menu

যুক্তরাজ্যের জন্য এর চেয়ে ভালো ব্রেক্সিট চুক্তি নয়

জার্মানমন্ত্রী রথ

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০১৯
image

ব্রেক্সিট নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে করা খসড়া চুক্তি পার্লামেন্ট বাতিল করে দেয়ায় ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। এদিকে নতুন নেতার সঙ্গে কোন দরকষাকষির সুযোগ নেই বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে ইইউ। মঙ্গলবার জার্মানির ইউরোপবিষয়ক মন্ত্রী মাইকেল রথ বলেছেন, যুক্তরাজ্যের জন্য এর চেয়ে (খসড়া চুক্তি) ভালো ব্রেক্সিট চুক্তি আর হতে পারে না। দেশটির সঙ্গে ব্রেক্সিট নিয়ে নতুন করে চুক্তি করতে ইইউয়ের সদস্য দেশগুলো প্রস্তুত নয়। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম রয়টার্স।

২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত এক গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের আনুষ্ঠানিকভাবে বের হয়ে আসা প্রক্রিয়া ব্রেক্সিটের পক্ষে রায় আসার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন থেরেসা। গত ৩ বছর ব্রেক্সিট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। চলতি বছরের (২০১৯ সাল) ২৯ মার্চ রাত ১১টায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ ত্যাগের কথা ছিল যুক্তরাজ্যের। ব্রেক্সিট পরবর্তীকালে ইইউ’র সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্কের শর্ত নির্দিষ্ট করে তৈরি হয় ব্রেক্সিট চুক্তি। এ চুক্তি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস করানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও মে তিন দফায় তা হাউজ অব কমন্সে পাস করাতে ব্যর্থ হন। তবে ইইউ নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ব্রেক্সিট বিলম্বিত করতে সমর্থ হন তিনি। এর জেরে গত ৭ জুন পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। তবে উত্তরসূরি খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী পদে বহাল থাকছেন মে। যিনি তার স্থলাভিষিক্ত হবেন, তাকেও নতুন চুক্তির পথেই হাঁটতে হবে। এর জেরে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলা উত্তেজনার মধ্যে জার্মানির ইউরোপবিষয়ক মন্ত্রী মাইকেল রথ বলেন, পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী যিনিই হন না কেন, বেক্সিট চুক্তি নিয়ে পুনরায় আলোচনা করতে ইউরোপ প্রস্তুত নয়। রয়টার্সকে তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এর সদস্য দেশগুলোকে ব্ল্যাকমেইল করা যাবে না। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জুলাইয়ের শেষদিকে যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির নতুন নেতা নির্বাচন করা হতে পারে। নবনির্বাচিত নেতাই পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসহ ১০ কনজারভেটিভ এমপিকে সম্ভাব্য তালিকায় রাখা হয়েছে। তবে ব্রেক্সিট কার্যকর করার জন্য তার হাতে মাত্র তিন মাস সময় থাকবে। কারণ ৩১ অক্টোবর যুক্তরাজ্য ইইউ ত্যাগ করতে চলেছে। নতুন শীর্ষ নেতা এ মেয়াদ আরও বাড়ানোর আবেদন করবেন কিনা বা করলেও ইইউ তাতে সম্মতি জানাবে কিনা, তাও স্পষ্ট নয়। যুক্তরাজ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় নামা টোরি দলের একটা বড় অংশ নির্ধারিত তারিখেই ব্রেক্সিট কার্যকর করার পক্ষে। তবে তারা কীভাবে এত কম সময়ের মধ্যে এমন দুরূহ কাজ করবেন, সে বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যাচ্ছে না। তবে কয়েকজন প্রার্থী এ বিষয়ে ‘অবাস্তব’ প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলেছেন বলেও অভিযোগ উঠছে।

প্রসঙ্গত, ব্রেক্সিট ইস্যুতে নিজ দলের পার্লামেন্ট সদস্যদের পাশাপাশি বিরোধী দলের সদস্যদের সম্মত করানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখলেও শেষ পর্যন্ত তাতে ব্যর্থ হন থেরেসা।

এমন পরিস্থিতিতে মে মাসের শেষের দিকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় ৭ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ান মে। যুক্তরাজ্যে নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী পদে বহাল থাকলেও ব্রেক্সিট প্রশ্নে মের কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। গত মে মাসে দেয়া পদত্যাগের ঘোষণায় তিনি বলেন, তিনি না পারলেও তার উত্তরসূরি হয়তো পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট ইস্যুতে সমঝোতা সৃষ্টি করতে পারবেন। মে বলেন, ‘এ ধরনের সমঝোতা শুধু তখনই সম্ভব যখন বিতর্করত সব পক্ষ আপস করতে সম্মত হবে।’