menu

নিয়তি রায়ের নিয়তি!

১০ বছরে আড়াই কোটি টাকার সম্পদ অর্জন

সংবাদ :
  • যশোর অফিস
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮

দশ বছরের ব্যবধানে কোটিপতি বনে গেছেন নিয়তি রায়। স্বামী রণজিত কুমার রায় সংসদ সদস্য হওয়ার পর হু হু করে বেড়ে গেছে তার অর্থ-সম্পদ। পেশায় গৃহিণী নিয়তির এখন রয়েছে আড়াই কোটি টাকার বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট, ডিপিএস। অথচ ২০০৮ সালের দিকে এমপি রণজিতের স্ত্রীর সম্পত্তি বলতে ছিল শুধুমাত্র হাতে নগদ ৭৫ হাজার টাকা। সেসময় স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও কোন টাকা ছিল না।

রণজিত রায়ের তিনটি নির্বাচনী হলফনামার পর্যালোচনা করে তার স্ত্রীর প্রচুর বিত্তবৈভবের মালিক হওয়ার তথ্য মিলেছে। দশ বছর ধরে রণজিত রায় যশোর-৪ (অভয়নগর-বাঘারপাড়া) আসনের এমপি। নবম সংসদ নির্বাচনের সময় দাখিল করা হলফনামায় তার স্ত্রীর হাতে নগদের পরিমাণ ছিল ৭০ হাজার টাকা। সে সময় তার স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোন টাকা ছিল না। এছাড়া তখনকার হলফনামায় তার স্ত্রীর নামে কোন ধরনের সঞ্চয়ী বা স্থায়ী আমানত, বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাটের উল্লেখ ছিল না। কিন্তু দশম সংসদ নির্বাচনের সময় দেয়া হলফনামায় দেখা যায় তার স্ত্রীর হাতে নগদের পরিমাণ ৩ লাখ টাকা। এবারের সংসদ নির্বাচনের জন্য দেয়া হলফনামায় স্ত্রীর হাতে নগদের পরিমাণ ৩৪ লাখ টাকা। দশম সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় রণজিতের স্ত্রীর ব্যাংকে গচ্ছিত ছিল ১ কোটি ১৩ লাখ ২৭ হাজার ১৬০ টাকা। তবে এবারের হলফনামায় দেখা যায় নিয়তি রায়ের ব্যাংকে কোন টাকা নেই। দশম ও এবাবের একাদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী তার স্ত্রীর নামে ১৬ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের প্রাইভেটকার রয়েছে। দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে ৫০ লাখ টাকা দামের। এদিকে দশম সংসদ নির্বাচনের সময় দেয়া হলফনামায় স্ত্রীর ৪৪ লাখ টাকার দালান বাড়ি ছিল। এবারের হলফনামায় স্ত্রীর নামে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৭২ হাজার টাকা মূল্যের ৩টি বাড়ি আছে। আগের নির্বাচনের সময় স্ত্রীর নামে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার ডিপিএস ছিল। এবারের হলফনামা অনুযায়ী ডিপিএস রয়েছে ১৪ লাখ ৯০ হাজার টাকার। এতো নিয়তি রায়ের তথ্য।

স্বামী এমপি রণজিত রায়ের বেড়েছে ধন-সম্পদ। ২০০৮ সালে এই জনপ্রতিনিধির এক লাখ টাকা দামের চার বিঘা কৃষি জমি, চার শতক জমিতে আধাপাকা বাড়ি (যার দাম ৫০ হাজার) ও হাতে নগদ ছিল এক লাখ টাকা। এর দশ বছর পরে হাতে নগদ রয়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এক কোটি টাকা দামের দুটি জিপ গাড়ি ও ১২ বিঘা জমি রয়েছে। এছাড়া একটি দালানবাড়ি রয়েছে ৯০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রাজউকে অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। যার দাম ২৯ লাখ ১০ হাজার টাকা।