menu

ডেমোক্র্যাটদের ঘুরে দাঁড়ানোয় কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ট্রাম্প

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • ঢাকা , শুক্রবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৮
image

মার্কিন কংগ্রেসের ২২তম মধ্যবর্তী নির্বাচনকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য ‘গণভোট’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। যদিও গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ছিলেন না। তবে কেউ কেউ এবারের এ নির্বাচনকে মার্কিন রাজনীতির চরিত্র নির্ধারক হিসেবেও আখ্যায়িত করেন। নির্বাচনের অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে, কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে নিয়ন্ত্রণ অক্ষুণœ রাখলেও নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে রিপাবলিকানরা। এতে করে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের একক আধিপত্যের (নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষে) অবসান ঘটেছে। নিম্নকক্ষে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোয় আগামী দুই বছর দেশ পরিচালনায় বেশ কিছু কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে ট্রাম্পকে। কারণ বিজয় নিশ্চিত করার কিছুক্ষণ পরই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেয় ডেমোক্র্যাটরা। এ সময় তারা প্রেসিডেন্টের ব্যবসায়িক বিষয়াবলী (বিশেষ করে তার ট্যাক্স রিটার্ন ) খতিয়ে দেখার কথা জানান।

মার্কিন আইন পরিষদ কংগ্রেসের উচ্চ কক্ষ সিনেট এখন রিপাবলিকানদের দখলে আর নিম্ন কক্ষের (হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভস) পুরো নিয়ন্ত্রণ এখন ডেমোক্র্যাটদের। যদিও সিনেট রিপাবলিকানদের দখলে থাকায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে কোন ইস্যু সহজেই কংগ্রেসে উত্থাপন করতে পারবেন। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, গত মঙ্গলবারের নির্বাচন পরবর্তী এ ফলাফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিছুটা চাপে পড়েছেন। সিনেট ও হাউসে ক্ষমতাসীন ও বিরোধীদের এ মুখোমুখি অবস্থান আগামী ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দিচ্ছে। সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নির্বাচন ফলাফলে মূলত রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দূরত্বের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অভিজাত শ্রেণীর সঙ্গে বাকিদের পার্থক্য রয়েছে। বেশিরভাগ রক্ষণশীল শ্বেতাঙ্গের কাছেই ট্রাম্প খুবই জনপ্রিয়। তবে নির্বাচনের ফলাফল রিপাবলিকানদের জন্য সাফল্য ও ব্যর্থতার-এ দুইয়ের হলেও ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনে সাফল্যই উদযাপন করতে চান। এক টুইটবার্তায় তিনি বলেন, ‘আজকের রাতে আমরা দারুণ সাফল্য পেয়েছি। সবাইকে ধন্যবাদ।’ তবে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিনিধি পরিষদ ট্রাম্পের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। এখন যেকোন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে ডেমোক্র্যাটিক কমিটির প্রধানদের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে। তাদের বিরোধিতার মুখেও পড়তে হতে পারে তাকে। রিপাবলিকানদের কাছ থেকে এমন বাধা কখনোই পাননি ট্রাম্প। ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদের নেতা ন্যান্সি পেলোসি এর আগে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় আবারও ওই দায়িত্বে ফিরবেন তিনি। ডেমোক্র্যাট এ নেতা ইতোমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, সাংবিধানিক ক্ষমতা ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি বলেন, আজকের ফল ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের চেয়েও বড় কিছু। এটা সাংবিধানিক ক্ষমতা ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার রায়।

ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের সময় প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। তার শাসনামলে নিম্নকক্ষে অভিবাসন আইন, ‘ওবামা কেয়ার’ নামের বহুল পিরিচিত স্বাস্থ্য বিল প্রত্যাহার ও সামাজিক কর্মসূচি ব্যয় কমানোর মতো রক্ষণশীল প্রস্তাব এ পরিষদে পাস হয়েছে। যদিও এসব প্রস্তাবের অনেকগুলোই সিনেটে বাতিল হয়েছে। কিন্তু এখন প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ চলে আসায় তারা নিজেদের কর্মসূচি বিষয়ক বিল উত্থাপন করতে পারবে। এদিকে সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ডেমোক্র্যাটদের সংস্কার তালিকায় প্রথমেই সরকারের নৈতিক ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগ থাকবে। এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন ন্যান্সি পেলোসি। এখন ট্রাম্পকে কোন আইন পাস করাতে হলে দলীয় বৃত্ত অতিক্রম করতে হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে তার সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ গত কয়েক মাস ধরে তিনি ডেমোক্র্যাটদের বিরোধিতা করতে গিয়ে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন। ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো ডেমোক্র্যাটরা এখন ট্রাম্প প্রশাসনকে নজরদারিতে রাখার উদ্যোগ নিতে পারবে। এখন হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন ডেমোক্র্যাট অ্যাডাম স্কিফ। এ কমিটিই ২০১৬ সালে মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। স্কিফও ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন, ট্রাম্পের বৈদেশিক অর্থ লেনদেনের বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করবেন তিনি। এমনকি ট্রাম্পের আয়কর প্রদানের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা ও প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প প্রশাসনের আরও কয়েকজন কর্মকর্তাও নজরদারির আওতায় আসতে পারেন। হোমল্যা- সেক্রেটারি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) রায়ান জিংকে এ তালিকার শীর্ষে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় ট্রাম্পকে অভিশংসিত করার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এবার নিম্নকক্ষে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব পাস করানোও সহজ হবে নীল শিবিরের জন্য (ডেমোক্র্যাট পার্টির দলীয় রং)। বিশেষ কৌসুলি রবার্ট মুলার গত ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য রুশ হস্তক্ষেপ নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলে এবং তাতে ট্রাম্পের যোগসাজশের বিষয়টি প্রমাণিত হলে অভিশংসনের প্রস্তাব নিশ্চিতভাবেই আনবেন বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

নিম্নকক্ষে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় চ্যালেঞ্জ জোরালো হলেও সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখায় তা ট্রাম্পের জন্য স্বস্তিদায়ক হবে। তবে প্রতিনিধি পরিষদের বিচার বিভাগীয় কমিটির প্রধান হতে যাওয়া ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি জ্যারর্ড ন্যাডলার বলেন, ‘এবার ট্রাম্প বুঝতে পারবেন যে তিনি আইনের ঊর্ধ্বে নন।’