menu

কলাবাগানে ধর্ষণ-হত্যা

দ্রুত বিচার আইনে ন্যায় বিচার চান শিক্ষার্থীর মা

দিহানের ডোপ টেস্টের নির্দেশ

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২১

রাজধানীর কলাবাগানে মাস্টার মাইন্ড শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন তার মা। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে মহিলা পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে ওই শিক্ষার্থীর মা এ দাবি জানান। পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আরও কয়েকটি দাবি জানান তিনি। দাবিগুলো হচ্ছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ন্যায়বিচার করা, মামলা কার্যক্রম দ্রুতবিচার আইনে করা, দিহান ও তার সঙ্গীদের বিচারের আওতায় আনা, একটি সচ্ছল ডিএনএ পরীক্ষা কার্যকর করা এবং শিক্ষার্থীর পরিবার যেন কোন অযাচিত অসুবিধার শিকার না হয়, তার ব্যবস্থা করা।

সেদিনের ঘটনা উল্লেখ করে শিক্ষার্থীর মা বলেন, গত ৭ জানুয়ারি দিহান ও তার সঙ্গীরা আমার মেয়েকে অপহরণ করে তার বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে আমার মেয়েকে অমানবিক নির্যাতন, ধর্ষণ এবং হত্যার পর আমাকে ফোন করা হয়। দিহান আমাকে ফোন করে জানায়, সে (শিক্ষার্থী) সেন্সলেস হয়ে গেছে। আমি হসপিটালে এসে দেখি, দিহানসহ তার তিন সঙ্গী বসে আছে। তারা আমার পা জড়িয়ে ধরে বলে আন্টি আমাদের বাঁচান। যখন আমার মেয়েকে দেখতে চাই, তখন আমাকে দেখতে যেতে দেয়া হয়নি। কর্তব্যরত ডাক্তার আমাকে জানান, শিক্ষার্থী মারা গেছে। পরে দিহানের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করি, আমার মেয়েকে তোমরা কোথায় পেলে, কেন মারা গেল তখন সে আমাকে বলে-আমরা চারজন ওকে আমাদের বাসায় নিয়ে যাই এবং সেখানে সে সেন্সলেস হয়ে যায়। তখন আবার জিজ্ঞেস করি, বাসায় আর কোন মেয়ে ফ্রেন্ড ছিল না, বা তোমার বাবা মা ছিল না তখন বলে, না, আমরা চার জনই তাকে নিয়ে গিয়েছিলাম। এরপর আমার বুঝতে বাকি থাকে না, সেখানে কী হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা যেভাবে মামলাটি করতে চেয়েছি, পুলিশ সেভাবে মামলাটি নেয়নি। একটি মহল দিহান ও তার সঙ্গীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে এবং আমার মেয়ের চরিত্র হননের চেষ্টা করছে। বলা হচ্ছে, আমার মেয়ের সঙ্গে দিহানের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এটি একদমই ঠিক না। কিছু কর্মকর্তা সাক্ষাৎকার বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেটি প্রচার করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ওই শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, আমার মেয়েকে প্রতিটা মুহূর্তে আমি আমার মায়ের মতো করে রেখেছি। আমার পারমিশন ছাড়া, অথবা আমার সঙ্গে কথা না বলে সে কোথাও কিছু করতো না। ভবিষ্যতে প্রতিটা মুহূর্ত কী করবে সেটা আমার সঙ্গে কথা বলেই করতো। আমি আমার মেয়েকে সেভাবে গড়ে তুলেছি। এভাবে ওইদিনও যখন সে বিপদে পড়েছে, বা কোন ডিসিশন নিতে হবে ভেবেছে, তখন আমাকে জানাতে ফোন করেছে। আমার কষ্টের বিষয় ওই মুহূর্তে আমি কলটা ধরতে পারিনি। যদি সে সময় কলটি ধরতে পারতাম, তাহলে হয়তো এত বড় দুর্ঘটনা ঘটতো না। আমার একটাই চাওয়া আমি যেটা হারিয়েছি, এটা যেন আর কোন বাবা-মা কখনও না হারান।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, দিহানের এই পথে যাওয়ার পেছনে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের দাবি মেনে নিতে হবে। হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন অভিযোগ সেল গঠন করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিতে হবে। ময়নাতদন্তে চিকিৎসক বলেছেন, শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু শিক্ষার্থীর মায়ের দেখানো একটি ছবিতে দেখা গেছে, পিঠে কালশিটে দাগ রয়েছে, যা ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়নি।

দিহানের ডোপ টেস্টের নির্দেশ

আদালত বার্তা পরিবেশক

রাজধানীর কলাবাগানে ও লেভেল শিক্ষার্থীকে (১৭) ধর্ষণকালে আসামি দিহান (১৮) মাদক সেবন করেছিলেন কিনা তা পরীক্ষা করা হবে। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কলাবাগান থানার পুলিশ পরিদর্শক আ ফ ম আসাদুজ্জামান পরীক্ষার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম ইয়াসমিন আরা আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

আবেদনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা আসামি দিহান ধর্ষণকালে কোন মাদক সেবন করেছিলেন কিনা তা জানার জন্য তার ডোপ টেস্ট করা প্রয়োজন। দিহানের রক্ত থেকে নমুনা সংগ্রহপূর্বক পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞদের মতামত প্রয়োজন। কলাবাগান থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক স্বপন কুমার এ তথ্য জানান।

এর আগে গত ৮ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদের আদালতে দিহান দায় স্বীকার করে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়া ওই দিনই নিহত ছাত্রীর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্ত শেষে ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। ধর্ষণের ফলে যৌন ও পায়ুপথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। মৃত্যুর আগে চেতনানাশক কিছু খাওয়ানো হয়েছে কিনা, তার জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে কেমিক্যাল পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে। এসব রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলা যাবে।