menu

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে খনি কর্মকর্তাদের সংঘর্ষ : আহত ৬

সংবাদ :
  • চিত্ত ঘোষ, দিনাজপুর
  • ঢাকা , বুধবার, ১৬ মে ২০১৮

১৩ দফা দাবিতে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারী-ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীর সঙ্গে কয়লাখনির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংঘর্ষের ঘটনায় এক পুলিশ সদস্যসহ ৬ জন আহত হয়েছেন। দুইজনকে এম. আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত খনির ব্যবস্থাপক সৈয়দ ইমাম হাসান বলেন, গতকাল সকাল পৌনে নয়টায় তিনিসহ অন্তত দশজন কর্মকর্তা খনির প্রধান ফটক দিয়ে অফিসে যাওয়া সময় খনি গেটে আন্দোলনকারী শ্রমিকরা ও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীর ব্যানারে আন্দোলনকারীরা বাধাসহ মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেয়। এ সময় তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে খনির মহাব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামানসহ অন্য কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আসলে স্থানীয় মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে আন্দোলনকারীরা লাঠিসোটা নিয়ে আকস্মিকভাবে কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালিয়ে মারপিট করে। এতে অন্তত ৬ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। আহত কর্মকর্তারা ও কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য হলেন, খনির মহাব্যবস্থাপক (পিএন্ডপি) এবিএম কামরুজ্জামান, ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) সৈয়দ ইমাম হাসান, ব্যবস্থাপক (পার্সনাল) ছানাউল্লাহ্ হক, সহকারী ব্যবস্থাপক জাহিদুর রহমান, সহকারী ব্যবস্থাপক সাজেউল ইসলাম সাজু, উপ-ব্যবস্থাপক কমল মল্লিক ও বড়পুকুরিয়া পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ কনস্টেবল শাহানুর আলম শাহী। আহতদের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে সহকারী ব্যবস্থাপক সাজেউল ইসলাম সাজু ও ব্যবস্থাপক (পার্সনাল) ছানাউল্লাহ্ হককে দিনাজপুর এম. আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এ ঘটনার পরপরই গোটা খনি এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ এড়াতে খনির প্রধান ফটকসহ খনি এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি থমথমে বিরাজ করছে। পরিবার পরিজন নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন খনির আবাসিক এলাকায় বসবাসরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। আন্দোলনকারী কয়লাখনি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ও ক্ষতিগ্রস্ত ২০ গ্রামের সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক মশিউর রহমান বুলবুল বলেন, খনির প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনকালে খনির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা লাঠি-শোটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে এনামুল হক ও রাকিবসহ সাতজন আহত হয়েছে। ফুলবাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উভয়পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করা হচ্ছে। আশা করা যায় একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে। বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. হাবিব উদ্দিন বলেন, কর্মকর্তাদের ওপর বর্বরোচিত হামলার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।