menu

জোড়া অবস্থা থেকে পৃথক করার পর

রাবেয়া ও রোকেয়ার অবস্থা উন্নতির দিকে

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , রবিবার, ১১ আগস্ট ২০১৯
image

পাবনার শিক্ষক দম্পতির ঘরে মাথা জোড়া অবস্থায় জম্ম নেয়া দুই বোনকে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচএস) জটিল অপারেশনের মাধ্যমে পৃথক করণের ৮ দিন অতিবাহিত হয়েছে। ৩৩ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস এ অপারেশনের পর দুই বোন বর্তমানে সামরিক হাসপাতালে নিবির পর্যবেক্ষণে রয়েছে। স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলেও এখন পর্যন্ত কোন অসুবিধা হয়নি এ দুইবোনের। তাদের অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিএমএইচ কর্তৃপক্ষ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ডা. হাবিব ই মিল্লাত, সামরিক চিকিৎসা সার্ভিস মহাপরিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারের মো. ফসিউরদ রহমান, সিএমইচের কমান্ড্যান্ট বিগ্রেডিয়ার জেনারেল তৌফিকুল হাসান, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সামন্ত লালপ্রমুখ। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দুই শিশুর মাথা আলাদা করার সফলতা এবং পরবর্তী অবস্থার সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পাবনার চাটমোহরে রফিকুল ইসলাম ও তাসলিমা বেগম দম্পতির ঘরে ২০১৬ সালের ১৬ জুলাই মাথা জোড়া অবস্থায় জন্ম নেয় বিরল দুই কন্যা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় কনজয়েন্ট টুইন অথবা মাথা জোড়া লাগানো জমজ বাচ্চা একটি চ্যালেঞ্জিং বিকলতা। ২.৫ মিলিয়ন জীবিত জমজ বাচ্চাদের মধ্যে মাত্র একটি মাথা জোড়া লাগানো বাচ্চা জন্ম নেয়। প্রায় ৪০% মাথা জোড়া লাগানো শিশু মৃত অবস্থায় জন্ম নেয় এবং আরও এক তৃতীয়াংশ শিশু ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যুবরণ করে। তবে শতকরা ২৫ ভাগ শিশু বেঁচে থাকে জমজ মাথা নিয়ে। যাদের শল্য চিকিৎসার মাধ্যমে আলাদা করার সুযোগ থাকে। এটি একটি বিরল ধরনের অপারেশন। সারা বিশ্বেই খুব অল্প পরিমাণে হয়েছে। সাফল্যের হারও খুব বেশি নয়। পাবনার একটি ক্লিনিকে শিক্ষক দম্পতি দুই শিশুর চিকিৎসার জন্য তারা পত্র লিখেন এবং প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের নিয়ে আসা হয়। ডা. হাবিব ই মিল্লাত এবং ডা. সামন্তলাল সেন সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেন। হাঙ্গেরির একশন ফর ডিফেন্সলেস পিপল এর ডা. গ্রেগ পাটাকি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এদের পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জটিল এই শল্য চিকিৎসা করা সম্ভব বলে মত দেন। প্রথম ধাপে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ২০১৯ মালের ৪ জানুয়ারি থেকে হাঙ্গেরিতে ৪৮টি ছোট-বড় সার্জারি সম্পন্ন করা হয়। পরে গত ২২ জুলাই রাবেয়া এবং রোকেয়ার অস্ত্রোপচারের জটিল অংশ ‘জমজ মস্তিষ্ক’ আলাদাকরণের কাজটি সম্পন্নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় হাঙ্গেরি থেকে তাদেরকে ঢাকা সিএমএইচ এ নিয়ে আসা হয়। সেনাপ্রধান সহযোগিতার জন্য ডিজিএমএস’কে বিস্তারিত নির্দেশনা দেন। গত ১ আগস্ট জোড়া মস্তিকের পৃথকীকরণের অপারেশন শুরু করা হয়। প্রায় ৩৩ ঘণ্টাব্যাপী অস্ত্রোপচার ২ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টায় শেষ হয়। এই অস্ত্রপচারে হাঙ্গেরির বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সিএমএইচ এর নিউরো অ্যানেসথেসিওলজিস্টদের তত্ত্বাবধানে নিউরো ও প্লাস্টিক সার্জনসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ, শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট, হার্ট ফাউন্ডেশন, নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালের প্রায় শতাধিক সার্জন ও অ্যানেসথেসিওলজিস্ট সম্পৃক্ত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমানে তারা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল ঢাকার পোস্ট অ্যানেসথেটিক কেয়ার ইউনিটতে অবস্থান করছে এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে এবং শিশু হাসপাতালের নিউরো ইনটেনসিভিস্টদের তত্ত্বাবধানের রয়েছে। রাবেয়া রোকেয়ার আরও একটি অপারেশন (ক্রেনিও প্লাস্টিক) নির্ধারিত রয়েছে ২-৩ মাস পর।