menu

ভালোবাসায় স্মরণ ম্যান্ডেলাকে

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮
image

বর্ণবাদবিরোধী লড়াইয়ের অবিসংবাদিত নেতা ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী ছিল গতকাল। এদিন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে তার নিজ দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা ও বিশ্ববাসী। গত ৩ বছর আগে (২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর) এই দিনে জোহানেসবার্গের নিজ বাড়িতে ৯৫ বছর বয়সে থেমে যায় আজীবন সংগ্রামী এ মানুষটির জীবন।

১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই দক্ষিণ আফ্রিকার উমতাতু প্রদেশের এমভাজো গ্রামে জন্ম ম্যান্ডেলার। দক্ষিণ আফ্রিকানদের কাছে তিনি মাদিবা নামে বেশি পরিচিত। মাদিবা আসলে তার গোত্রের নাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময়ই আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে ১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন যুবলীগের। পরবর্তীতে ১৯৪৮ সালে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের নেতৃত্বের সামনের সারিতে আসেন নেলসন ম্যান্ডেলা। ১৯৬২ সালে অন্তর্ঘাতসহ নানা অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করে শ্বেতাঙ্গ সরকার। যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয় তার। বোরেন দ্বীপের কারাগারে ২৭ বছর কাটিয়ে ১৯৯০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পান নির্ভীক এ নেতা। ১৯৯১ থেকে ’৯৭ সাল পর্যন্ত (৭ বছর) ছিলেন আফ্রিকার ন্যাশনাল কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট। ১৯৯৪ সালে তার নেতৃত্বে নির্বাচনে জয়লাভ করে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস। এর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ম্যান্ডেলা।

তারপরের ইতিহাস আরও উজ্জ্বল। সারা জীবন যাদের হাতে নির্যাতিত হয়েছেন, যাদের বর্ণবাদী আক্রমণে রক্তাক্ত হয়েছে দেশ, সেই বর্ণবাদী আফ্রিকান ন্যাশনাল পার্টির এফডব্লিউডি ক্লার্কদের নিয়ে গঠন করেন জাতীয় ঐক্যের সরকার। এ ঐক্য ও সংহতি জোরালো করতে গঠন করেন ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন। ম্যান্ডেলা তার সারা জীবনে পেয়েছেন প্রচুর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার। ১৯৯০ সালে ভারত সরকার তাকে ‘ভারতরত্ন’ উপাধিতে ভূষিত করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৩ সালে পান শান্তিতে নোবেল। ১৯৯৯ সালে সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও সবচেয়ে সাহসী এ নেতা গঠন করেন নেলসন ম্যান্ডেলা ফাউন্ডেশন।