menu

জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে ভারত-পাকিস্তান বাকযুদ্ধ

ইসলামাবাদকে সমর্থন অর্ধশতাধিক রাষ্ট্রের

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯
image

কাশ্মীর নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার পাকিস্তানের নেই উল্লেখ করে ওই আঞ্চলে দেশটির গণহত্যা’র আশঙ্কা আপত্তিকর ও ভিত্তিহীন বলে দাবি দিল্লির

সম্প্রতি জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের এক বৈঠকে কাশ্মীরে ব্যাপক ধরপাকড়, অঞ্চলটির নেতাদের গ্রেফতার ও তীব্র বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনায় তদন্তের দাবি জানিয়েছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে সেখানে ‘গণহত্যা’র আশঙ্কা করেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি। তবে ইসলামাবাদের এমন বক্তব্যকে ‘আপত্তিকর’ ও ‘ভিত্তিহীন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে দিল্লি। মানবাধিকার কাউন্সিলে নিযুক্ত ভারতীয় কূটনীতিক বিজয় ঠাকুর সিং দাবি করেন, কাশ্মীর ইস্যু একান্তই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ নিয়ে কথা বলার কোন অধিকার পাকিস্তানের নেই। একইসঙ্গে কাশ্মীর ইস্যুতে জাতিসংঘে পাকিস্তানের দাবিকে ‘মনগড়া গল্প’ বলে আখ্যায়িত করেছেন বিজয়। গত বুধবার জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের বৈঠকে অনুষ্ঠিত হয়। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি।

গত বুধবার স্থানীয় সময় সকালে জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের বৈঠকে কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ভবিষ্যতে সেখানে ‘গণহত্যা’র আশঙ্কার কথা জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি। তিনি আরও বলেন, কাশ্মীরে প্রতিটি শহর, পর্বত, সমতল কিংবা উপত্যকার আকাশে-বাতাসে আজ হাহাকার আর বিষাদেরই প্রতিধ্বনি। সেখানকার পরিস্থিতি রুয়ান্ডা, স্রেব্রেনিৎসা (গণহত্যা), রোহিঙ্গা, কিংবা গুজরাটের সেই ভয়াবহ দাঙ্গার মত ঘটনার আশঙ্কাই জাগিয়ে তোলে।’ এদিন, ইসলামাবাদের এ বক্তব্যের কড়া জবাব দেয় ভারত। জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতীয় কূটনীতিক বিজয় ঠাকুর সিং ওই দাবি ‘মিথ্যা’ ও ‘ভিত্তিহীন’ উল্লেখ করে বলেন, ‘পাকিস্তান আমাদের সিদ্ধান্তে (কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল) বুঝতে পেরেছে যে, তাদের সীমান্ত সন্ত্রাসবাদের অব্যাহত পৃষ্ঠপোষকতায় বাধা সৃষ্টি করে তাদের পায়ের তলার মাটি সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বৈষম্য ঘোচাতে এটি একটি সংসদীয় সিদ্ধান্ত।’ এ সময় পাকিস্তানের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিশ্ব জানে এ মনগড়া আখ্যান তৈরি করছে বিশ্ব সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্রস্থল, যেখানে জঙ্গি নেতারা বছরের পর বছর ধরে আশ্রয় পায়। এমন এক দেশ যারা আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ পরিচালনা করে কূটনীতির অংশ হিসেবে।’ পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর সমালোচনা বন্ধ করতে সরকারি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সেখানকার রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার ও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। তবে সেখানে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াগুলো শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিধিনিষেধ শিথিল করা হচ্ছে। ভারতের কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিল ও অঞ্চলটির মানুষদের ওপর নিপীড়নের প্রতিবাদে জাতিসংঘে বৈঠকের আবেদন করে পাকিস্তান। কিন্তু এতে সাড়া না মেলায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি চিঠি দেন নিরাপত্তা পরিষদে। পরে চীন নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের জন্য আহ্বান জানালে তা অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেখানে আনুষ্ঠানিক বিবৃতির অস্বীকৃতি জানায় পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলো। পরে তারা জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে কাশ্মীরিদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ জানায়। গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। লাদাখ ও কাশ্মীরকে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে বিল পাস হয়। এ পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মীরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত সেনা। জারি করা হয়েছিল বিধিনিষেধ। গ্রেফতার করা হয়েছে সেখানকার শত শত নেতাকর্মীকে। কাশ্মীরের উন্নয়নের জন্য এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এবং এটা দেশটির ‘সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়’ ভারতের পক্ষ থেকে এমন দাবি করা হলেও পাকিস্তান বলছে, সেখানে কাশ্মীরিদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।

‘ইসলামাবাদকে সমর্থন

অর্ধশতাধিক রাষ্ট্রের’

এদিকে, কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে চীন ও তুরস্কসহ অর্ধশতাধিক রাষ্ট্র। গত মঙ্গলবার দেশগুলোর এক যৌথ বিবৃতিতে কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে ভারতের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। গত বুধবার এক টুইটার বার্তায় এমনটাই জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি। সংবাদ মাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশি অভিযোগ করার পর এ বিবৃতি দেয় দেশগুলো। এক টুইটার বার্তায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কাশ্মীর ইস্যুতে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে পাকিস্তান আজ ৫০টিরও বেশি দেশের পক্ষে ঐতিহাসিক যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। এ ঘটনাকে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে আখ্যায়িত করেন কুরেশি। তিনি বলেন, যৌথ বিবৃতিতে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে ভারতে প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ এবং ওআইসি-র অর্ধশতাধিক রাষ্ট্র।