menu

উত্তর প্রদেশের কারাগারে তিনশ’ কাশ্মীরি

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • ঢাকা , বুধবার, ০৯ অক্টোবর ২০১৯
image

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার ও কাশ্মীর ইস্যুতে সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে গতকাল চীনে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি বেইজিংয়ে পৌঁছালে দেশটির সংস্কৃতিমন্ত্রী লু শুগাং ও পাকিস্তানে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও জিং ইমরান খানকে অভ্যর্থনা জানান -এএফপি

ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর সেখানকার প্রায় তিনশ’ বাসিন্দা নিরাপত্তা আইনের অধীনে গ্রেফতার হন। যাদের বেশিরভাগকেই হাজার কিলোমিটার দূরে উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের তালিকায় উজির মকবুল মালিকের মতো ১৯ বছরের নির্মাণ শ্রমিক যেমন আছেন, তেমনি রয়েছেন নাজির আহমেদ রণগার মতো কাশ্মীরের সুপরিচিত আইনজীবীও। জননিরাপত্তা আইনের (পিএসএ) অধীনে গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিনা বিচারে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত আটকে রাখা যায়। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

ভারত সরকার গত ৫ অগাস্ট জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে রাজ্যটি কেন্দ্রশাসিত দুটি আলাদা অঞ্চলে ভাগ করার ঘোষণা দেয়। ঘোষণার আগে ও পরে বিশৃঙ্খলা ও উসকানি প্রতিরোধের নামে কাশ্মীরের বেশিরভাগ নেতাকে গৃহবন্দী করা হয়। এছাড়াও নানা অভিযোগে আরও প্রায় চার হাজার মানুষকে আটক করে পুলিশ। যদিও তাদের ধীরে ধীরে মুক্তি দেয়া শুরু হয়েছে।

কিন্তু পিএসএর অধীনে কাশ্মীর বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক প্রধান নাজির আহমেদের মতো আরও অনেক আইনজীবী, শিক্ষক এবং রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে কী করা হবে তা এখনো অনিশ্চিত। বাড়ি থেকে হাজার কিলোমিটার দূরের কারাগারে আটকে রাখার কারণে বন্দীদের পরিবারের সদস্যরা তাদের সঙ্গে দেখা করতে বা তারা কি অবস্থায় আছেন সে সম্পর্কে কোন তথ্যই পাচ্ছেন না। ভারতীয় কর্মকর্তাদের দাবি, আগস্ট থেকে নয় বরং গত বছর থেকেই কাশ্মীরি বন্দীদের অন্যান্য রাজ্যের কারাগারে সরিয়ে নেয়ার নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল। জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক ছিন্ন করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে আগস্ট থেকে বন্দী সরিয়ে নেয়ার গতি দ্রুত হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন তারা।

বন্দীদের পরিবারের অভিযোগ, তাদের সঙ্গে কোন ধরণের যোগাযোগ ছাড়াই বন্দীদের অন্য রাজ্যে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। অন্ধকারে হাতড়ে বন্দীদের মধ্যে থাকা স্বজনদের সন্ধান পেলেও তাদের সঙ্গে সামান্য যোগাযোগই করতে দেয়া হয়। বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর কারফিউ জারি করে কাশ্মীরের টেলিফোন সেবা, মোবাইল ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। বর্তমানে যোগাযোগ ব্যবস্থায় সামান্য উন্নতি হলেও তা এখনো সাধারণের হাত আসেনি। যে কারণে অনেক ক্ষেত্রে নির্দোষ দাবির প্রমাণপত্র জোগাড় ও উপস্থাপনও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ পরিবারের। জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সঞ্জয় ধর রয়টার্সকে বলেন, কাশ্মীরের প্রধান নগরী শ্রীনগরে দু’জন বিচারককে গত ৫ আগস্ট থেকে পিএসএর অধীনে বন্দী প্রায় তিনশ’ মামলা পরিচালনা করতে হচ্ছে। উত্তর প্রদেশের অন্তত ছয়টি কারাগারে কাশ্মীরি বন্দীদের রাখা হয়েছে বলে জানান ভারতীয় কর্মকর্তারা। মালিকের পরিবার জানায়, তাকে আরো ৮৪ বন্দীর সঙ্গে উত্তর প্রদেশের আগ্রা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ৬৭ বছরের আইনজীবী রণগাকে গত ৯ অগাস্ট গ্রেফতারের পর প্রথমে স্থানীয় একটি থানায় আটকে রাখা হয়। পরে সেখান থেকে তাকে শ্রীনগর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করে পুলিশ। রণগার ছেলে উমর (যিনি নিজেও একজন আইনজীবী) এক সপ্তাহ চেষ্টার পর বাবাকে খুঁজে পান বলে জানান। কিন্তু সেপ্টেম্বরের ৩ তারিখ বাবাকে দেখতে শ্রীনগর কারাগারে গিয়ে উমর জানতে পারেন তিনি সেখানে নেই, তাকে উত্তর প্রদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।