menu

গাজায় ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞ তদন্ত

জাতিসংঘের প্রস্তাব আটকে দিল যুক্তরাষ্ট্র

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • ঢাকা , বুধবার, ১৬ মে ২০১৮

http://print.thesangbad.net/images/2018/May/15May18/news/Untitled-8.jpg

অধীকৃত গাজা সীমান্তে প্যালেস্টাইনিদের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভয়াবহ সহিসংতা ও হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় জাতিসংঘের তদন্তের প্রস্তাব জানিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতি আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কূটনীতিকদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধনের দিন প্যালেস্টাইনিদের চলমান ভূমি দিবসের বিক্ষোভে গত সোমবার ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে কমপক্ষে ৫৮ জন নিহত ও প্রায় আড়াই হাজার (২ হাজার ৪০০) প্যালেস্টাইনি আহত হন। ২০১৪ সালে গাজায় ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর একদিনে এত সংখ্যক প্যালেস্টাইনি নিহতের ঘটনা এটাই প্রথম। এদিকে নিরাপত্তা পরিষদের খসড়া বিবৃতিটি সংবাদ মাধ্যম এএফপি হাতে পেয়েছে। ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ পালনকারী প্যালেস্টাইনি নাগরিকদের হত্যাকান্ডে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করছে নিরাপত্তা কাউন্সিল। আটকে দেয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, ‘জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার স্বার্থে এ ঘটনার একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছে নিরাপত্তা কাউন্সিল।’ এর পাশাপাশি এতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ধৈর্য ধরার আহ্বানও জানানো হয়। তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরকে ইঙ্গিত করে নিরাপত্তা পরিষদের খসড়া ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, পবিত্র শহর জেরুজালেমের অবস্থান ও ভৌগলিক পরিবর্তনের আইনগত কোন প্রভাব নেই।

http://print.thesangbad.net/images/2018/May/15May18/news/Untitled-9.jpg

গাজায় ৩ দিনের শোক : এদিকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থাপনকে কেন্দ্র করে এদিন আরও জোরালো হয় ভূমি দিবসের চলমান বিক্ষোভ কর্মসূচি। এর ফলে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে প্যালেস্টাইনি নিহতের সংখ্যা আরও বেড়েছে। সুদূর লক্ষ্যভেদী অত্যাধুনিক ইসরায়েলি স্নাইপারে (বিশেষ ধারার বন্দুক, যা দিয়ে অনেক দূরের লক্ষ্যবস্তুকে নির্ভুল নিশানা লাভ যায়) কমপক্ষে ৫৮ জন প্যালেস্টাইনিকে হত্যা করা হয়েছে। জাতিগত মুক্তির লড়াইয়ে এ হতাহতদের স্মরণে গতকাল থেকে তিন দিনের শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছে প্যালেস্টাইনি কর্তৃপক্ষ। ১৯৪৮ সালের ১৫ মে দখলিকৃত প্যালেস্টাইনি ভূমিতে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৭ সালে ইসরায়েল-আরব যুদ্ধের মধ্য দিয়ে জেরুজালেম দখল করে নেয় তারা। এ বছরেরই ৩০ মার্চ অবৈধ বসতি নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ছয় প্যালেস্টাইনিকে হত্যা করে ইসরায়েল। পরবর্তী বছর থেকে ৩০ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত-এ ছয় সপ্তাহকে ভূমি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে প্যালেস্টাইনিরা। গ্রেট রিটার্ন মার্চ খ্যাত এবারের কর্মসূচিতে গত সোমবারের আগ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ৫৪ প্যালেস্টাইনি। এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে জোরালো হওয়া বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন ৫৮ জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এদিনের কর্মসূচিতে নিহতদের মধ্যে ছয় শিশু এবং একজন প্যারামেডিকও রয়েছেন। বিক্ষোভে ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার গুলি বর্ষণে সাম্প্রতিক ইতিহাসের এ ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়। প্যালেস্টাইনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল কিদরা জানিয়েছেন, এদিনের কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে আহত হয়েছেন ২৪০০ প্যালেস্টাইনি। অপরদিকে বিক্ষোভরত প্যালেস্টাইনিদের ওপর ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ম্যাসাকার আখ্যা দিয়েছেন প্যালেস্টাইনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। হতাহতদের স্মরণে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন তিনি। ভূমি দিবসের কর্মসূচির শেষ দিনটিকে প্যালেস্টাইনিরা নাকবা (বিপর্যয় দিবস) হিসেবে পালন করে থাকে। গতকাল ছিল এ দিবস।

১৯৬৭ সালে জেরুজালেম দখল করার পর থেকে ইসরায়েল এ এলাকাকে তাদের রাজধানী হিসেবে দাবি করে আসলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এর বৈধতা দেয়নি। একইসঙ্গে পূর্ব জেরুজালেমকে প্যালেস্টাইনের ভবিষ্যৎ রাজধানী হিসেবে দাবি করে আসছেন প্যালেস্টাইনি নেতারা। গত বছরের ৬ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের ঘোষণা দিয়ে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের একক রাজধানীর স্বীকৃতি দেন। ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে প্যালেস্টাইনসহ বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় ওঠে। এরপর জেরুজালেম বিষয়ে যেকোন সিদ্ধান্ত অকার্যকর ঘোষণা করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রস্তাব পাস হয়। এএফপি।