menu

দিনাজপুর নাট্যোৎসবের সমাপনীতে সংস্কৃতিমন্ত্রী

সংস্কৃতি কর্মীরা কোন অপশক্তির সঙ্গে কখনো আপস করে না

সংবাদ :
  • চিত্ত ঘোষ, দিনাজপুর
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৭ মে ২০১৮
image

দিনাজপুর : নাট্যেৎসবের সমাপনীতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতিমন্ত্রী -সংবাদ

নাট্য-সংস্কৃতি কর্মীরা কোন দেশে কোন কালে কোন অপশক্তির কাছে আপস করেছে বলে আমার জানা নেই। আমাদের দেশেও এর ব্যাতিক্রম লক্ষ্য করা যায়নি। স্বাধীনতার আগে বা পড়ে আমরা দেখছি সাম্প্রদায়িকতা-স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে নাট্য-সংস্কৃতি কর্মীরা সোচ্চার হয়েছেন প্রথমে। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধিতাকারী একজনও নাট্য-সংস্কৃতকর্মী দিনাজপুর হোক আর ঢাকাই হোক দেশের কোথায়ও খুঁজে পাওয়া যাবে না।

মঙ্গলবার রাতে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী নাট্য প্রতিষ্ঠান দিনাজপুর নাট্য সমিতি মাসব্যাপী আয়োজিত মির্জা আনোয়ারুল ইসলাম তানু স্মরণে ‘দ্বাবিংশ দিনাজপুর নাট্যোৎসব ও প্রতিযোগিতা-২০১৮’র সমিতির সভাপতি চিত্ত ঘোষের সভাপতিত্বে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেশের প্রখ্যাত নাট্যজন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি একথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাট্যোৎসবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ইকবালুর রহিম এমপি, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব কবির বিন আনোয়ার, জেলা প্রশাসক ড. আবু নঈম মুহাম্মদ আবদুছ ছবুর, দিনাজপুর নাট্য সমিতির অধ্যক্ষ রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত নাট্যজন কাজী বোরহান। সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক সুলতান কামাল উদ্দিন বাচ্চুর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন নাট্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউর রহমান রেজু ও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নাট্যোৎসব উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক ড. সৈয়দ টিটো রেদওয়ান।

সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতেও দেশের নাট্য-সংস্কতি কর্মীরা প্রথমে সোচ্চার হয়েছিলেন। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধেও এই সংস্কতি কর্মীরা সোচ্চার হয়ে দেশবাসীকে শক্তি যুগিয়েছেন।

তিনি বলেন, মাসব্যাপী নাট্যোৎসবের সমাপনীতে আজ নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন রচিত ও নয়ন বার্টেলের নির্দেশনায় ‘আতর আলীদের নীলাভ পাট’ নাটক দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। নাটকের অভিনয়,মঞ্চ সজ্জা, মেকআপ সবকিছু মিলে চমৎকার। অন্য জেলা শহরে নয় ঢাকাতেও এ ধরনের নাটক কম হয়। তিনি নাট্য সমিতির মাসব্যাপী এই নাট্যোৎসব আয়োজনের প্রশংসা করে বলেন, এই উৎসবে নাট্য সমিতির নিজস্ব ৪টি নাটকসহ দিনাজপুরের ৬টি নাটকের দল, ভারতের ৪টিসহ মোট ২২টি নাট্যদল অংশ নিয়েছে, এটা নিঃসন্দেহে আশার খবর। সরকার সংস্কৃতি চর্চা সম্প্রসারণে ও এর পৃষ্ঠপোষকতায় নানা কর্মসূচি নিয়েছে।

বিশেষ অতিথি ইকবালুর রহিম বলেন, সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে দিনাজপুরের ঐতিহ্য রয়েছে, শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী দিনাজপুর নাট্য সমিতি ১৯৬৩ সাল হতে ধারাবাহিকভাবে দর্শনীর বিনিময়ে এই নাট্যোৎসব ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে। তিনি এ উৎসবকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে অন্তর্ভুক্ত করে মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতা করার জন্য মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

কবির বিন আনোয়ার বলেন, আমি মুগ্ধ হয়েছি মফস্বল শহরে এ ধরনের আয়োজন দেখে। সরকার অবশ্যই এ ধরনের আয়োজনকে পৃষ্ঠপোষকতা করতে এগিয়ে আসবে। শতবর্ষী এই নাট্য প্রতিষ্ঠানের আধুনিকীকরণের জন্য তার অবস্থান থেকে তিনি চেষ্টা করবেন।

পরে দ্বাবিংশ দিনাজপুর নাট্যোৎসবের অভিনেতাদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিরা।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ এই নাট্যোৎসব ও প্রতিযোগিতার শুরু হয়।