menu

ইগলু আইসক্রিমকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , বুধবার, ১৫ মে ২০১৯

রাজধানীর শ্যামপুরে আবদুল মোনেম লিমিটেডের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইগলু আইসক্রিমের ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালিয়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় এ অভিযান শুরু হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তুষার আহমেদ। অভিযানে গিয়ে তারা ফ্যাক্টরির বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। এ সময় দেখতে পান, আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী আইসক্রিম যে তাপমাত্রায় রাখার কথা, ইগলুর রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রা এর চেয়ে অনেক বেশি ছিল। এছাড়া ম্যাজিস্ট্রেট ফ্যাক্টরির ভেতরে বিচ্ছিন্নভাবে প্যাকেটভরা গলিত আইসক্রিম পড়ে থাকতে দেখেন। অভিযানে ইগলুর যে ত্রুটি-বিচ্যুতি পাওয়া গেছে, এগুলোর বিষয়ে তাদের কাছে ব্যাখ্যা চান ম্যাজিস্ট্রেট। ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ অনুসারে তাদের ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানের বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তুষার আহমেদ বলেন, আইসক্রিম তৈরির মেশিনের দুটি দিক থাকে। একদিক থেকে কাঠি ঢোকানো হয়, আরেকদিক থেকে আইসক্রিম তৈরি হয়ে বাইরে বের হয় (এক্সিট পয়েন্ট)। যেখানে আইসক্রিমগুলো বের হয়, ওই জায়গাটি অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। এ কারণে নিরাপদ খাদ্য আইনের ৩৩ ধারায় তাদের ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি পণ্য মোড়কীকরণ ও লেবেলিং রেগুলেশনের শর্ত পুরোপুরি না মানায় আইনের ৩২ (ক) ধারায় আরও ২ লাখ টাকায় জরিমানা করা হয়। নিরাপদ খাদ্য আইনের ৩২ (ক) ধারায় উল্লেখ আছে, পণ্য সরকার নির্ধারিত মোড়কীকরণ, চিহ্নিতকরণ ও লেবেল সংযোজন ছাড়া বিতরণ বা বিক্রি করা যাবে না। অন্যদিকে ৩৩ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বিবেচিত প্রক্রিয়ায় খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, বিক্রি করা যাবে না।

এদিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও পণ্যের মোড়কে মূল্য লেখা না থাকায় ৮ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। গতকাল রাজধানীর দক্ষিণখান, উত্তরা পশ্চিম ও তুরাগ থানা এলাকায় রমজান উপলক্ষে বিশেষ অভিযানে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (উপ-সচিব) মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অভিযান পরিচালনা করেন ঢাকা বিভাগের কার্যালয় সহকারী পরিচালক আফরোজা রহমান ও সহকারী পরিচালক আতিয়া সুলতানা।

সহকারী পরিচালক আফরোজা রহমান জানান, দক্ষিণখান, উত্তরা পশ্চিম ও তুরাগ থানা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের অপরাধে আমির হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে ৫০ হাজার, তানিয়া বেকারিকে ৫০ হাজার, একতা বেকারিকে ২৫ হাজার, হিমালয় রেস্টুরেন্টকে ৩০ হাজার ও খাজানা রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড কাবাবঘরকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া পণ্যের মোড়কে এমআরপি লেখা না থাকার অপরাধে বাজাজ ফ্রুটসকে ২ হাজার, উত্তরা ফ্রুটসকে ২ হাজার ও সাব্বির ফ্রুটসকে ২ হাজার টাকাসহ ৮ প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান (এপিবিএন) ১-এর সদস্যরা।