menu

রংপুর সদর উপজেলার তিন ইউনিয়নে নির্বাচন মঙ্গলবার

আ’লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী, কোন প্রার্থী নেই বিএনপির

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
  • ঢাকা , রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২০

আগামী ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার রংপুর সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে সংশয় আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীদের। কোন প্রার্থী আচরণবিধি মানছেন না। কালো টাকার ছড়াছড়ি চলছে বলে অভিযোগ প্রার্থীদের। ফলে নির্বাচনে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কায় বিজিবি, র‌্যাব ও আর্মড পুলিশ মোতায়েনের ঘোষণা রিটানিং কর্মকর্তার।

রংপুর সদর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী মঙ্গলবার রংপুর সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইউনিয়ন তিনটি হলো- হরিদেবপুর, চন্দনপাট ও সদ্যপুষ্করিনী ইউনিয়ন। মোট ১৬ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এরমধ্যে হরিদেবপুরে ৫ জন, চন্দনপাটে ৬ জন ও সদ্যপুস্করিনীতে ৫ জন প্রার্থী রয়েছেন। হরিদেবপুর ইউনিয়নের ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে রয়েছে মফিজল ইসলাম জর্র্দা জাতীয় পার্টি, একরামুল হক আওয়ামী লীগ, আবুল হোসেন ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন, শাহিনুর আলম স্বতন্ত্র ও ইকবাল হোসেন স্বতন্ত্র। চন্দনপাট ইউনিয়ন পরিষদের ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন রুহুল আমিন লিটন জাতীয় পার্টি, আমিনুর রহমান আওয়ামী লীগ, মেরাজুল ইসলাম বিএনপি, দিলকাদুর রহমান, লিটন চৌধুরী স্বতন্ত্র ও সহিদুর রহমান স্বতন্ত্র। সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নের ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে রয়েছে ফজলুল হক জাতীয় পার্টি, মকছেদুর রহমান আওয়ামী লীগ, সোহেল রানা স্বতন্ত্র, মাহাবুল হক ও কৃষ্ণচন্দ্র বর্মন স্বতন্ত্র। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি তিনটি ইউনিয়নে তাদের চেয়ারম্যান প্রার্থী দিলেও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন এবং বিএনপি একটি করে ইউনিয়নে তাদের প্রার্থী দিয়েছে।

এদিকে একটি ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থী দিলেও তিনি নিজে নিজেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বাকি ২টি ইউনিয়নে বিএনপির কোন প্রার্থী নেই। চেয়ারম্যান প্রার্থীরা কেউই নির্বাচন আচরণবিধি মানছেন না বলে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ প্রার্থীদের। দুপুরের পর থেকে মাইকিং করার কথা বলা হলেও সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে মাইকিং। দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার লাগানো হয়েছে। সেই সঙ্গে কালো টাকা ছড়ানো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমর্থকদের হুমকি-ধামকি মোটরসাইকেল মহড়াসহ তিনটি ইউনিয়নে চলছে চরম উত্তেজনা, ফলে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা খোদ নির্বাচন কমিশনের। সদ্যপুস্করনী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোকসেদুর রহমান দুলু অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মাসুদ রানার বিরুদ্ধে কালো টাকা ছড়িয়ে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ আওয়ামী লীগ প্রার্থীর। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের টাকা বিলি করার অভিযোগও করেছেন তিনি। তবে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদ রানা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সাজানো ও মিথ্যা বলে দাবি করে উল্টো আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ তার সমর্থকদের নানানভাবে হুমকি-ধামকি প্রদান মোটরসাইকেল মহড়া প্রদর্শন ও রংপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নাসিমা জামান ববিকে নিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন। অন্যদিকে অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী কৃষ্ণ রঞ্জন বর্ম্মন আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেন। একই অভিযোগ চন্দনপাট ও হরিদেবপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের।

তবে তিনটি ইউনিয়নের প্রতিটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে নিজ দলের একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা সুবিধা পেতে পারেন বলে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। এর আগেও সদ্য পুস্করনী ইউনিয়ন পরিষদসহ তিনটি ইউনিয়নের নির্বাচনে নির্বাচনের দিন ব্যাপক সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটার কারণে এবারও নির্বাচনকে ঘিরে বড় ধরনের সহিংস ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ প্রকাশ করেছেন খোদ রিটানিং অফিসার।

সার্বিক বিষয় জানতে রংপুর সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটানিং অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে রেজাউল করিম বলেছেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে বিজিবি, র‌্যাব আমর্ড পুলিশসহ ব্যাপক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। আচরণবিধি দেখভালের জন্য ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।