা সুস্থ হলে তিনি এসপি জিয়াউল হকের কাছে যান। কিন্তু সেদিন তিনি তার সাক্ষাৎ পাননি। বাচ্চু হোসেন পরে সাক্ষাতের জন্য সময় প্রার্থনা করলেও তা আমলে নেয়া হয়নি। পরে অভিযোগের সত্যতা পাননি বলে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন জিয়াউল হক।

বাদীর অভিযোগ তার এ ধরনের প্রতিবেদনে ভিকটিমের পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তার এ ধরনের প্রতিবেদন শুধু দোষীদের রক্ষা করা নয় বরং বাদীর সুনামকে চরমভাবে ক্ষতি করেছে। যা তার অধিকার নেই। প্রতিবেদনে তার বক্তব্য মানহানীকর। ব্যক্তিগত, ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতি হয়েছে বাদীর যা অপূরণীয়।