menu

৩১ অক্টোবর দ্বিখন্ডিত কাশ্মীরের যাত্রা শুরু

সংবাদ ডেস্ক

  • ঢাকা , রবিবার, ১১ আগস্ট ২০১৯
image

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মবার্ষিকীতে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ আলাদা দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত হতে যাচ্ছে। আগামী ৩১ অক্টোবর বল্লভভাই প্যাটেলের ১৪৪তম জন্মবার্ষিকী। ওই দিনই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে বলে গত শনিবার জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি। এদিকে, ঈদুল আজহা উদযাপনকে সামনে রেখে জম্মু-কাশ্মীরে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করতে যাচ্ছে মোদি সরকার।

ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বলেই জম্মু ও কাশ্মীর এতদিন বিশেষ স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা পেয়ে আসছিল। ৬৯ বছর পর গত সোমবার রাষ্ট্রপতির আদেশে ভারতের সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা তুলে নেয় ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকার। ওই দিন রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ বলে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ আদেশ জারি করা হয়। দেশটির সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় স্বারষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল সংক্রান্ত প্রস্তাবটি তোলেন। এ ধারা বাতিল করার পাশাপাশি ওইদিন অমিত শাহ ‘জম্মু ও কাশ্মীর সংরক্ষণ বিল’ নামে নতুন একটি প্রস্তাব সংসদে তোলেন। বিরোধী দলগুলোর ঘোর আপত্তির পরও গত সপ্তাহে নিম্নকক্ষ লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে বিলটি পাস হয়। লোকসভায় বিলটি পাস হওয়ার পর তা উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় পাঠানো হয়। সেখানেও বিলটি পাস হলে অনুমোদনের জন্য তা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়। শনিবার রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ ওই বিলের অনুমোদন দেন।

পাস হওয়া বিল অনুযায়ী, জম্মু ও কাশ্মীর ভেঙে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল (ইউনিয়ন টেরিটোরি) করা হবে যথাক্রমে লাদাখ ও জম্মু ও কাশ্মীর নামে। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হওয়ার পর আপাতত এ দুটি অঞ্চলে দু’জন লেফটেন্যান্ট গভর্নর কেন্দ্র সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসনিক কর্মকান্ড পরিচালনা করবেন। জম্মু ও কাশ্মীরে আইনসভা থাকবে, তবে লাদাখে তা থাকবে না। যদিও জম্মু ও কাশ্মীর খুব বেশিদিন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থাকবে না বলে কাশ্মীরবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি শীঘ্রই সেখানে বিধানসভার নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে মোদি বলেন, ‘জম্মু-কাশ্মীরের জনগণই তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। সেখানে আগের মতো মুখ্যমন্ত্রীও থাকবে। ওই অঞ্চলে একবার শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে এলেই জম্মু-কাশ্মীর আবারও পুরোপুরি রাজ্য হয়ে যাবে।’ এদিকে, কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শনিবার (১০ আগস্ট) খুলে দেয়া হচ্ছে জম্মু ও কাশ্মীরের সব স্কুল ও কলেজ।

বুকারজয়ী ভারতীয় লেখক ও মানবাধিকারকর্মী অরুন্ধতী রায় কাশ্মীরকে দেখেন ‘একটি পরমাণু যুদ্ধক্ষেত্র এবং পৃথিবীর সবচেয়ে সামরিকীকরণকৃত এলাকা’ হিসেবে। ২০১৩ সালে ‘আফজাল গুরুর ফাঁসি ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য কলঙ্ক’ শীর্ষক নিবন্ধে তিনি বলেন, ‘এখানে [কাশ্মীরে] রয়েছে ভারতের পাঁচ লাখ সৈনিক। প্রতি চারজন বেসামরিক নাগরিকের বিপরীতে একজন সৈন্য! পৃথিবীর কুখ্যাত আবু গারিব কারাগারের মতোই এখানকার আর্মি ক্যাম্প ও টর্চার কেন্দ্রগুলোই কাশ্মীরিদের জন্য ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্রের বার্তাবাহক।’ ২০১৩ সালের পর আরও ৫ বছর পেরিয়ে গেছে। কাশ্মীর সংকটের সমাধানে সেখানে সেনা-সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়েছে। দমন-পীড়নের পথেই হেঁটেছে ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকার। এর সর্বশেষ সংযোজন হিসেবে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নিয়ে তাকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রূপান্তর করেছে মোদি সরকার। নতুন এ রাজনৈতিক পরিস্থিতির উত্থানে থমকে গেছে কাশ্মীরিদের জীবন। স্বায়ত্তশাসন হারিয়ে ভারতীয় সার্বভৌম রাষ্ট্রের আওতায় তাদের জীবনের অধিকার আগের থেকেও বেশি করে আটকে পড়েছে রাষ্ট্রীয় সেনা/নিরাপত্তা বাহিনীর সন্দেহের কারাগারে। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১২ আগস্ট (সোমবার) কোরবানির ঈদ উদযাপনকে সামনে রেখে উপত্যকায় আরও বেশি করে সেনা মোতায়েন করবে ভারত সরকার। তবুও থামছে না বিক্ষোভ। শুক্রবার শ্রীনগরে কমপক্ষে ১০ হাজার বিক্ষোভকারীকে ঠেকাতে কাঁদানে গ্যাস ও ছররা গুলি ছুড়েছে পুলিশ।

১৯৪৭ সালে ভারতের অংশ হওয়ার পর থেকেই সংবিধানের ৩৭০ ধারার অধীনে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের জন্য বরাদ্দ ছিল সংবিধানসম্মত ‘বিশেষ মর্যাদা’। সোমবার (৫ আগস্ট) সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে ভারত সরকার কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেয়ার পর থেকে নতুন করে নজিরবিহীন ধরপাকড় চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। বন্ধ রাখা হয়েছে ইন্টারনেট ও মুঠোফোন সংযোগ। চলাফেরায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। আটক রাখা হয়েছে কাশ্মীরি নেতাদের। ইন্ডিয়া টুডে’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাশ্মীর উপত্যকায় যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন করে রেখেছে ভারতীয় বাহিনী। ৩৭০ ধারা বাতিলের ১০ দিন আগেই তারা ড্রোন, মানবসম্পদ ও অন্য সরঞ্জামাদি দিয়ে নিজেদের সমৃদ্ধ করে নিয়েছে।