menu

কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে বাইডেনের নাম ঘোষণা করল মার্কিন বাহিনী

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২১
image

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে মার্কিন বাহিনীর ৪৬তম কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের এক বার্তায় তার নাম ঘোষণা করা হয়। এতে বলা হয়েছে, আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে সংবিধান অনুযায়ী শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তার ওপর এ দায়িত্ব ন্যস্ত হবে।

বার্তায় মার্কিন পার্লামেন্ট ভবন ইউএস ক্যাপিটলে উগ্র ট্রাম্প সমর্থকদের তাণ্ডবকে পার্লামেন্ট ও দেশের সংবিধানের ওপর প্রত্যক্ষ আঘাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়। জয়েন্ট চিফস চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক মিলি এবং অন্যান্য জয়েন্ট চিফরা এ বার্তায় স্বাক্ষর করেন। তারা বলেন, ক্যাপিটল ভবনে সেদিন যা ঘটেছে তা আইনের শাসনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

সামরিক বাহিনীর এ বার্তায় বলা হয়, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য হিসেবে আমাদের জাতির মূল্যবোধ এবং আদর্শকে ধারণ করতে হবে। আমরা আমাদের সংবিধানকে সমর্থন ও এর সুরক্ষা নিশ্চিত করি। সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় বিঘœ সৃষ্টি করার যে কোনও তৎপরতা যে আমাদের ঐতিহ্য, মূল্যবোধ ও অঙ্গীকারের পরিপন্থী তাই-ই শুধু নয়, এটি আইনেরও পরিপন্থী। বাক-স্বাধীনতা ও সমাবেশের অধিকার কাউকে সহিংসতা, রাষ্ট্রদ্রোহ ও বিদ্রোহের অধিকার দেয় না।

ইউএস ক্যাপিটলে ট্রাম্প সমর্থকদের তাণ্ডবের এক সপ্তাহের মাথায় দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে এমন বার্তা দেয়া হলো। সেদিনের তাণ্ডবে পাঁচজন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হন। ওই ঘটনায় এখন অভিশংসনের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। এ নিয়ে দেশটির পার্লামেন্টে ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে। তবে মেয়াদের শেষ সময়ে তাকে অভিশংসনের জন্য ডেমোক্র্যাট শিবিরের প্রচেষ্টাকে পুরোপুরি হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তাকে অভিশংসনের প্রচেষ্টাকে ‘রাজনীতির ইতিহাসে, ভিন্নমতাবলম্বীদের হয়রানি করার সবচেয়ে বাজে প্রচেষ্টা?’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ২০১৯ সালের অভিশংসন প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি অব্যাহতভাবেই চলে আসছে।’

ট্রাম্প বলেন, বাইডেন যখন দায়িত্ব নিচ্ছেন তখন তিনি আর কোনও সহিংসতা চান না। তবে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদের অভিশংসন প্রস্তাব তাকে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ করেছে।

প্রতিনিধি পরিষদের রুলস কমিটির চেয়ারপারসন জিম ম্যাকগর্ভেন বলেছেন, প্রতিনিধি পরিষদের ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটি পাস হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

অভিশংসন প্রস্তাবে ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি দেয়ার মধ্য দিয়ে উচ্চপর্যায়ের অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। আইনপ্রণেতাদের যুক্তি, ট্রাম্প যেভাবে নির্বাচনকে খর্ব করেছেন এবং ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে হামলার দিন সমর্থকদের যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন তার মধ্য দিয়ে ‘তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার দায়িত্বের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছেন।

এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। ট্রাম্পকে সরিয়ে দিতে সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য ডেমোক্র্যাট শিবিরের চাপ প্রত্যাখ্যানেরও ঘোষণা দেন তিনি। ভয়েস অফ আমেরিকা।