menu

একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা ইন্দ্রমোহন রাজবংশীর জীবনাবসান

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী স্পিকারের শোক

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৮ এপ্রিল ২০২১
image

একুশে পদকপ্রাপ্ত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দ সৈনিক, লোকগানের শিল্পী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইন্দ্রমোহন রাজবংশী আর নেই। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুলফিকার আহমেদ আমিন।

তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী শোক প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় তারা এই লোকসংগীত শিল্পীর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান । পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বুকে ব্যাথা অনুভূত হলে ইন্দ্রমোহন রাজবংশীকে ঢাকার মহাখালীর মেট্রোপলিটন হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা করানো হয় এবং ফলাফল পজেটিভ হয়। এছাড়া বুকের সিটিস্ক্যান রিপোর্টে তার ফুসফুসে ৮৫ শতাংশ ইনফেকশন ধরা পড়ে। এরপর ঢাকার আরেকটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরিস্থিতির অবনতি হলে হাসপাতাল বদল করে দু’দিন আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। এখানেই তিনি মারা যান। ইন্দ্রমোহন রাজবংশীর স্ত্রী দীপ্তি রাজবংশীও অসুস্থ বলে সূত্র জানায়। একাত্তরের এ কণ্ঠযোদ্ধাকে গতকাল বিকাল চারটায় রাজারবাগ কালী মন্দির মহাশ্মশানে ‘গার্ড অব অনার’ দেয়া হয়, তারপর সেখানে তার শেষকৃত্যের আয়োজন করা হয়।

ইন্দ্রমোহন ১৯৪৬ সালের ২৬ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫০ সালে তিনি তার দাদা কৃষ্ণ দাস রাজবংশীর কাছে সংগীতে তালিম নেন। ইন্দ্রমোহন রাজবংশী যাত্রা, পালা গান, ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি, জারি, সারি, মুর্শিদি, নজরুল গীতিসহ বিভিন্ন ধরনের গান গাইতেন। ১৯৭৪ সালে তিনি সরকারি সংগীত কলেজে যোগ দেন। সেখানে তিনি লোকসংগীত বিভাগের প্রধান হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তিনি বাংলাদেশ লোকসংগীত পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা। বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে তিনি নজরুল গীতির উপর ৫ বছরের কোর্স সম্পাদন করেন। চলচ্চিত্র, বেতার ও টেলিভিশন অনেক গান গেয়েছেন তিনি। ১৯৬৭ সালে ‘চেনা অচেনা’ চলচ্চিত্রের গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে প্লেব্যাক শুরু করেন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হলে ইন্দ্রমোহন রাজবংশী যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য মনস্থির করেন। কিন্তু পাকিস্তানিদের হাতে ধরা পড়ে যাওয়ায় সম্মুখ যুদ্ধে তিনি যেতে পারেননি। পাকিস্তানিরা সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দুদের ওপর অকথ্য নির্যাতন করায় ইন্দ্রমোহন রাজবংশী নিজের নাম পরিচয় গোপন করে পাকিস্তানিদের দোভাষী হিসেবে কাজ করেন কিছুদিন। পরবর্তী সময়ে সেখান থেকে চলে এসে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা দিতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গান গাওয়া শুরু করেন ইন্দ্রমোহন রাজবংশী। গান গাওয়ার পাশাপাশি তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকগান সংগ্রহ করতেন। এক হাজারেরও বেশি কবির লেখা কয়েক লাখ গান সংগ্রহ করেছেন ইন্দ্রমোহন রাজবংশী।

ইন্দ্রমোহন রাজবংশী সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৮ সালে একুশে পদক লাভ করেন।