menu

এখনও পাকিস্তান ছাড়তে পারেননি আসিয়া বিবি

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • ঢাকা , সোমবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৯
image

আসিয়া বিবি

চূড়ান্ত আইনি লড়াইয়ে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ থেকে মুক্তি মিললেও এখনও পাকিস্তান ছাড়তে পারেননি দেশটির খ্রিস্টান নারী আসিয়া বিবি। রাজধানী ইসলামাবাদের কাছের একটি গোপন জায়গা থেকে তাকে দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী করাচির আরেকটি বাড়িতে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। গত শুক্রবার আসিয়ার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে পরদিন তার এক বন্ধু জানিয়েছেন, কানাডায় মেয়ের কাছে পৌঁছাতে না পারায় আসিয়া ভীত ও হতাশ হয়ে পড়েছেন। কখন পাকিস্তান ছাড়তে পারবেন তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তিনি। সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

২০০৯ সালে খামারে কাজ করার সময় মুসলিম সহকর্মীদের গ্লাসে পানি খাওয়া নিয়ে বিবাদের জেরে আসিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তোলা হয়। বরাবরই আসিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসলেও ২০১০ সালে পাকিস্তানের ধর্ম অবমাননা সংক্রান্ত আইনে দেশটির প্রথম নারী হিসেবে আসিয়াকে মৃত্যুদ- দেয়া হয়। এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তুমুল সমালোচনার মুখে গত বছরের ৩১ অক্টোবর আসিয়া বিবিকে খালাস দেয় দেশটির উচ্চ আদালত। পাকিস্তানের কট্টর ইসলামপন্থিদের বিক্ষোভের মুখে তাকে মুক্তি দিয়ে একটি গোপন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। কট্টরপন্থিরা তার খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করলেও গত মাসে চূড়ান্ত আইনি লড়াইয়েও জিতে যান আসিয়া।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আসিয়া পাকিস্তান ত্যাগ করতে না পারলেও গত মাসে কানাডা পৌঁছেছেন তার মেয়েরা। এছাড়াও আসিয়াকে সহায়তা করে মৃত্যুর হুমকি পেয়ে শুক্রবার পাকিস্তান ছেড়েছেন তার বন্ধু আমান উল্লাহ। ইউরোপীয় কূটনীতিকদের সঙ্গে আসিয়ার যোগাযোগে মধ্যস্ততাকারীর ভূমিকা পালন করেন তিনি। অক্টোবরে মুক্তির পর তার মাধ্যমেই আসিয়ার সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করতে পেরেছিল মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। গত শনিবার আসিয়ার বন্ধু আমান সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরাকে বলেন, ‘কখন তিনি (আসিয়া) দেশ ছাড়তে পারবেন সে বিষয়ে কোনও নির্দেশনা পাননি... কেন তিনি পাকিস্তান ছাড়তে পারছেন না তাও তাকে বলা হচ্ছে না।’ আসিয়ার খালাসের রায়ের পরপরই পাকিস্তানে বিক্ষোভ শুরু করে দেশটির কট্টর ইসলামপন্থি দল তেহরিক-ই-লাব্বাইক (টিএলপি)। তারা করাচি ও লাহোরের গুরুত্বপূর্ণ অনেকগুলো রাস্তা অবরোধ করে রাখে। রাজধানী ইসলামাবাদেও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আসিয়াকে গোপন স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়। তাকে পাকিস্তান ছাড়তে না দেয়ার বিষয়ে টিএলপির সঙ্গে এক চুক্তি করতে বাধ্য হয় পাকিস্তান সরকার।

আমান উল্লাহ আরও জানান, আসিয়া তাকে জানিয়েছেন বাড়ির একটি ঘরে তাকে এবং তার স্বামীকে রাখা হয়েছে। শুধু খাবার দেয়ার সময়ে দরজা খোলা হয়। শুধু সকাল এবং রাতে টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ পান তিনি। সাধারণত মেয়েদের সঙ্গেই কথা বলে থাকেন তিনি। এ প্রসঙ্গে দেশটির তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী বলেছেন, আসিয়া বিবি তার পরিবারের সঙ্গে আছেন আর তাকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে।