menu

আম্ফানে লণ্ডভণ্ড সবজি গ্রাম

সংবাদ :
  • মিলন কর্মকার রাজু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
  • ঢাকা , শনিবার, ২৩ মে ২০২০

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার সবজি গ্রাম খ্যাত নীলগঞ্জ এখন বিবর্ণ হয়ে গেছে। শতশত হেক্টর জমির গ্রীস্মকালীন সবজির ক্ষেত বাতাসের মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। আর এক সপ্তাহ পর যেসব সবজি বাজারে বিক্রি করতে পারতো তা বাতাসের ঝাপটায় গোড়া থেকে উপড়ে ও ছিড়ে যাওয়ায় ক্ষেতেই মরে গেছে ৮০ ভাগ গাছ ও ফষল। এ কারণে এখন কৃষকরা সেই গাছগুলো গরুর খাবার হিসেবে ব্যবহার করছে। অথচ সপ্তাহ পার হলেই শুধুমাত্র নীলগঞ্জ থেকে অন্তত ১৫ কোটি টাকার সবজি বিক্রি করতো কৃষকরা। যদিও কলাপাড়া কৃষি বিভাগ প্রাথমিকভাবে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ৩০ কোটি টাকা ফষল নষ্ট হয়ে গেছে জানালেও বাস্তব চিত্র আরও ভয়াবহ।

কলাপাড়া কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে উপজেলায় ২৮৭৫ হেক্টর জমির ফষল নষ্ট হয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। এরমধ্যে সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়েছে এক হাজার হেক্টর জমির। তবে কৃষকরা অভিযোগ করেছেন কৃষি বিভাগের কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ না করেই মনগড়া তথ্য দিয়েছে।

নীলগঞ্জের সলিমপুর গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ৪০ হাজার টাকা ঋণ করে দুই বিঘা জমিতে বরবটি, মরিচ, ঢেড়শসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করেছিলেন। ক্ষেতে ফলও ধরেছিল। আর এক সপ্তাহ সময় পেলে এসব সবজি বিক্রি করে অন্তত লক্ষাধিক টাকা আয় হতো। কিন্তু এক রাতের ঝড়ে তার সব শেষ। আম্ফান শুধু তার ফষল কেড়ে নেয়নি, করে দিয়ে গেছে ঋণী। সে জানায়, এখন ব্যাংকের কিস্তি আদায় বন্ধ। কিন্তু আগামী মাস হতেই তাকে প্রতি সপ্তাহে এক হাজার টাকা কিস্তি দিতে হবে। মাঠ তো দেখছেন-সব গাছ মরে শেষ। এখন ভবিষৎ কি হবে তা তিনি জানেন না। অথচ কৃষি বিভাগ থেকে তার নাম তালিকাবদ্ধ হয়নি।

নীলগঞ্জের এ কৃষকদের মতো একই অবস্থা উপজেলার অধিকাংশ কৃষকের। বিস্তীর্ণ ফষলের মাঠে তিনদিন আগেও ভরে ছিল ঢেড়শ, লাউ, করলা, বরবটি, বাদাম, ডাল, মিষ্টি আলু, মরিচসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি। গতকাল সকালে গিয়ে এসব ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায় আম্ফানের ঝড়ের ঝাপটায় সব গাছ মরে বিবর্ণ হয়ে গেছে। কৃষকরা ব্যস্ত এখন ক্ষেতের মরে যাওয়া গাছ তুলে ফেলতে। নতুন স্বপ্ন নিয়ে কেউ কেউ আবার নতুন ফষলের বেড তৈরিতে ব্যস্ত।

কৃষকরা বলেন- যে লাউয়ের মাচায় দুইদিন আগেও শতশত লাউ দুলছিলো। একরাতে ঝড়ে সব শেষ। মাচার নিছে ছোট ছোট লাউগুলো দুলতে দেখা গেলেও ঝড়ে পড়ে গেছে সব বড় লাউ। ঝড়ে লাউয়ের গাছগুলো মরে বিবর্ণ হতে শুরু করেছে। মরে গেছে পাতা। একই অবস্থা করলা, মরিচ ও বরবটি ক্ষেতের।

কৃষকরা বলেন, এখন যদি সরকার তাদের কৃষিতে প্রনোদনা ও ব্যাংক ঋণ মওকুফ না করে তাহলে তাদের ঋণের বোজা মাথায় নিয়ে এলাকা ছাড়তে হবে।

এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, প্রাথমিক ভাবে ৩০ কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতির তালিকা উপজেলা প্রশাসনে কাছে জমা দেয়া হয়েছে। তাদের তালিকা আপডেট করার কাজ চলছে। সরকারি সহায়তা আসলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্থ্য কৃষকরা আগে প্রনোদনার সহায়তা পাবেন।