menu

যুক্তরাষ্টের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উত্তর কোরিয়ার

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • ঢাকা , বুধবার, ১৫ মে ২০১৯

যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক উত্তর কোরিয়ার একটি কার্গো জাহাজ আটকের কঠোর সমালোচনা করেছে পিয়ংইয়ং। একই সঙ্গে এ ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছে দেশটি। গত মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করা হয়। এদিন, কার্গো জাহাজ আটকের মাধ্য দিয়ে ট্রাম্প-কিম বৈঠকের উদ্দেশ্য লঙ্ঘন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। তাই বিলম্ব না করে যক্তরাষ্ট্রকে এটি ফিরিয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে পিয়ংইয়ং। রয়টার্স।

উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, জাহাজটি আটকে রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের যে প্রস্তাবনার কথা উল্লেখ করেছে সেই প্রস্তাবনা প্রত্যাখ্যান করছে পিয়ংইয়ং। কেননা, এটি সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। পিয়ংইয়ং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, জাহাজ আটক করে যুক্তরাষ্ট্র বেআইনি ও ভয়ানক কাজ করেছে। ৯ মে উত্তর কোরীয় কার্গো জাহাজটি আটক করে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, জাহাজটি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেছিল।

গত ফেব্রুয়ারিতে ভিয়েতনামে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বৈঠক কোন চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর ক্রমেই অধৈর্য হয়ে ওঠে পিয়ংইয়ং। কিম বাজে চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছেন বলে অভিহিত করে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। গত মাসে কৌশলগত নিয়ন্ত্রিত অস্ত্র পরীক্ষার কথা স্বীকার করে পিয়ংইয়ং। গত ৪ মে দক্ষিণ কোরিয়ার তরফে জানানো হয়, উত্তর কোরিয়া বেশ কয়েকটি স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। তার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো দুটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কথা জানাল তারা। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সঙ্গে এই জাহাজ আটক ঘটনার কোন যোগসূত্র নেই। মার্কিন বিচার বিভাগ জানায়, ওই জাহাজটিতে কয়লা পরিবহন করা হতো, যা উত্তর কোরিয়ার প্রধান রফতানি পণ্য।

দেশটির কয়লা রফতানির ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ওয়াইজ অনেস্ট নামের ওই জাহাজটিকে ২০১৮ সালের এপ্রিলে প্রথম ইন্দোনেশিয়ায় আটক করা হয়। সে বছর জুলাই মাসে সেটি জব্দ করার আবেদন করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ইন্দোনেশিয়া জাহাজটিকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয়। এখন সেটি যুক্তরাষ্ট্রের পথে রয়েছে। মার্কিন কৌঁসুলি জেফরি এস বের্ম্যান বলছেন, আমাদের অফিস জানতে পেরেছে যে, জাহাজের নিবন্ধন গোপন করে উত্তর কোরিয়া উন্নতমানের কয়লা বিদেশি ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছে। তারা এর মাধ্যমে শুধু নিষেধাজ্ঞাই লঙ্ঘন করেনি, বরং এ জাহাজের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ায় ভারি যন্ত্রপাতি আমদানি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে বারবার নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।